ঢাকা, বুধবার 23 May 2018, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুমিল্লা ও নড়াইলের মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: নাশকতা ও মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। অপরদিকে ঢাকার আরো দু’টি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আগামী রোববার অন্য বেঞ্চে এ মামলা দু’টির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লার ও নড়াইলের দু’টি মামলার জামিন আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
শুরুতেই আদালত জানতে চান, তিনি (খালেদা জিয়া) কুমিল্লার দায়রা জজ আদালতে যে জামিন আবেদন ফাইল করেছেন সেটা নিষ্পত্তি না করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা যায় কিনা? জবাবে আদালতের একটি নজির তুলে ধরে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুসারে জামিনের ক্ষেত্রে সেশন কোর্টের যে ক্ষমতা, তা হাইকোর্টেরও আছে। কিন্তু সেখানে জামিন শুনানির জন্য লম্বা তারিখ দেওয়া হয়েছে। আমরা শর্ট তারিখের জন্য আবেদন দিয়েছি। আদালত (দায়রা আদালত) কোনও আদেশ দেননি। এই জন্য আমরা এখানে (হাইকোর্টে) এসেছি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন আরও বলেন, মামলার এফআইআর-এ সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, সেখানে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৫১ নম্বর আসামী করা হয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট করে কোনও অভিযোগ বলা হয়নি।
এ সময় সম্পূরক চার্জশিট সম্পর্কে আদালত জানতে চান। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রথম চার্জশিটে ৭৮জনকে আসামী করা হয়। আর সম্পূরকে করা হয় ৭৭ জনকে। এখানে একজনকে বাদ দেওয়া হয়। ধারাও পরিবর্তন করা হয়। এই মামলায় যারা গ্রেফতার আছেন, তাদের প্রায় সবাই জামিনে আছেন। ইতোপূর্বে এই মামলায় অন্যান্য আসামিরা এই বেঞ্চ থেকে জামিনও নিয়েছেন।
এ পর্যায়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত বলেন, তাহলে আমরা জামিনের বিষয়ে রুল দিয়ে দেই।
জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, না আমরা রুল চাই না। আমরা জামিন চাই।
তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমি বলতে চাই।
আদালত মাহবুবে আলমকে বলেন, আপনি বলুন। কিন্তু মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘আমি আগামীকালকে (বুধবার) বলবো।’ আদালত তখন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ বুধবার ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।
এর আগে গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের পৃথক তিন মামলায় হাইকোর্টের অনুমতির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। এরপর গত ২১ মে আদালতে খালেদা জিয়ার দুই মামলায় জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুতি না থাকার বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেন। এদিন আংশিক শুনানি করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী। এরপর শুনানি আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত।
পরে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘হত্যা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের দুটি পৃথক অভিযোগে কুমিল্লায় দুটি মামলা এবং মানহানির অভিযোগে নড়াইলের এক মামলায় আমরা হাইকোর্টে জামিন আবেদনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে মামলার জামিন আবেদন অ্যাফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে আদেশ অনুসারে এ তিন মামলার জামিন আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
কিন্তু ওই তিন মামলার হত্যা ও মানহানির মামলার মধ্যে দুটি শুনানির জন্য সোমবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। মামলা দুটি হলো:
হত্যার অভিযোগে কুমিল্লায় এক মামলা
২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় সাত জন যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫/২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হন। এ ঘটনায় পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। বিচারকালে দায়রা আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
মানহানির অভিযোগে নড়াইলে মামলা
২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় এ বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য গত ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। এ অবস্থায় বিচারাধীন মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
ঢাকার দু’টি মামলায় শুনানি রোববার
ঢাকার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে করা আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামী রোববার।
গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবীরা মামলা দুটিতে খালেদার জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন।
দুই মামলায় জামিন চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন খালেদার আইনজীবীরা। যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়া ও ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দুটি করা হয়।
আদালতে খালেদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এজে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়া ও ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে করা দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ১৭ মে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। আগামী ৫ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির জন্য প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে অপর মামলাটি করেছিলেন।
অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে মানহানির মামলাটি করেছিলেন এবি সিদ্দিকী। ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ