ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংকট তীব্র ॥ জনদুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:  নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা হচ্ছে ইফতার এবং সেহেরীর সময় গৃহস্থালী কাজে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য। সে লক্ষ্যে সিএনজি স্টেশনগুলোও রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে তারপরও নগরীর বিস্তীর্ণ কিছু এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ না থাকা অথবা গ্যাসের চাপ না থাকায় আবাসিক এলাকার গ্রাহকগণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারের এতো আয়োজন সত্ত্বেও গ্রাহকদের গ্যাসের জন্য দুর্ভোগ পোহানোকে জনাব সুজন সরকারের বিরুদ্ধে সুগভীর ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করণ এবং তা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন ২৩ মে বুধবার সকাল ১১টায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (কেজিডিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহম্মদ মজুমদার এর সাথে তার দফতরে সাক্ষাৎ করে বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

 এ সময় সুজন বলেন, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৩৮নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য একটু যান্ত্রিক সংকট নিরসনের আশায় বিগত প্রায় আট বছর ধরে ঐ এলাকার লোকজন অনেক দেন দরবার করছে। আমি নিজেও অনেকবার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে মতবিনিময় করেছি। কিন্তু আশ্বাসেই যেন দায়িত্ব শেষ। আমরা আর আশ্বাসে মন ভরাতে চাই না। কাজের বাস্তব প্রতিফলন চাই। গ্যাস স্বল্পতার কারণে ঐ এলাকার মানুষের দৈনন্দিন গৃহস্থালী কাজে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। বিঘœ ঘটছে ছোট ছোট কারখানার উৎপাদনেও। বছরের পর বছর এই ওয়ার্ডের জনসাধারণ কিঞ্চিত পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করে পর্যাপ্ত গ্যাস বিল পরিশোধ করে আসছে। যা মরার উপর খরার ঘায়ের মত। 

তিনি বলেন, যেখানে সরকার একের পর এক বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে সেখানে ৩৮নং ওয়ার্ডের গ্যাস সংকট নিরসন না হওয়াকে সষ্যের মধ্যে ভূত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও নগরীর শুলকবহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বৃহত্তর বাকলিয়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংকটও তীব্র আকার ধারন করেছে। কোন কোন এলাকায় বার ঘন্টায়ও গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায় না। রাতে গ্যাস আসলেও চাপ কম থাকে তাই রান্নার কাজ চালানোও কষ্টকর। বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প উপায়ে রান্নার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসে কেজিডিসিএল কর্মচারী নির্বাচনও গ্রাহক ভোগান্তির অন্যতম কারণ কিনা তা ভেবে দেখার বিষয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। কারন নির্বাচনের সময় বেশীরভাগ কর্মচারী নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে মাঠ পর্যায়ে মেরামত বা সংস্কার কার্যক্রম বিঘিœত হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি এল.এন.জি সরবরাহ করার জন্য একটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে তাই পুরোদমে এল.এন.জি সরবরাহ করার আগে নগরীর গ্যাসের সঞ্চালন লাইনগুলো সংস্কার করার জন্য (কেজিডিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া গ্রাহকের মৃত্যুর পর নাম পরিবর্তনে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জন্যও সুজন কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানান।

 (কেজিডিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহম্মদ মজুমদার ধৈর্য্য সহকারে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন। তিনি বিভিন্ন সমস্যার কথা লিপিবদ্ধ করেন এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, ৩৮নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কথা আমি নিজেও অবগত আছি। ইতিমধ্যে ঐ এলাকার গ্যাস সংকট শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য নতুন পাইপ স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাতে ঐ এলাকার জনগন গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্ত হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে অবহিত করেন। তিনি কিছুদিনের মধ্যে এল.এন.জি প্রাপ্তির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দেশের জনসাধারণ এল.এন.জি ব্যবহার করতে পারবে যা সরকারের একটি বিরাট অর্জন যার ফলে আবাসিক অনাবাসিক এবং শিল্প কারখানার গ্যাস সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। দেশী বিদেশী শিল্প বিনিয়োগ আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আমাদের প্রস্তুতিও আমরা সম্পন্ন করছি। ইতিমধ্যে কিছু নতুন যন্ত্রপাতিও ক্রয় করা হয়েছে ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটিগুলোও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে তা সাথে সাথে সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা যেমন শুলকবহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বৃহত্তর বাকলিয়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ না থাকায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এসব এলাকার গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস প্রদান করেন।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জি.এম মার্কেটিং মোঃ আলী, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী সংসদ এর সভাপতি ফরিদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ ইলিয়াছ, মুক্তিযোদ্ধা এস.এম.আবু তাহের, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, সমাজসেবী এজাহারুল হক, এম.আজাদ চৌধুরী,  মোঃ শাহজাহান, মোঃ নিজাম উদ্দিন, এ.এস.এম জাহিদ হোসেন, সমীর মহাজন লিটন, মোঃ শাহজাহান, সরওয়ার্দী এলিন, তোফাজ্জল হোসেন ওয়াসিম, হাসান মুরাদ, মোঃ বেলাল প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ