ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কৃষকরা ব্যস্ত

এফ,এ আলমগীর, (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃদ্ধিপাচ্ছে সামার ওয়াটারমিলন (গ্রীস্মকালিন তরমুজ) চাষ। এই রসালো ফল বাজারজাত করা সম্ভব হবে ও ভালো বাজার দরপাবে এমন আশা নিয়ে কৃষকরা  তাদের ফসল পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। গত বছর জেলায় এই তরমুজ চাষ হয়েছিল ৮২ হেক্টর জমিতে। চলতি মওসুমে ৩শত হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৮২ হেক্টর জমিতে সামার ওয়াটারমিলন (গ্রীস্মকালীন তরমুজ) এর আবাদ হয়েছিল । চলতি বছর ১০০ হেক্টর জমিতে  আগাম এই তরমুজ লাগানো হয়ে গেছে। আগামি ১০ দিনের মধ্যে ২শ হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।       

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বেষ্টপুর গ্রামের বাজার পাড়ার মহিউদ্দীনের ছেলে আব্দুর রহিম জানায় সে এবার আগাম ৩ বিঘা জমিতে গ্রীস্মকালীন এই তরমুজের আবাদ করেছে বাশেঁর কাবারি নাইলনের সুতা দিয়ে মাচা তৈরী করা হয়েছে মাচাই গাছ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তার তিন বিঘা ক্ষেতের মাচাই ফুল ফল আসা শুরু হয়েছে। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। রমজান মাসে পানি জাতীয় এই ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকে বাজার দরও ভালো থাকে সে কারণে ভালো বাজার পাবার আসাই সে আগাম এই চাষ করেছে। রমজানের  শুরুতে তার তরমুজ বাজার জাত করতে পারবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নাহলে বাজার দর ভালো পেলে সে ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবে। সে আরো ৪ বিঘা জমিতে এই আবাদ করবে ইতিমধ্যে তার জমি প্রস্তুত করা হয়ে গেছে কয়েক দিনের মধ্যে তরমুজ লাগানো শুরু করবে।

একই গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে ফড়িং একই কথা বললেন, তিনি ৪বিঘা জমিতে আগাম চাষ করেছে আরো ১২ বিঘা জমিতে চাষ করবেন জমি প্রস্তুুত করা হয়ে গেছে কয়েক দিনের মধ্যে লাগানো শুরু করবেন। 

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুফি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান জানান, সামার ওয়াটারমিলন অল্প দিনের (৬০) ফসল। সাধারনত এপ্রিল মাসের প্রথম থেকে রোপন করার উপযুক্ত সময়। আমাদের এলাকার মাটি এই চাষের জন্য উপযোগী। আমাদের জেলার আগে এচাষ না হলেও বর্তমানে এলাকার কৃষকরা এই চাষের দিকে ব্যাপক হারে ঝুকে পড়েছে। এটি একটি লাভ জনক ফসল প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাজার দর ভালো পেলে চাষীরা ভালো লাভবান হবে। তবে এবার রমজান মাসকে সামনে রেখে অনেক চাষি মার্চ মাসের প্রথম দিকে সামার ওয়াটারমিলন (গ্রীস্মকালিন তরমুজ) চাষ করেছে। এদের গাছে ফুল ফল আসা শুরু হয়েছে। আগামি রোজাতে তারা এই ফল বাজারে বিক্রি করতে পারবে। এমনিতেই রমজান মাসে বাজারে রসালো ফলের চাহিদা থাকে ব্যাপক। এবার রমজান মাস আসার আগেই তরমুজের উৎপাদন কমে যাবে ফলে আগাম চাষিরা সামার ওয়াটারমিলন  (গ্রীস্মকালিন তরমুজের) তরমুজের স্থান পুরন করবে। ফলে বাজার দরও ভালো পাবে এতে চাষিরা ভালো লাভবান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ