ঢাকা, মঙ্গলবার 22 May 2018, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসি’র তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি খুলনায়

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে তা তদন্ত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসির) তিন সদস্যের একটি কমিটি গতকাল সোমবার খুলনায় এসেছেন। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্থগিত হওয়া তিনটি ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করবেন। এছাড়া আরো অনেক বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানা গেছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, ‘তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার রওনা দেবে ঢাকা থেকে। আগামী ২২ ও ২৩ মে তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্থগিত হওয়া তিনটি ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করবেন। এ ছাড়া আরো অনেক বিষয়ে তদন্ত হবে। তবে এখুনি তা বলা যাচ্ছে না।’
ইউনুচ আলী বলেন, তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ইসির যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান, উপ-সচিব ফরহাদ হোসেন এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ আলম।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে কেসিসির নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী ইসির যুগ্ম-সচিব মো. আবদুল বাতেন বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সামগ্রিক অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করবেন। কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়েছে তার বিস্তারিত জানবেন।
আবদুল বাতেন আরো বলেন, ‘গণমাধ্যমে কী ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে তার সত্যতা কতটুকু, নির্বাচনে অনিয়মগুলো কারা করেছেন এবং কীভাবে করেছেন এসব কিছুর বিস্তারিত তদন্ত করবেন তাঁরা। এ ছাড়া স্থগিত হয়ে যাওয়া ভোটকেন্দ্র নিয়ে তদন্ত করবে তদন্ত কমিটি।’
এ সব ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত স্থগিত হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোকে তদন্ত কমিটি বেশি প্রধান্য দিবে। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং সেসব বিষয়ে তদন্ত করা হবে পর্যালোচনার করার জন্য। কারা দায়ী বা কীভাবে এসব ঘটল সে সবের তদন্ত করা হবে।’
এসব নিয়ে কথা হয় নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপারে সিল মারা নিয়ে অনিয়ম হয় এবং তা যদি কাউন্সিলরদের ফলাফল পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট হয় তবে আমরা সেগুলো পুনরায় বিবেচনা করার চেষ্টা করব।’
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ইসির একজন যুগ্ম-সচিব বলেন, ‘কেন্দ্রে ফুকে ব্যালটে অন্যায়ভাবে সিল মারা, জালভোট দেয়া, ভোটারদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে যাওয়া, বিএনপি’র এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভোট স্থগিত হয়ে যাওয়াসহ আরো অনেক বিষয়ে তদন্ত করবে ইসির তদন্ত কমিটির প্রতিনিধিদলটি।’
খালিশপুরে নির্বাচন পরবর্তী
সহিংসতায় মামলা পাল্টা মামলা
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর ৭নং ওয়ার্ডে নির্বাচন পরবর্তী সহিংতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা ও তিনটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার ইমরান হাসানকে আসামী করে খালিশপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন (মামলা নং-২০)।
এদিকে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম মুন্সির ওপর রাবার বুলেট নিক্ষেপ, মারধর এবং তার বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে এনাম মুন্সি বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন (মামলা নং-২২)। পুলিশ অস্ত্র মামলা ও এনাম মুন্সির দায়ের করা দু’টি মামলায় ইমরান হাসান, মাহফুজুর রহমান, পাপ্পু সরদার, খালিদ বিন ওয়ালিদ, মো. সুমন, মো. সানি নামে ৬ জনকে আটক করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে মেঘনা গেট রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি দেশি পিস্তলসহ ইমরান হাসান নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে দুই পক্ষের গোলাগুলীর ঘটনায় পিন্টুর চাচাতো ভাই গোলাম রহমান কচি রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এছাড়া পিন্টুর সমর্থক শওকত হোসেন সোনা, জিহাদ, বাবুর বাড়িঘর কুপিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করার লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
খালিশপুর থানার ওসি সরদার মোশারেফ হোসেন জানান, নির্বাচনের পরে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিজয়ী কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু ও পরাজিত শেখ সেলিম আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম মুন্সি ও বাবু নামে দুইজন আহত হয়। পিন্টুর সমর্থকরা তিনটি লিখিত অভিযোগ করেছে থানায় এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কচি নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ