ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে গরুর গোশতের দাম চলছে বিক্রেতার খুশিমতো

 

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর বাসাবো বাজারের এক বিক্রেতার (কসাই) কাছে জানতে চেয়ে জানা গেল ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে গরুর গোশতো। বিশেষ বিশেষ দিনে, শুক্রবারে সেটা বেড়ে হয় ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। খাশির গোশতো ৮০০ টাকায়। ভেড়া,বকরি,ছাগল আর যাই বলেন না কেন, তিনি সেসব বিক্রি করেন না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) তো গরুর গোশতো ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে বলেছে। আর খাশি ৭২০ টাকায়। একথা শুনে ওই কসাইর খেদোক্তি-তাহলে তাদেরকেই বলেন,তারা যেন এসে গোশতো বিক্রি করে। গরু কিনে আনে আর সব খাজনাপাতি-খরচা দেয়। তাহলেই দেখবেন,কয় টাকায় গরুর গোশতো খাওয়ায়। তার সাফ কথা,সরকারি দরে গরুর গোশতো বিক্রি করতে গেলে ৯০ ভাগ কসাই ব্যবসা ছেড়ে দেবে। আর যে বাকীরা,তারা দু‘চারদিন পরই পুঁজি খেয়ে ঘরে ওঠবে।  

তার কথায়,৭২০ টাকা দরে খাশির গোশতো বিক্রি করতে হলে কোন ক্রেতাই খাশি পাবে না। তারা প্রতারিত হবেন, তারা খাশির বদলে পাবেন ছাগল-ভেড়ার গোশতো। তাতে কসাইদেরই লাভ। কারণ সরকার ছাগল-ভেড়ার গোশতের যে দাম নির্ধারণ করেছে, তার চেয়েও ১২০ টাকা বেশি লাভ করা যাবে। সবাই খাশির গোশতের বদলে সরকার নির্ধারিত ৬০০ টাকা মূল্যের ছাগল-ভেড়ার গোশতো গছিয়ে দেবে ৭২০ টাকায়।

এ অবস্থা শুধু ওই একটি বাজারের চিত্রই নয়, এ অবস্থা গোটা রাজধানীর। সারা বছর ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই গরুর গোশতের দাম ওঠানামা করে। সেখানে রমযানে ৪৫০ টাকায় গরুর গোশতো পাওয়া যাবে-তা কারো কাছেই বিশ্বাসের নয়।

এ বিশ্বাস অর্জনের জন্য ডিএসসিসি হাঁকডাক করেছিল। প্রথম রমযানেই সে হাঁকডাক যে কাজে আসেনি,তার টের পাওয়া গেছে। পরে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য টিমও বাজারে গেছে,তারাও বাজার দরের লাগাম টানা দূরে থাক, ছুতেও পারেনি। এ অবস্থায় বাজার আর ক্রেতা ভেদে দরদাম ওঠানামা করছে,তবে তা সরকার নির্ধারিত কোন দামের মধ্যেই নয়। তার বাইরে।

গত ১৪ মে ঢাকা মহানগর গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোজায় প্রতি কেজি দেশি গরুর গোস্ত ৪৫০ টাকা, বিদেশি গরুর গোস্ত ৪২০ টাকা, মহিষের গোস্ত ৪২০ টাকা, খাসির গোস্ত ৭২০ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের গোস্ত ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে সময় মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন জানিয়েছিলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনেও এই দর কার্যকর হবে।

কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে গোস্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

বেঁধে দেওয়া দাম মানছে না মেয়রের বাড়ির পাশেও

রোজা সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গরুর  গোস্তের দাম কেজিপ্রতি ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেন না অধিকাংশ বিক্রেতা। এমনকি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের পৈত্রিক বাড়ি পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এবং বর্তমান আবাসস্থল বনানীর বাজারেও ওই দামে গরুর গোস্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

ঢাকার সাতটি বাজার ঘুরে ছয়টিতেই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গরুর গোস্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। শুধু একটি বাজারে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামে গোস্ত বিক্রি হচ্ছিল। কোনো বাজারেই ভারতীয় গরু বা মহিষের গোস্ত পাওয়া যায়নি। সব গোস্তই দেশি গরুর গোস্ত বলে বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে কোথাও ছাগী ও ভেড়ার গোস্ত খুঁজেও পাওয়া যায়নি। সব জায়গায় বিক্রি হচ্ছে খাসির গোস্ত।

 মেয়র খোকনের এলাকা নাজিরাবাজার চৌরাস্তার কাওসারের  গোস্তের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর গোস্ত বিক্রি করা হচ্ছে। দরদাম করে ৪৮০ টাকায় কিনতে পারছেন কেউ কেউ।

সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দামে গোস্ত বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই দামে বিক্রি করলে পোষায় না। “ভাই, সরকার একটা দাম ধইরা দিসে। কিন্তু সরকার তো আর জিনিসটা কিন্না দেয় নাই। পরতা না পড়লে তো আর বেচা যাইব না।”

পাশের মহসিন মহাজনের দোকানে গরুর  গোস্তের কেজি ৪৮০ টাকা। এর কমে গোস্ত বিক্রি হয় না বলে জানান বিক্রেতা শাহ আলম। তিনি বলেন, “সাড়ে চাইরশ ট্যাকা কেজি যেই গোস্ত বিক্রি করে সেইগুলা কোল্ডস্টোরেজের গোস্ত। এই গোস্ত এইখানে কেউ কিনব না। আমরা ফ্রেশ গোস্ত বিক্রি করি, হের লাইগা দাম বেশি। আর অহন পর্যন্ত আমরা করপোরেশনের বোর্ড (মূল্য তালিকা) পাই নাই। পাইলে দেখা যাইব কী হয়।”

নাজিরাবাজারের মঞ্জুরের দোকানে গোস্ত বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজিতে। তারও একই কথা, সিটি করপোরেশন শুধু দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বেশি দামে গরু কিনতে হয় বলে তাতে পোষায় না। “তারা তো শুধু দাম ধইরা দেয়। আমাগো গোস্ত কিন্না দেউক। আমরা কেজিতে মাত্র দশ টাকা লাভে বেচুম।”

দাম কমার পরিবর্তে রোজায়  গোস্তের দাম উল্টো বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন নাজিরাবাজারের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “কেজি ৫০০ ক্যান, ৫২০ ট্যাকা কেজি হইলেও কিনোন লাগব। আমরা ঠেকায় পড়ছি। এইখানে সরকারের কি কোনো তদারকি আছে? নাই। থাকলে দাম ঠিক থাকত।” 

সিটি করপোরেশনের মূল্য তালিকা এবং সে অনুযায়ী গোস্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে শুধু শান্তিনগর কাঁচাবাজারে। সেখানে প্রতি কেজি গরুর গোস্ত ৪৫০ টাকা এবং খাসির গোস্ত ৭২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ বাজারে মহিষ, ভারতীয় গরু এবং ছাগল বা ভেড়ার গোস্ত পাওয়া যায়নি। সবই দেশি গরুর ও খাসির গোস্ত বলে বিক্রি করা হচ্ছে।

বনানী কাঁচাবাজারে টাঙানো মূল্য তালিকায় প্রতি কেজি গরুর গোস্ত ৫০০ টাকা লেখা রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দাম মানা হচ্ছে না কেন- এ প্রশ্নের জবাবে গোস্ত বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এইখানে ভালো মানের গরুর গোস্ত বিক্রি করা হয়। ঢাকার অন্য বাজারে কিছুটা কম দামে পাইলেও এই বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ টাকার কমে গরুর গোস্ত পাবেন না। সব দোকানে একই রেট।”

মহাখালী কাঁচাবাজারে টাঙানো সিটি করপোরেশনের মূল্য তালিকায় গরুর গোস্তের কেজি ৪৫০ টাকা লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়।

মফিজুল ইসলাম নামের সেখানকার একজন গোস্ত বিক্রেতা বলেন, “গরুর   গোস্তের দাম ঠিক করে দেওয়া সিটি করপোরেশনের কাজ না। মেয়র   গোস্তের দাম ঠিক করে ক্যামনে? হের কাম কি   গোস্তের দাম ঠিক করা? হেইডা তো করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। “আর মেয়র যেই দাম ধরছে সেই দামে গোস্ত বেচন যাইব না। একটা গরু কিনার পরে কত্ত টাকা চান্দা দেওন লাগে হেইডা তো মেয়র জানে না।”

মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের বড়বাগ কাঁচাবাজারে ঘুরেও প্রতি কেজি গরুর গোস্ত ৪৮০ টাকা করে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ বাজারে রোজার আগে গরুর গোস্ত বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৪৫০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকা।

শেওড়া-জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজারেও গরুর   গোস্তের কেজি ৫০০ টাকার কমে পাওয়া যায়নি। সেখানে গোস্ত কিনতে আসা তানজিল আহমেদ বলেন, মেয়রের নির্দেশনা কেউ মানছে না। “পত্রপত্রিকায় দেখলাম গরুর গোস্ত ৪৫০ টাকা কেজি। কিন্তু বাজারে এসে দেখি ৫০০ টাকা। এ ধরনের ঘোষণার কোনো মানে আছে বলে মনে হয় না।”

সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দামে গোস্ত বিক্রি হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিউল আলম বলেন, এখনও অতিরিক্ত খাজনা দিতে হয় বলে দাম কমাতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। “আমার সরকার নির্ধারিত খাজনা হল ১০০ টাকা। কিন্তু গাবতলীর ইজারাদার একেকটা গরুতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে। এই টাকাটা আমি কোত্থেকে আনব? গরুর   গোস্তের দাম ঠিক রাখতে হলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এইটা করলে এক ঘণ্টায়   গোস্তের দাম কমে যাবে।”

গাবতলী হাটে ইজারাদারের বাড়তি টাকা নেওয়াটা   গোস্তের দামে প্রভাব ফেলছে বলে স্বীকার করেছেন মেয়র সাঈদ খোকনও। তিনি বলেন, “মাংস ব্যবসায়ীরা আমাকে এ বিষয়টি বলেছে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হবে।”

 

ইচ্ছেমতো দামে গোস্ত বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা

রমযান উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে   গোস্তের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। উত্তর সিটি করপোরেশন এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনও বৈঠকই করেনি। তবে সংস্থাটি বলছে ডিএসসিসি নির্ধারিত দাম তাদের এলাকাতেও বলবৎ থাকবে।

কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে গোস্ত বিক্রি হচ্ছে।

দক্ষিণ বনশ্রীর কাজিবাড়ি এলাকায় গোস্ত বিক্রি হয় ৫০০ টাকা দরে। সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গরুর দাম বেশি। ওই দামে বিক্রি করলে লস হবে।’

সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও বেশি দামে গোস্ত বিক্রি করার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহানপুরের ব্যবসারী রফিক মোল্লা বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, তাদের কোনও নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। ৪৮০ টাকার নিচে আমরা গোস্ত বিক্রি করতে পারবো না।’

একই অবস্থা দেখা গেছে, খিলগাঁও এলাকার তিলপাপাড়া এলাকায়। ওই এলাকায় গোস্ত বিক্রি হয়েছে ৪৮০ টাকা দরে। মেরাদিয়া, দক্ষিণ বনশ্রী, রামপুরা, খিলগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর,গুলশান বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের অনেক বেশি দামে গোস্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে।

  গোস্তের দামের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেরাদিয়ার বাসিন্দা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘মেয়র বা সিটি করপোরেশনের কথা তো কোনও ব্যবসায়ীই মানছে না। যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারে তাহলে মিডিয়ায় দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়ার দরকার কী ছিল? মেয়রের উচিৎ   গোস্তের দাম নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে। তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। ব্যবসায়ীরা না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সিটি করপোরেশন যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা যৌক্তিক নয়। করপোরেশন দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে না, এই দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এই দামের সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই।

 

অভিযোগের রশি টানাটানিতে চিড়েচ্যাপটা সাধারণ ক্রেতা

মাংস ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের সিন্ডিকেটও চরম রূপ নিয়েছে। আর এই সিন্ডিকেটচক্রের রশি টানাটানিতে প্রতিনিয়ত চিড়ে চ্যাপটা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতা। একমাত্র স্থায়ী পশুরহাট গাবতলী নিয়ে গোস্ত ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের মধ্যে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। 

হাটে বাড়তি চাঁদা আদায়ের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে   গোস্তের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি মহানগর গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির। তাদের দাবি, গাবতলী হাটে গোস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য গরুপ্রতি সরকার নির্ধারিত ট্যাক্স ১০০ টাকা, মহিষ ১৫০ টাকা, ছাগল, ভেড়া ৩৫ টাকা। অথচ অভিযোগ রয়েছে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত টাকা গুণতে গিয়ে   গোস্তের বেড়ে যাচ্ছে দাম। যে কারণে কম দামে গরু কিনলেও শেষ পর্যন্ত চড়া দামেই বিকোতে হচ্ছে গোস্ত। 

এই বাড়তি টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে খোদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ সিটি করপোরেশনের ওই কর্মকর্তা। 

বাংলাদেশ গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির নেতা রবিউল আলম বলেন, গাবতলীর ইজারাদাররা গোস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চরম অন্যায় করছে। গরুপ্রতি ১০০ টাকার জায়গায় নেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। এতে দাম কমানোর সুযোগ থাকছে না। আর এই টাকার ভাগ চলে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও অন্য দু’একজন কর্মকর্তার কাছে। ‘আমরা ইজারাদারদের এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে বারবার ডিএনসিসিতে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি। তারা আশ্বাস দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সিন্ডিকেটের কারণে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বিগত কয়েক বছর একই ব্যক্তিকে গাবতলী হাটের ইজারা দিচ্ছেন। অন্য ইজারাদার টেন্ডার কিনলেও তা দিচ্ছে না ডিএনসিসি। যে কারণে কয়েক বছর ধরে লুৎফর রহমানই গাবতলী হাটের নিয়ন্ত্রক। 

মাংস ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ মো. মোস্তফা জামালের নেতৃত্বে ডিএনসিসির একটি টিম আকর্ষিকভাবে গাবতলী হাট পরিদর্শন করেন। সেখানে ইজারাদার ও গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। গোস্ত ব্যবসায়ীদের একটি অভিযোগেরও সত্যতা পাননি তারা। 

এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র মোস্তফা জামাল বলেন, গোস্ত ব্যবসায়ীরা গাবতলী হাট জিম্মি করে রাখতে চায়। তারা যে অভিযোগ করেছে তা মোটেই সত্য নয়। গোস্ত ব্যবসায়ীরা চায় তাদের দেওয়া কার্ডধারীদের সরকারি এ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হোক। এটা করলে তো ইজারাদার টিকতেই পারবে না। 

বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, দু’একজন গোস্ত ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন। আসলে তাদের অভিযোগ শতভাগ অসত্য। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করে আমার সম্মানহানি করার চেষ্টা করে। অভিযোগকারীরা আসলে চায় গোস্ত ব্যবসায়ী সেজে সরকারি সুবিধা ভোগ করতে। কিন্তু আমরা সেই অন্যায় করতে দিতে পারি না।  ‘এসব অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ না করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি মিলে গোস্ত ব্যবসায়ীদের একটি কার্ড করে দেওয়া হবে। ওই তালিকার গোস্ত ব্যবসায়ীরাই কেবল ১০০ টাকার সুবিধা পাবেন, অন্য কোনো কার্ড দেখিয়ে সুবিধা নিতে পারবেন না। বর্তমানে ঢাকা মহানগরের ৭২৪ জন গোস্ত ব্যবসায়ী এ সুবিধা পাচ্ছেন। এরপরও যদি ইজারাদার বাড়তি টাকা নেয় তাহলে তার ইজারা বাতিল করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ