ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজীবের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ স্থাগিত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর মারা যাওয়া রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে হাইকোর্টের গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ মে) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয় কলেজছাত্র রাজীবের হাত হারানোর ঘটনায় প্রকৃত দোষী কে তা খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য হাইকোর্টকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আদালত। ৩০ জুনের মধ্যে হাইকোর্টের গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে প্রতিবেদনের আলোকে হাইকোর্ট রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেবেন।

আদালতে রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বাস মালিকদেরে পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আবদুল মতিন খসরু।

গেল ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের মালিককে নির্দেশ দেন।

এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ একমাসের মধ্যে দিতে বলা হয় দুই বাস কর্তৃপক্ষকে।

কিন্তু বিআরটিসি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১০ মে আপিল আবেদন করে। ১৩ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি ১৭ মে শুনানির জন্য পাঠান। শুনানি শেষে আজ এ বিষয়ে রায়ের দিন ঠিক ছিল।

৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় দুই বাসের রেষারেষিতে হাতকাটা পড়ে কলেজছাত্র রাজীবের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৪ এপ্রিল রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

হাইকোর্ট এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুল জারিসহ রাজীবের চিকিৎসার খরচ দুই বাস মালিক বিআরটিসি এবং স্বজন পরিবহনকে বহনের নির্দেশ দেন। রুলে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি টাকা দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন সংশোধন বা নতুন করে বিধিমালা প্রণয়নের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চান হাইকোর্ট।

এ রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত ১৬ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজীব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ