ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ রোববার

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। অন্যদিকে কুমিল্লার আরো একটি ও নড়াইলের মামলার শুনানির জন্যও একই দিন কার্যতালিকায় থাকবে। ওই দিন শুনানি শেষে এই দুই মামলারও আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কুমিল্লার বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়ে সোয়া ৩টার দিকে শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল তার অসমাপ্ত বক্তব্য শেষ করেন। এরপর এ মামলার আদেশের জন্য এবং অপর দুটি মামলা শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন নির্ধারণ করেন বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান ও জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন কার্যতালিকার ৫ ও ৬ নম্বরে ছিল। সেই অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মামলাটি শুনানির জন্য সিরিয়ালে এলেও শুনানি শুরু করতে পারেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। কারণ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলা দুটি শুনানির জন্য এলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় চান। সে অনুযায়ী আদালত শুনানির জন্য দুপুর ২টার পর সময় নির্ধারণ করেন।

এ সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের দুর্ভাগ্য খালেদা জিয়ার কারাবরণকে দীর্ঘায়িত করার জন্য অযথা সময়ক্ষেপণ করছেন।

মামলার বিষয়ে খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, অভিযোগে বলা হয়েছে খালেদা জিয়া অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছিলেন সেই কারণেই বাসে কর্মীরা হাঙ্গামা করেছে এবং সেখানে পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে। সেই কারণে লোক মারা হয়েছে। কিন্তু এজাহারে বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে এটুকুই বলা হয়েছে।

খন্দকার মাহবুব বলেন, যেহেতু খালেদা জিয়ার নাম এজাহারে ছিল না, পরবর্তীতে তার নাম ৭৭ জন আসামীর মধ্যে ৫১ নম্বরে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরোয়ানা নেই। তারপরও ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, যেক্ষেত্রে আসামির মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে সেক্ষেত্রেও যদি মহিলা হয়, অসুস্থ হয় বা অল্প বয়স্ক হয় তাকে জামিন দেয়া যায়। এইক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার আইনগত বিধান নাই। এইক্ষেত্রে আশা করছি, জামিন আদেশ আমরা পাব। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল এ ছোট দুটি মামলায় সময়ক্ষেপন করে তিনদিন যাবত ঠিকমতো শুনানিতে অংশ গ্রহণ করেন না। একটি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে জাতি এটা প্রত্যাশা করে না।

গত মঙ্গলবার এ দুই মামলায় শুনানি শুরু হয়। বুধবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন তাঁর অসমাপ্ত বক্তব্য শেষ করেন। গতকার বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি সম্পন্ন হয়।

গত ২০ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন কুমিল্লার দুটি নাশকতার মামলা ও নড়াইলের মানহানির একটি মামলায় জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু কার্যতালিকায় শুধু কুমিল্লার হত্যা মামলা ও নড়াইলের মামলাটি একসঙ্গে আনা হয়।

এদিকে, ঢাকার মানহানি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলার জামিনের জন্য আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের দুটি পৃথক অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। এ নিয়ে পাঁচটি মামলার জামিনের আবেদন করা হলো।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ আবেদন করেন। এ দুটি মামলাও আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। জামিন পেলেও তিনি মুক্তি পাননি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।

রায়ের পর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ