ঢাকা, বুধবার 23 May 2018, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৪ দশক বেঁচে আছেন শুধু বার্গার খেয়ে

বর্তমান জাংকফুডের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় বার্গার। বার্গার খেতে অনেকেই ভালোবাসেন। কিন্তু এই খাবার খেয়ে জীবনের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় কাটিয়ে দেওয়া- সত্যিই বিষয়টা অদ্ভুত এবং একই সঙ্গে ভাবায়ও। আর সেটা যদি হয় টানা ৪৬ বছর এবং কেউ একজন যদি তখন দুবেলা ৩০ হাজার বার্গার খেয়ে বছরের পর পছর কাটিয়ে ফেলেন, তাহলে সত্যিই চমকে যাওয়ার মতো।
যে ব্যক্তি এই ঘটনাটি ঘটিয়ে সংবাদের শিরোনামে এসেছেন তাঁর নাম ডন গোর্সকে, বয়স ৬৪, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের বাসিন্দা।
গত ৪৬ বছর ধরে তিনি বেঁচে রয়েছেন শুধুমাত্র বার্গারের জন্য। দুবেলা খাওয়ার পাতে তাঁর বার্গার চাই-ই। এবং সেটা কোনও ছোটখাটো ঘরে বানানো বার্গার নয়, রীতিমতো। ম্যাকডোনাল্ডসের বিগ ম্যাক বার্গার দিয়েই তিনি লাঞ্চ ডিনার সারেন। ডনের এই অভ্যাসটা চাকরিজীবন থেকেই, তবে চাকির থেকে অবসর নেওয়ার পরেও তিনি সেই অভ্যেস ছাড়তে পারেননি। চাকরিজীবনে দক্ষতার সঙ্গে ডন কারাগারের রক্ষীর দায়িত্ব সামলেছেন।
এখন তাঁর লক্ষ্য তিরিশ হাজার তো খেয়েইছেন, এবারে ৪০ হাজার বার্গার খেয়ে আবারও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নাম তোলা। নিজেই জানালেন, ‘সেজন্য আমাকে অবশ্য আরও ১৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’ ডন যে ধরনের বার্গার খান, তাতে দিনে প্রায় ৮০০-৯০০ ক্যালোরি তাঁর শরীরে প্রবেশ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শারীরিকভাবে তিনি যথেষ্ট সুস্থ বলে জানিয়েছেন।
সালটা ১৯৭২, ১৭ মে, সেদিন থেকে ডনের বার্গার খাওয়ার শুরু। প্রথমদিকে অবশ্য একটিই খেতেন। পরে তা বেড়ে দুটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এবং তিনি যে সত্যিই বার্গার খান রোজ, তা প্রমাণ করার জন্য সমস্ত ডেলিভারি বিচল তিনি স্বযত্নে জমিয়ে আসছেন, সেই ১৯৭২ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ২৮,৭৮৮ টি বার্গার খাওয়ার পর গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তাঁর নামও উঠেছিল এবং তাতে তিনি স্বভাবতই বেজায় খুশিও হয়েছিলেন। ডনের অবশ্য বার্গার খাওয়ার বেশ কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। প্রতি সোমবার তিনি ছয়টি বিগ ম্যাক বার্গার কিনবেনই। এর মধ্যে দুটি সোমবার খান আর বাকিগুলি রেখে দেন ফ্রিজে। প্রতিদিন খাওয়ার আগে মাইক্রোওভেনে কিছুটা গরম করে নেন। তিনদিন দুটি করে বার্গার খাওয়া হলে বৃহস্পতিবার আবার একসঙ্গে আটটি বার্গার কিনে নেন, বাড়িতে সংরক্ষণ করেন, যা দিয়ে রবিবার পযৃন্ত অনায়াসে তাঁর লাঞ্চ আর ডিনার সারা হয়ে যায়।
ডনের ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেকেই জানতে েেচয়ছিলেন তিনি বার্গার ছাড়া অন্য কিছু খান কি না। উত্তরে তিনি জানান, বার্গার ছাড়া অন্য খাবার খান ঠিকই, তবে সেটা খুব কম। তাঁর ডায়েটতালিকার ৯০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে বার্গার। তবে ডনের বার্গার খাওয়া নিয়ে অনেকে নানা মন্তব্য করেছেন।
কেউ কেউ বলেন তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত, আবার কারও-বা মতে, তিনি অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডারে ভুগছেন (এই রোগে কোনও একটি বিষয় নিয়ে মানুষ অতিরিক্ত পর্যায়ে সর্বক্ষণ ভেবে চলে যা কোনও কাজ করে, যা আদতে অস্বাভাবিক)। কিন্তু ডন এসব কিছুকে পাত্তা দিতে নারাজ। আপাতত ৪০ হাজার বার্গার খেয়ে নতুন লক্ষ্যপূরণ করে রেকর্ড গড়ার স্বপ্নে তিনি বুঁদ হয়ে রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ