ঢাকা, বুধবার 23 May 2018, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবিশ্বাস্য হলেও এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে

জাফর ইকবাল : অবিশ্বাস্য এমন অনেক ঘটনাই আমাদের চারপাশে ঘটছে যেগুলোর কাহিনী রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকরই বলা যায়। গানের আওয়াজ শুনে নাকি মৃত্যুশয্যা থেকে রোগী জেগে উঠে। সাঁপের কাটা স্ত্রীকে বাঁচাতে গোবর দিয়ে চাপা দেয়ার ঘটনা ইত্যাদি। আজকের আয়োজনে থাকছে এমনই কিছু অবিশ্বাস্য ঘটনা।
গান শুনে কোমা থেকে জাগলেন রোগী: সংগীতের একটি অবিশ্বাস্য নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে। একটি ভালো গান মুহূর্তের মধ্যেই শ্রোতার বিষাদে ভরা মন আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতে পারে। তবে গান শুনে কোমা থেকে জেগে ওঠার ঘটনা কখনো কি শুনেছেন? অবিশ্বাস্য হলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে মধ্য চীনের একটি হাসপাতালে। গত বছর নভেম্বরে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন এক নারী। পরবর্তী সময়ে কোমায় চলে যান। লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু সম্প্রতি ওই নারী তাইওয়ানের পপস্টার জে চাওয়ের ‘রোজমেরি’ গানটি শুনে দীর্ঘদিন পর জেগে উঠেছেন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষৎকারে ওই নারীর সেবায়  নিয়োজিত সেবিকা বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আমি রুটিন মাফিক রোগীকে কৌতুক পড়ে শোনাচ্ছিলাম। এরপর আমি পপস্টার জে চাওয়ের গান চালু করি। গান চালু করার কিছুক্ষণ পরেই রোগী সাড়া দিতে শুরু করে। অবিশ্বাস্য এই ঘটনা দেখে চিকিৎসককে খবর দেই। বর্তমানে ওই নারী সুস্থ আছেন।
সাঁপে কাটা স্ত্রীকে বাঁচাতে গোবর চাপা : ভারতের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে গোবর অত্যন্ত পবিত্র। গোবরের নানা রকম আশ্চর্য ক্ষমতা নিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
কেউ কেউ মনে করেন গোবর দিয়ে সাপে কাটা রোগী ভালো করা সম্ভব। এমন বিশ্বাস থেকেই সম্প্রতি সাপে কাটা একজন রোগীকে গোবর চাপা দেয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পর মৃত্যু হয়েছে সেই রোগীর।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর নামক এলাকায়। বুলন্দশহরের বাসিন্দা দেবন্দ্রী। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই নারী গত মাসের পঁচিশ তারিখ সকালে মাঠে  কাঠ কুড়াতে গেলে তাকে সাপে কাটে। সঙ্গে সঙ্গে দেবন্দ্রী বাড়িতে এসে তার স্বামীকে জানান। দেবন্দ্রীর স্বামী চিকিৎসার জন্য ডাক্তার না ডেকে স্থানীয় এক ওঝাকে ডেকে আনেন। ওঝার পরামর্শে স্বামী স্ত্রীর শরীর গোবর দিয়ে ঢেকে দেন। এলাকার কেউ কেউ আপত্তি তুললেও তাদের কথা কানে তোলেননি স্বামী এবং সেই ওঝা। প্রায় ঘণ্টাখানেক দেবন্দ্রীকে গোবরের স্তূপের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়। ফলে মারা যায় সে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর থেকে স্বামী ও ওঝা পলাতক।
গাধা পেল পরীক্ষার প্রবেশপত্র: পরীক্ষার প্রবেশপত্র পেল গাধা। অবাক হওয়ার মতো এই ঘটনা ঘটেছে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে। কিছুদিন বাদেই শুরু হতে যাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর সার্ভিস সিলেকশন পরীক্ষা। এই পরীক্ষার জন্যই বোর্ড কর্তৃক কাছুর খার নামের একটি গাধার জন্য প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়েছে। গাধার ছবিসহ প্রবেশপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। সবাই অবাক হয়ে প্রশ্ন ছুড়ছেন, গাধার নামে কেন পরীক্ষার প্রবেশপত্র?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এই অদ্ভুত কান্ড যিনি ঘটিয়েছেন তার নাম। আবদুর রশীদ ভাট নামের এক ব্যক্তি এই পুরো ঘটনার জন্য দায়ী। তবে নিছক মজার জন্য তিনি এই কাজ করেননি। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদুর রশীদ বলেন, ‘বোর্ড পরীক্ষার সিস্টেম যে কতটা দুর্বল সেটা মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্যই আমি এটি করেছি।’
কিছুদিন আগে বোর্ড অব প্রফেশনাল এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রবেশপত্রের জন্য কাছুর খার নামে একটি ফরম পূরণ করেন তিনি। কাছুর খার শব্দের অর্থ হচ্ছে ধুসর রঙের গাধা। ফরমটি পূরণ করে সঙ্গে একটি ধুসর রঙের গাধার ছবিও জুড়ে দেন আবদুর রশিদ। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো এটি বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে কয়েকদিন বাদে প্রবেশপত্রটি তার বাড়িতে এসে হাজির হয়। অদ্ভুত এই ঘটনা হাস্যরসের জন্ম দিলেও ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কাজে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
মোবাইল ফোন পাচারকালে বিড়াল আটক : পৃথিবীর সব দেশের কারাগারেই কয়েদিদের গোপনে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনা কম-বেশি শোনা যায়। কারাগারের বাইরে যোগাযোগ করার জন্য তারা নানা অবৈধ উপায়ে মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করে। তবে কোস্টারিকার লা রিফর্ম কারাগারের বন্দিরা মোবাইল ফোন ভেতর থেকে বাইরে পাচার কিংবা বাইরে থেকে ভিতরে আনা-নেওয়ার কাজে অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছে। এই কাজে তারা ব্যবহার করছে প্রশিক্ষিত বিড়াল।
সম্প্রতি কারাগারের দ্বাররক্ষীরা মোবাইল পাচারের কাজে নিয়োজিত একটি বিড়াল আটক করেছে। কোস্টারিকার বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় আটককৃত বিড়ালটির গলা এবং বুকের মাঝখানে একটি মোবাইল ফোন ও একটি চার্জার বাঁধা রয়েছে।
কিন্তু এত উপায় থাকতে মোবাইল ফোন পাচারের কাজে বিড়াল কেন? দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,  মানুষের মাধ্যমে কারাগারে মোবাইল ফোন পাঠানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একজন দর্শনার্থীকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে একটি বিড়াল বিনা বাধায় কারাগারে প্রবেশ করতে পারে। ফলে মানুষ থেকে এই কাজে বিড়ালই বেশি নির্ভরযোগ্য
কুকুরের গুলিতে প্রেমিকা আহত : মাঝ রাত। শুনশান নীরবতার চাদরে মোড়ানো চারদিক। শোবার ঘরে গভীর  ঘুমে আচ্ছন্ন ফ্লোরিডার ব্রেইন মারফি ও তার প্রেমিকা। পোষা কুকুরের জ্বালাতনে হঠাৎ ঘুম ভাঙল মারফির। ভাবলেন কুকুরটিকে পাশের ঘরে রেখে আসবেন। কুকুর রাখতে গিয়েই যত বিপত্তির শুরু।
গলার বেল্ট ধরে টেনে তিনি কুকুরটিকে পাশের ঘরে নিয়ে যান। কিন্তু কুকুরটির তেমন ইচ্ছে ছিল না। কুকুরটি পুনরায় শোবার ঘরে ফিরে আসে। এরপরই বিকট আওয়াজ ও বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। তড়িঘড়ি করে শোবার ঘরের লাইট জ্বালায় মারফি। এবং এরপর যা দেখলেন তাতে হতবাক হয়ে পড়লেন পঁচিশ বছর বয়সি এই যুবক। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শোবার ঘর আর বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে তার প্রেমিকা। কী ঘটেছে বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লেগে যায় তার।
দ্রুত রক্ত বন্ধ করার জন্য প্রেমিকার পায়ে তোয়ালে বাধতে গিয়েই তিনি প্রথম বুঝতে পারেন পোশা কুকুরটিই এই অঘটনের জন্য দায়ী। দৌড়ে যখন কুকুরটি শোবার ঘরে ঢুকেছিল তখন বিছানার পাশে রাখা পিস্তলের ট্রিগারে কুকুরের পায়ের চাপ লাগে। সেফটি ক্যাচ চালু না থাকায় গুলি বেরিয়ে গিয়ে সরাসরি লাগে মারফির প্রেমিকার পায়ে। মারফির প্রেমিকা বর্তমানে সুস্থ আছেন। চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থানীয় একটি হাসপাতালে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে মামলা করেনি।
বোকামির দণ্ড: কথায় আছে, অতি চালাকের গলায় দড়ি। এবার চালাকি করতে গিয়ে এক চোরের জায়গা হলো জেলে। মুখে সবুজ রং মেখে চুরি করেছিল চোর। ভেবেছিল কেউ তাকে চিনতে পারবে না। অথচ ওই সবুজ রঙের কারণেই পুলিশ তাকে খুব সহজেই আটক করতে পেরেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার ক্রাসনোদার শহরে। ক্রাসনোদার সেন্ট্রাল রেল স্টেশনে এক নারী ট্রেনে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ তার হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় এক যুবক। সঙ্গে সঙ্গে ওই নারী শহর পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে চুরির অভিযোগ করেন।
পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে বিবরণ জানতে চাইলে উপস্থিত সবাই বলেন ওই চোরের মুখে সবুজ রং লাগানো ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী পুলিশ খুব সহজেই চোরকে ধরে ফেলে। কারণ ওই চোর রং মেখে চুরি করলেও পরবর্তী সময়ে রং পরিষ্কার করেনি। এই বোকামির জন্য ধরা পড়ে যায় সে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ