ঢাকা, মঙ্গলবার 22 May 2018, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী দানবীয় শক্তিকে সরাতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অর্থনীতি ও আর্থিকখাতে দুর্নীতি, মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে যদি আমরা এই দানবীয় শক্তিকে সরাতে না পারি তাহলে আমার দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম শংকার মধ্যে পড়ে যাবে। গতকাল সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের ‘পুস্পদাম রেস্টুরেন্টে’ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিশের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনদেও সম্মানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলের শুরুতে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের ও নায়েবের আমীর মাওলানা শফিক উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা  সৈয়দ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, এলডিপি‘র ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, লেবার পার্টির দুই অংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এমদাদুল হক চৌধুরী, শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শেখ মুজিবর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারওয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাংবাদিক মহিউদ্দিন আলমগীর, মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি বাসির জামাল, কবি আবদুল হাই শিকদার, বদরুদ্দোজা বাদল, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক মোজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।
এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, অধ্যাপক মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসীর আলীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার বিচারের নামে যা খুশি তাই করছে। দেখুন কত সংকীর্ণ এরা (সরকার)। মামলাগুলো মিথ্যা। ৩৬টি  মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে তাতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিলো বাসে আগুন দিয়েছেন, গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে ইত্যাদি। এই মামলাগুলো যখন হাইকোর্টে জামিনের জন্য এসেছে সেখানে গিয়ে এটর্নি জেনারেল বাঁধা প্রদান করেছে।
সারা দেশে মাদক অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু হয়েছে। ভালো কথা। আমরা অবশ্যই চাই যে, মাদকমুক্ত হোক, আমরা অবশ্যই চাই যে, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক, এই মাদক নির্মূল করা হোক। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করা হবে।
ক্ষমতাসীন দলের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মাদক অভিযান হচ্ছে ভালো কথা। সবার আগে নিজের ঘরের মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করুন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আপনাদের কক্সবাজারের টেকনাফের এমপি( আবদুর রহমান বদি) তাকে তো জামিন  দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মহানন্দে এই ব্যবসা শুরু করেছেন। একজন দুইজন নয় অসংখ্য, প্রায় প্রত্যেকটি জায়গায় তাদেরকেই আজকে আপনারা(সরকার) ছেড়ে দিয়েছেন যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সম্প্রতি ক্রসফায়ারে হত্যাকান্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ৬টি জেলায় ৬/৭জনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। আজকে গোটা দেশে এই ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার নামে বহু বিরোধী পক্ষকে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে গুম করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, চৌধুরী আলমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৫/৬ বছর পার হয়ে গেছে-এরকম অসংখ্যক মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ইফতারের আগে কারাবন্দী জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং খেলাফত মজলিশের অসুস্থ আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ