ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অপপ্রচারের অভিযোগ হাসান সরকারের  জাহাঙ্গীরের পক্ষে প্রচারণায় মন্ত্রী-এমপি

 

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। বৃহস্পতিবার মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তারা নৌকার পক্ষে জাহাঙ্গীর আলমের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। তারা জাহাঙ্গীর আলমের বিভিন্ন ভাল দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগর সৈকত কনভেনশন সেন্টারে গাজীপুর মহানগরীর বাসন সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, ‘তরুণ বয়সেই ইবাদত ও সেবা করার উত্তম সময়। একজন যোগ্য এবং কর্মঠ নগর সেবক হিসাবে জাহাঙ্গীরকে আপনারা সবসময় কাছে পাবেন। তাই জাহাঙ্গীরকে আপনাদের সেবক হিসাবে নির্বাচিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ 

তিনি আরো বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম একজন ধর্মপ্রাণ, বিণয়ী এবং প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ। তিনি ইতোমধ্যেই জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবামূলক কাজ করে গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করেছেন। মানুষের ভালবাসাই জাহাঙ্গীরকে জয়যুক্ত করবে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল। বক্তব্য রাখেন মেয়র প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন বাবুল, গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া প্রমুখ।

এদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগরীর ১৮, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত পৃথক তিনটি ইফতার পূর্ব আলোচনায় উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন। 

এ ছাড়া নগরীর ২৬ এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের উনিশে পার্ক সেন্টার ও লক্ষীপুরা কমিশনার কার্যালয়ের পাশে পৃথক দুটি দোয়া এবং ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়। এসব ইফাতর মাহফিলে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গাজীপুর ও টঙ্গীর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। ঢাকা-গাজীপুর বিআরটিএ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত নগরায়ণ। আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমই পারবেন কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর গড়ে তুলতে। এজন্য তিনি আগামী ২৬ জুন নির্বাচনে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত এবং শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে জয়য্ুক্ত করার আহ্বান জানান। 

অপর দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ বাস ভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। 

এ সময় তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল জনমতকে আমার বিপক্ষে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপপ্রচারের মিশন নিয়ে নেমেছে। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও চরিত্র হননের মাধ্যমে নির্বাচনে জনমতকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ওই মহলটি এখন উঠেপড়ে লেগেছে। তারা তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভিন্ন লিংকের মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে। যা সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কদর্য ও অত্যন্ত মানহানিকর। তিনি এব্যাপারে সুর্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ আবারো আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য অপপ্রচার সেল চালু করেছে। ওই সেল থেকে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ‘হাসান সরকার ভন্ড দেওয়ান বাগীর মুরিদ’, ‘জাহাঙ্গীরকে হারাতে মহাসচিবের কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়েছেন হাসান সরকার’, ‘হাসান সরকার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন’, ‘হাসানকে হারাতে মান্নান-সানাউল্লাহ ঐক্যমত’ ইত্যাদি নানা গুজব ও অপপ্রচার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসান সরকার বলেন, প্রপাগান্ডা ছাড়িয়ে ধানের শীষের জোয়ার রোধ করা যাবে না। আগামী ২৬ জুন ব্যালটের মাধ্যমে গাজীপুর নগরবাসী এসব অপপ্রচারের জবাব দিবে। 

তিনি মন্ত্রী-এমপিদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে ইফতার মাহফিলের নামে নির্বাচনী সভা করার অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনে একের এক এক অভিযোগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এমনকি গাজীপুর সিটিতে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের কোন কার্যক্রমও চোখে পড়ছে না। আমরা আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। অপরদিকে আওয়ামীলীগ নির্বাচনী আচরণবিধিকে কোন তোয়াক্কাই করছে না। সররকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। অথচ আমাদেরকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

হাসান উদ্দিন সরকার আরো বলেন, নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার দেখে একটি মহল শুরু থেকেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আমি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার পর এবার আমার বিরুদ্ধেই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ