ঢাকা, মঙ্গলবার 22 May 2018, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইফতার রসনা বিলাসে ধানমন্ডি অভিজাত এলাকার রেস্তোরাঁ

মুহাম্মদ নূরে আলম : আডানা কাবাব, ডোনার কাবাব, চিকেন রেশমী কাবাব, হায়দ্রাবাদ বিরিয়ানি, চিকেনকারী দিয়ে সাজানো ইফতারের মেন্যু বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে। কিন্তু ইফতারের খাবার দেশী  বিক্রি হচ্ছে বিদেশী নামে বিদেশী দামে ।  ইফতার বিক্রির শত বছরের ঐতিহ্য পুরনো ঢাকায় থাকলেও আয়োজনে পিছিয়ে নেই রাজধানীর অভিজাতখ্যাত ধানমন্ডি এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোও। হাজার বছরের ঐতিহ্য পেছনে ফেলে রসনা বিলাসে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন আয়োজকরা। দ্যা ক্যাফে রিও রেস্তোরাঁ, লা পিজারিয়া ইতালিনু রেস্তোরাঁ, য়িউ মোওমোও রেস্তোরাঁ, চা ওয়ালা রেস্তোরাঁসহ আরও অসংখ্য রেস্তোরাঁ ধানমন্ডি এলাকায় ইফতারের বিশাল আয়োজন এবং অফার নিয়ে এসেছে।
 গতকাল সোমবার রমজানের চতুর্থ দিনে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি ঘুরে দেখা গেছে নানা পদের ইফতারির পসরা নিয়ে বসেছে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো। অভিজাত এলাকার এসব ইফতারির নানা আয়োজন তুলে ধরা হল-ইফতার আয়োজনে নতুনত্ব এনে দিয়েছে ধানমন্ডির চা ওয়ালা রেস্টুরেন্ট। বাহারি পদের ইফতার দিয়ে সাজানো হয়েছে তাদের এবারের ইফতার আয়োজন। প্রায় শতাধিক ধরনের খাবারের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। ১ হাজার ২০০ টাকায় ইফতারসহ নৈশভোজের আয়োজন করেছে এই রেস্টুরেন্ট। এ ছাড়া ৪৯৯, ৫৯৯ ও ৬৯৯ টাকায় ১৭ ও ২১ পদের ইফতারের সমন্বয়ে পার্সেল ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও  ইফতারের আয়োজনে রয়েছে শর্মা, সাসলিক ছাড়াও আরব্য ছোঁয়া। আরবীয়দের পছন্দনীয় ইফতারের ব্যতিক্রম সব আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছে অভিজাত ধানমন্ডি এলাকার অনেক রেস্তোরাঁএ । এসব রেস্তোরাঁই রয়েছে অ্যারাবিয়ান ইফতার সামগ্রী ও অ্যারাবিয়ান ডেসার্ট। সবজি কাকলেট, চিকেন কাকলেট, ফিস পাকোরাসহ এখানে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার মতো রয়েছে হরেক রকমের ইফতারের আয়োজন। চা ওয়ালা রেস্টুরেন্টের কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, বিভিন্ন ধরনের কাবাব ও ডোনার কাবাব এবারের ইফতারে নতুনত্ব যোগ করেছে। সেরা রাধুনী ও গুণগতমান ঠিক রেখে রান্না করা হয় বলে ক্রেতারা এদিকে বেশি ঝুঁকছেন। আগামী দিনে আরো সাড়া পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ধানমন্ডির চা ওয়ালা রেস্তোরাঁ মাশালা ওমলেট ৯০ টাকা, চিজ ওমলেট ১১৫ টাকা, বাটার নান ৫০ টাকা, প্লেই নান ৪০ টাকা, গার্লিঘ নান ৫০ টাকা, চানা পাউরুটি ৪৬ টাকা, ওনিয়ন পাউরুটি ৪০ টাকা, আলু গোবি পাউরুটি ৬০ টাকা, লোচি ৪০ টাকা, চিকেন আফগানি কাবাব ১২৭ টাকা থেকে ২৫৩ টাকা, চিকেন রেশমি কাবাব ১০৪ টাকা থেকে ২০৭ টাকা, চিকেন মালাই কাবাব বোনলেস ১৬০ টাকা থেকে ৩১৬ টাকা, চিকেন ভূনা ১২০ থেকে ২৬৫ টাকা, চিকেন তানদুরি ১৩২ টাকা থেকে ২৬৫ টাকা, বিফ বটি কাবাব ১৩২ টাকা থেকে ২৬৫ টাকা, চিকেন আচারি ৩৯০ টাকা, বাটার চিকেন ৪৪০ টাকা, চিকেন মাশালা জাল ফ্রাই ৩৭০ টাকা, মাটন ভূনা ৬৯০ টাকা, মাটন আচারি ৬৯০ টাকা, মাটন করাই ৬৯০ টাকা, বিফ ভূনা, বিফ আচারি ও বিফ ডোপিয়াজা ৫৭৫ টাকা, আলু মটর পনির, পালং পনির ও ভেজিটেবল পনির ২৭৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ।
অভিজাত এলাকার ইফতারির দোকানগুলোতেও রয়েছে আইটেমের ভিন্নতা। কমন আইটেম বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ঘুগনি, জিলাপির সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে অ্যাবাকাস স্পেশাল প্রনবল, বিফকিমা, বিফজালি কাবাব, চিকেন হালিম, গরু ও খাসির হালিম, স্পাইসি হট আলু, চিকেন উইংস, চিকেন বটি, চিকেন টিক্কা, দইবড়া, খাসির বিরিয়ানি, আলু সমুচা, বিফ সমুচা, চিকেন ড্রাম স্টিক, চাপলি কাবাব, ফালুদা, ডিম চপ, তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি, খিঁচুড়ি, শিক-কাবাব, বটি-কাবাবসহ আরো কয়েক ধরনের ইফতার। কবুতরের কাবাব ও ম্যাঙ্গো স্মোথিসহ রকমারি ইফতারির সমারোহ ঘটেছে ধানমন্ডির লা পিজারিয়া ইতালিনু  রেস্টুরেন্টে। এই  রেস্তোরাঁ ৪টি সেট মিল ৭০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।  রোজদারদের জন্য অভিজাত এই হোটেলটি এবারো ভিন্ন ভিন্ন পদের ইফতার তৈরি করেছে। এ ছাড়া নানা জাতের ডাল, গরুর ও খাসির মাংস দিয়ে স্পেশাল হালিম তৈরি করছে। সারা বছর হালিমের কদর থাকলেও রমজানে এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। ৭০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ইফতারির ফোল কোর্স। এ ছাড়াও ৪৭ পদের ইফতারের পসরা নিয়ে বসেছে রেস্টুরেন্টটি। তরকারি রেস্টুরেন্টের বিক্রেতা জামান জানান, রমজানের শুরুর দিক হওয়ায় বিক্রি আগের চেয়ে একটু কম। কয়েক দিন পর চাহিদা বেড়ে যাবে।
আয়োজনে পিছিয়ে নেই ধানমন্ডির লা পিজারিয়া ইতালিনু  রেস্টুরেন্টও। সেখানে রয়েছে স্পেশাল ইফতারের আয়োজন। চারটি ভিন্ন প্যাকেজে বিক্রি হচ্ছে। ৩০০, ৩২০, ৬০০ ও ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে ফুটপাতের ইফতার আয়োজনে। অভিজাত এলাকা হলেও ধানমন্ডির জিগাতলার  মার্কেট এলাকাজুড়ে ইফতারের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি এলাকায় সারিবদ্ধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে ইফতারির খ-কালীন দোকান। রাস্তার ওপর সামিয়ানা ঝুলিয়ে টেবিল পেতে এসব দোকানিরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে বাহারি রঙ, আর স্বাদের ইফতারির খাবার তৈরি করছেন। বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, জালি কাবাব, হালিম, জিলাপি, সমুচা, ভেজিটেবল পাকোড়া, ভেজিটেবল রোল, ভেজিটেবল চপসহ নানা ধরনের ইফতারির আইটেম।
জিগাতলার এর বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, কম দামের মধ্যে সাধ্যমত ইফতার কেনা যায় বলেন এখান থেকে ইফতার কিনেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ