ঢাকা, রোববার 21 October 2018, ৬ কার্তিক ১৪২৫, ১০ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় মুক্তামনি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: 

রক্তনালীতে টিউমার আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না। জীবনযুদ্ধে হেরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন ১২ বছরের মায়াবি চেহারার এ শিশুটি। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার তার নিজ গ্রামের বাড়িতে ইন্তেকাল করে সে।  

এরপর জোহর নামাজের পর বেলা আড়াইটায় দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের জামে মসজিদের পাশ্ববর্তী মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুম দাদার কবরের পাশেই মুক্তামনিকে দাফন করা হয়। তার জানাজায় এলাকার শত শত মানুষ শরীক হন।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, বুধবার সকাল ৭টা ২৮ মিনিটের সময় তারা বুঝতে পারে মুক্তামনি না ফেরার দেশে চলে গেছে। মৃত্যুর কিছু আগে মুক্তামনি পানি খেতে চায়। পানি খাওয়ানোর কিছু পরেই সে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে।

বাবা ইব্রাহিম আরো বলেন, মুক্তামনির ডান হাতের অবস্থা খারাপ দেখে ১৫ দিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা.সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। এ সময় তিনি মুক্তামনির দুটি ছবি পাঠানোর কথা বলেন। ছবি দেখে তার হাতের অবস্থা খারাপ বলে জানান ডা. শারমিন সুমি। এরপর গত বুধবার সামন্ত লাল সেন ফোন করে মুক্তামনির খোঁজ খবর নিয়ে রোজার পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।

মুক্তামনির মা আসমা খাতুন জানান, সকালে মুক্তামনি তাকে কাছে ডাকেন। তার ভালো লাগছে না বলে জানায়। সাতটা ২৫ মিনিটের দিকে সে পানি চায় তার কাছে। এরপর পানি পান করার কিছুক্ষণ পরেই তার সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মুক্তমনির মৃত্যুর খবর পেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা: তওহীদুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু তার বাড়িতে যান। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে যান।

সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রাম। ওই গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেনের দুই যমজ মেয়ে হীরামনি ও মুক্তামনি। জন্মের দেড় বছর পর থেকে মুক্তামনির প্রথমে ডান হাতে ছোট একটি টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তা ফুলে কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। মুক্তামনি বিছানায় বন্দী হয়ে পড়ে। হাতে শুরু হয় পঁচন।

গত বছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তামনির বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রচার হয়। এক পর্যায়ে মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় মুক্তামনিকে। সেখানে টানা ছয় মাসের চিকিৎসায় খানিকটা উন্নতি হওয়ায় ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর মুক্তামনিকে তার গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে আসার পর থেকে তার অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ