ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদকের সাথে বিএনপির বহু  লোক জড়িত  তাদেরও ছাড়  দেওয়া হবে না  ---------------ওবায়দুল কাদের

 

স্টাফ রিপোর্টার: সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাদক কারবারিরা অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করছে বলেই ‘এনকাউন্টার’ হচ্ছে এবং একে বিচার বহির্ভূত হত্যা বলা যায় না।

তিনি বলেছেন, এখানে এক পক্ষের হাতে অস্ত্র নেই, অস্ত্র আছে দুই পক্ষের হাতে। যাদেরকে ধরতে যাচ্ছে, তারাও কিন্তু অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে। তাহলে পুলিশ কি ওখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে? তারা এটার কাউন্টার করবে না? “

গতকাল বৃহস্পতিবার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে জরুরি সহায়তা নম্বর ‘৯৯৯’ এর লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করেন। আর কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে মাদক পাচারের অভিযোগে ধরতে হলে তার আগে ‘প্রমাণ লাগবে’ বলে মন্তব্য করেছেন কাদের। 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে মাদক নির্মূলে যে অভিযান শুরু করেছে, তাতে প্রতি রাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে বহু মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু যেভাবে তাদের দমন করার চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড করছে- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের উত্তরে বলেন, তিনি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সমর্থন করেন না, কিন্তু সেটা ভিন্ন বিষয়।

মাদক যারা ব্যবসা করে এদের একটা সিন্ডিকেট আছে, এদের সন্ত্রাসী আছে, এদের সাথে অস্ত্রধারী আছে। যখন পুলিশ তাদের ধরতে যায়, তখন অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করে, এনকাউন্টার হয়। এনকাউন্টারকে তো বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এভাবে বলা যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গত সাড়ে নয় বছরের মেয়াদে কোনো দল তাদের রাজনৈতিক সভায় মাদকের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি।একটি শব্দও আপনারা উচ্চারণ করেননি। কাজেই এই ব্যপারে কথা বলার কোনো অধিকার আপনাদের নেই।

কাদের বলেন, সবাই মিলে সোচ্চার হলে মাদকের বিস্তার ‘এই ভয়ঙ্কর অবস্থায়’ আসতে পারত না। আজকে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হত না। আজকে অভিযান কেন হচ্ছে? জনস্বার্থে করা হচ্ছে একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার অবসানের জন্য।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষ এই অভিযানে খুশি। আর সেজন্যই বিএনপির ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়েছে। এটা নিয়ে বিএনপি এত চিৎকার করছে কেন? তাদেরও বহু লোক জড়িত, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিভিন্ন মহল থেকে আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পরও কেন সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না- সেই প্রশ্ন কাদেরের সামনে রাখেন কাদের।

জবাবে তিনি বলেন, “প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ ছাড়া তো কাউকে ধরা যায় না, একজন এমপিকে চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ হলে সে যদি অপরাধী হয় অবশ্যই তার শাস্তি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ