ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নিভে গেলো মুক্তামনির জীবন প্রদীপ

মুক্তামনি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাবা-মা আর চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে, সবাইকে কাঁদিয়ে বিরল রোগ হেমানজিওমায় আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। 

আজ বুধবার সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামে বাবা-মায়ের সামনেই মৃত্যু হয় ১২ বছরের শিশু মুক্তামনির।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “গত কয়দিন ধরেই তো অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। আজ ভোরে বমি শুরু হল। একবার পানি খেতে চাইল। ওর দাদি গেল পানি আনতে। পানি আনতে আনতে সব শেষে।”   

মুক্তামনির মৃত্যুতে তার বাড়িতে এখন শুধু কান্নার রোল। মা আসমা খাতুনের কিছু বলার ভাষাও আর নেই।

মুদি দোকানি ইব্রাহিমের মেয়ে মুক্তামনির ডান হাতে দেড় বছর বয়সে একটি ছোট গোটা দেখা দেয়। পরে তা বাড়তে থাকে।

হাতে বিকট আকৃতির ফোলা নিয়ে গত ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয় মুক্তামনি। চিকিৎসকরা তার রোগ শনাক্ত করেন রক্তনালীর এক ধরনের টিউমার হিসেবে, যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় হেমানজিওমা।

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকের একটি দল মুক্তামনির হাতে ছয় দফা জটিল অস্ত্রোপচার করেন। কিছুটা ভালো বোধ করলে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর তাকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু গত কিছুদিনে মুক্তামনির অবস্থার অবনতি হয়।  হাতের ক্ষতস্থানে আবারও পচনের লক্ষণ দেখা যায়,সেই সঙ্গে জ্বর। অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়ে যায় যে দাঁড়ানোর মত শক্তিও মেয়েটির ছিল না।

ইব্রাহিম হোসেন জানান, তিনি আবার ঢাকা মেডিকেলে যোগাযোগ করেছিলেন, চিকিৎসকরা ঈদের পর মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তার আগেই সব ছেড়ে চলে গেল মুক্তামনি।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে মুক্তামনিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।

মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসার পর হাতের অবস্থা কিছুটা ভালো হলে তাকে এক মাসের জন্য গ্রামের বাড়িতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়। বাড়িতে ফেরার পর আর ঢাকায় নেওয়া হয়নি তাকে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ