ঢাকা, শুক্রবার 25 May 2018, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নজরুলের ভাব ও ভাবনা

শফি চাকলাদার : নজরুলের একটি কবিতার নাম ‘হুল ও ফুল’। ১৯৪১ এর ২৫ নভেম্বর ‘নবযুগ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়। ৫৪ লাইনের কবিতা। কবিতাটিতে নজরুল সন্নিবেশিত করেছেন একই সাথে উইট এন্ড হিউমারকে। বাস্তবকে, সত্যকে এবং নজরুল যাদের জন্য বাস্তবকে স্থান দেন তাদের প্রসঙ্গে। এটা সকলেই জানেন যে, নজরুলকে কত ধরনের আক্রমণ সহ্য করতে হয়েছিল। একদিকে কাকের এবং অন্যদিকে যবনসহ নানান গালি-গালাজে ধন্য (?) হয়ে উঠেছিলেন নজরুল। নজরুল কখনো এসবের জবাব দেননি। এ নিয়ে হাস্য-রস করতেন, এই ‘হুল ও ফুল’ কবিতায় নজরুলের তেমন কিছু ‘জবাব-এ-উইট’ পাওয়া যায়-

হায়রে দুনিয়া দেখি মৌলানা

মৌলবিতে একাকার,

আমি একা হেথা কাকের রে দাদা

আমি একা গুনাগার।

নজরুল বলেন, ‘মুসলমান সমাজ আমাকে আঘাতের পর আঘাত দিয়েছে নির্মমভাবে। তবু আমি দুঃখ করিনি বা নিরাশ হইনি। তার কারণ, বাংলার অশিক্ষিত মুসলমানরা গোঁড়া এবং শিক্ষিত মুসলমানরা ঈর্ষাপরায়ণ।’

অন্যত্র নজরুল বলেন, ‘আমাদের বাঙালি মুসলমানের সমাজ, নামাজ পড়ার সমাজ। যত রকম পাপ আছে করে যাও, তার জবাবদিহি করতে হয় না এ সমাজে, কিন্তু নামাজ না পড়লে তার কৈফিয়ত তলব হয়। অথচ কোরানে ৯৯৯ জায়গায় জেহাদের কথা এবং ৩৩ জায়গায় সালাতের কথা বলা হয়েছে।’

নজরুলের নিজের উপর আস্থা ১৯১৯ সালের ১৯ আগস্টই তাঁর একটি পত্রে পাওয়া যায়, সেখানে নজরুল বলেন, ‘আপনার এরূপ উৎসাহ বরাবর থাকলে আমি যে একটি মস্ত জবর কবি ও লেখক হব তা হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেব, এ একেবারে নির্ঘাত সত্যি কথা।’

কারণ অন্যত্র এক পত্রে এই আস্থা’র আস্থা যার উপর তাও বলে দিলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা মানুষের হৃদয়’।

নজরুল তাঁর বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া গালাগাল দেয়ার লোকগুলোকে ভয় পেতেন না। সে কারণও তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘হিন্দু লেখক জনসাধারণ মিলে যে ¯েœহ- যে নিবিড় প্রীতি ভালোবাসা দিয়ে আমায় এত বড় করে তুলেছেন, তাদের সে ঋণকে অস্বীকার যদি করি, তাহলে হিন্দু ও ব্রাহ্ম লেখক ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে আমায় কিছুদিন হতে ইতর ভাষায় গালাগালি করছেন এবং কয়েকজন গোঁড়া ‘হিন্দু-সভাওয়ালা’ আমার নামে মিথ্যা কুৎসা রটনাও করে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু এদের আঙুল দিয়ে গোনা যায়। এদের আক্রোশ সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক বা ব্যক্তিগত। এদের অবিচারের জন্য সমস্ত হিন্দু সমাজকে দোষ দিই নাই এবং দিব না। তাছাড়া আজকার সাম্প্রদায়িক মাতলামির দিনে আমি যে মুসলমান এইটেই হয়ে পড়েছে অনেক হিন্দুর কাছে অপরাধ, আমি যত বেশি অসাম্প্রদায়িক হই না কেন।’

নজরুল আরো বলেন, এবং ‘উইট এন্ড হিউমার’কে পুঁজি করে মূল্যায়ন করেন নিজেকে এই বলে যে, ‘বাংলার মুসলমান সমাজ ধনে কাঙাল কিনা জানিনে, কিন্তু মনে যে কাঙাল এবং অতি মাত্রায় কাঙাল, তা আমি বেদনার সঙ্গে অনুভব করে আসছি বহুদিন হতে। আমায় মুসলমান সমাজ ‘কাকের’ খেতাবের যে শিরোপা দিয়েছে, তা আমি মাথা পেতে গ্রহণ করেছি। একে আমি অবিচার বলে কোনোদিন অভিযোগ করেছি বলে তো মনে পড়ে না। তবে আমার লজ্জা হয়েছে এই ভেবে, কাফের-আখ্যায় বিভূষিত হবার মত বড় তো আমি হইনি। অথচ হাফেজ-খৈয়াম-মনসুর প্রভৃতি মহাপুরুষের সাথে কাফেরের পঙক্তিতে উঠে গেলাম।’

নজরুল কারো সমালোচনা থেকে শুরু করে গালি-গালাজকে সামান্যতম ভয় পেতেন না। সাহসের সাথে মোকাবিলা করতেন। জবাব দিতেন হিম্মতের সাথে, সেখানেও সাহিত্য পাওয়া যেত, ‘কি শনিবারের চিঠি! এবং তাতে সে কী গাড়োয়ানি রসিকতা, আর সে মেছো-হাঁটা থেকে ‘ঢু’কে- আনা গালি! এই গালির গালিচাতে বোধহয় আমি একালের সর্বশ্রেষ্ঠ শাহানশাহ্।’

রবীন্দ্রনাথকে কেউ কিছু বলার সাহস হতো না। কিন্তু কেন? এ উত্তরটা জানা ছিল না। বর্তমানে আমাদের বিদগ্ধ তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা এখনো সেভাবেই রবীন্দ্রকে দেখে থাকেন। এরা এমনি অন্ধ যে, নজরুলের জন্ম-মৃত্যু দিনে পর্যন্ত ‘আয় চলে আয় রে ধূমকেতু’ সম্পূর্ণ গরগর করে গৌরবের সাথে পড়েন। কারণ এরা বুঝাতে চান নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ কতটা ¯েœহ করতেন। হয়তোবা আর একটু ভাবেন, রবীন্দ্রনাথ এটা না বললে নজরুলই হতো না, এ যেন আহম্মকের ভাবনা। তারা একবারও নজরুলের বড়র পিরীতি বালির বাঁধ’ পড়েননি। সেখানে নজরুলের প্রতি রবীন্দ্র’র মনোভাব মানসিকতার অন্য রূপটিও প্রকাশ পেয়েছে, সেখান থেকে সামান্য উদ্ধৃত করছি-

‘আজকের ‘বাঙলার কথা’য় দেখলাম, যিনি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের শতপুত্রের পক্ষ হয়ে পঞ্চ-পান্ডবকে লাঞ্ছিত করবার সৈনাপত্য গ্রহণ করেছেন, আমাদের উভয় পক্ষের পূজ্য পিতামহ ভীষ্ম-সম সেই মহারথী কবিগুরু এই অভিমন্যু-বধে সায় দিয়েছেন। মহাভারতের ভীষ্ম এই অন্যায় যুদ্ধে সায় দেননি, বৃহত্তর ভারতের ভীষ্ম সায় দিয়েছেন, এইটেই এ যুগের পক্ষে সবচেয়ে পীড়াদায়ক।’

‘কবির চরণে ভক্তের সশ্রদ্ধ নিবেদন, কবি তো নিজেও টুপি-পায়জামা পরেন, অথচ আমরা পরলেই তার এত আক্রোশের কারণ হয়ে উঠি কেন, বুঝতে পারিনি।’

‘তাঁর কাছে নিবেদন, তিনি যত ইচ্ছা বান নিক্ষেপ করুন, তা হয় সইবে, কিন্তু আমাদের একান্ত আপনার এই দারিদ্র-যন্ত্রণাকে উপহাস করে যেন আর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে না দেন। শুধু ওই নির্মমতাটাই সইবে না।’

আমাদের বিদগ্ধজনরা নিজেরাও যেমন একচোখ বিশিষ্ট হয়ে থাকেন সমাজকেও তেমন করে রাখেন সাহিত্যাঙ্গনকে রাখেন তেমনি করে। ‘বাংলা কাব্য-লক্ষ্মীকে দুটো ইরানি ‘জেওর’ পরালে তার জাত যায়না, বরং তাকে আরও খুবসুরতই দেখায়।’ এমন বিশাল ভাবনায়ও তারা নেই।

নজরুল বলেন, ‘আমি আমার প্রলয়-সুন্দরকে প্রাণপণে ডাকতে লাগলাম, ‘পথ দেখাও, তোমার পথ দেখাও’। কে যেন স্বপ্নে এসে বলল, ‘কোরান পড়ো’ ওতে যা লেখা আছে, তা পড়লে তোমার প্রলয়-সুন্দরকে-আমারও ঊর্ধ্বে তোমার পূর্ণতাকে দেখতে পাবে।’

সমাজকে উন্নত-উদার করতে নজরুলের বাণীগুলো হৃদয়ে সকল সময়ে লালন করা অপরিহার্য-

-‘ইসলাম’ ধর্ম এসেছে পৃথিবীতে পূর্ণ শান্তি সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে-কুরআন মজিদে এই মহাবাণীই উত্থিত হয়েছে।

-এক আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ প্রভু নাই।

-আল্লাহ আমার প্রভু, রসুলের আমি উম্মত, আল-কুরআন আমার পথপ্রদর্শক।

-যে মুসলমানের ক্ষাত্রশক্তিই, যে মুসলমান নয়।

-যে ভীরু সে মুসলমান নয়।

-আমার কাব্যশক্তিকে তথাকথিত ‘খাটো’ করেও গ্রামোফোন রেকর্ডে শত শত 

ইসলামী গান রেকর্ড করে নিরক্ষর তিন কোটি মুসলমানের ঈমান অটুট রাখারই চেষ্টা করেছি।’

-‘ইন্না সালাতি ও নুসুকি ওয়া মাহয়্যায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহে রাব্বিল আলামিন’ ‘আমার সব প্রার্থনা, নামাজ, রোজা তপস্যা জীবন-মরণ সবকিছু বিশ্বের একমাত্র পরম প্রভু আল্লাহর পবিত্র নামে নিবেদিত।’

নজরুল কোরান পড়েছেন। আশ্বস্ত করেছেন এবং বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীত ভা-ারকে সমৃদ্ধ করেছেন, শিখিয়েছেন। আজও কুরআন মুখস্থ করা মুসলমান চারিদিকেই কিন্তু বাংলা অর্থ জানা নেই এবং এই জানা না থাকায় ‘বিভ্রান্তি’ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বদিকে। নজরুল কুরআন পড়ে অর্থ জেনেছেন বাংলায়। এবং নজরুল সাহিত্য-সঙ্গীতে প্রবেশ করলে ইসলাম ধর্মকে অতি নিকটে পাওয়া যাবে। ইসলাম ধর্মকে জানা যাবে। নবী (সা.) জীবন জানা যাবে নজরুলের গানে হামদ-নাত-এ। ঐতিহাসিক সবকিছু। কুরআন-হাদীস সম্পর্কে সত্য-উপলব্ধি এবং আত্মস্থ করে এ অঞ্চলের মুসলমানদের অন্ধত্ব করতে যে পরিশ্রম করেছেন তার তুলনা কোথায়?

এখানে নজরুলের ‘মরু-ভাস্বর গ্রন্থের ‘অনাগত’ কবিতাটির সাথে সূরা ‘আর-রহমান’এর একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। মদীনায় অবতীর্ণ এই সুরাটিতে রয়েছে ৭৮টি আয়াত। এর ১৩নং আয়াত থেকে ৭৭নং আয়াত পর্যন্ত প্রত্যেক শান্তির পর মানুষকে হুঁশিয়ার করার জন্য ‘ফাবিয়াইয়ে আলায়ে রব্বিকুমাহ তুকাজ্জিবান’ আয়াতটি (বাক্যটি) বার বার ব্যবহৃত হয়েছে। সুরার ১৩ থেকে ৭৭ পর্যন্ত মোট ৬৪টি বার এসেছে, ‘অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে।’ নজরুল তার নবী (সা.) জীবন কবিতায় রচিত ‘মরু-ভাস্বর’ গ্রন্থের ‘অনাগত’তেও (সা.)-এর প্রশংসায় এমনি একটি বাক্য তৈরি করেছেন চৌদ্দবার। বাক্যটি ‘কোথায় ওগো সে আলো কোথায়’। এ বাক্যটি এসেছে নয় বার। এবং একই বাণীর বৈচিত্র্য যোগ একটিবার করে পাঁচবার। অর্থাৎ এটা বলা যায়, এই ‘অনাগত’ কবিতাটির রচার সময় নজরুলের ‘সূরা আর রহমান’টি মনে পড়েছিল। যদিও ‘অনাগত’ এই সূরা ‘আর-রহমান’ এর প্রকাশ-উদ্দেশ্য আলাদা। সূরা ‘আর রহমান’ এর ১৩নং আয়াতটি এমন-

‘অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?’ এবং ৭৭নং আয়াতটি ‘অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? ‘অনাগত কবিতাটি ৪ রকম ছন্দে রচিত ৫৪+৪৮+১২+১৮+ = ১৩২টি লাইন। এর ৭৫তম লাইন থেকে ১০২তম লাইন পর্যন্ত উদ্ধৃত করলাম-

আদিম-ললাটে ভাতিল যে আলো ঊষার পূর্ব-গগন-প্রায়।

কোথায় ওগো সে আলো কোথায়!

আলোক, আঁধার, জীবন, মৃত্যু, গ্রহ, তারা তারে খুঁজিছে, হায়,

 কোথায় ওগো সে আলো কোথায়!

খুঁজিছে দৈত্য, দানব, দেবতা, 

‘জিন’ পরী, হুর পাগল-প্রায়,

কোথায় ওগো সে আলো কোথায়! 

খোঁজে অপ্সর, কিন্নর, খোঁজে গন্ধর্ব ও ফেরে শতায়,

কোথায় ওগো সে আলো কোথায়!

খুঁজিছে রক্ষ যঁক্ষ পাতালে, খোঁজে মুনি ঋষি ধেয়ানে তার,

কোথায় ওগো সে আলো কোথায়।

আপনার মাঝে খোঁজে ধরা তারে সাগরে কাননে মরু-সীমার,

কোথায় ওগো সে আলো কোথায়!

খুঁজিছে তাহারে, সুখে, আনন্দে, নব সৃষ্টির ঘন ব্যথায়,

কোথায় ওগো সে আলো কোথায়?

উৎপীড়িতেরা নয়নের জলে নয়ন-কমল ভাসায়ে চায়,

কোথায় মুক্তি-দাতা কোথায়!

শৃঙ্খলিত ও চিরদাস খোঁজে বন্ধ অন্ধকার কারায়,

বন্ধ-ছেদন নবী কোথায়!

নিপীড়িত মূক নিখিল খুঁজিছে তাহার অসীম স্তব্ধতায়,

বজ্র-ঘোষ বাণী কোথায়!

শাস্ত্র-আচার-জগদল-শিলা বক্ষে নিশাস রুদ্ধ 

 

প্রায়

খোঁজে প্রাণ, বিদ্রোহী কোথায়!

খুঁজিছে দুখের মৃণালে রক্ত-শতদল শত ক্ষত ব্যথায়,

কমল-বিহারী তুমি কোথায়।

আদি ও অন্ত্র যুগযুগান্তর দাঁড়ায়ে তোমার প্রতীক্ষায়,

চির-সুন্দর, তুমি কোথায়!

বিশ্ব-প্রণব-ওস্কার, ধ্বনি অবিশ্রান্ত গাহিয়া-যায়,

তুমি কোথায়, তুমি কোথায়।

নজরুল সাহিত্য-সঙ্গীতের মাধ্যমে বাংলার মানুষরা ইসলামের এত ঘনিষ্ঠ হতে পেরেছে। ইসলামের এত বাণীর মাধ্যমে ইসলামকে চিনতে পেরেছিল, জানতে পেরেছিল। তাই নজরুল শুধু কবি, সাহিত্যিক সঙ্গীত ও প্রাবন্ধিকই নন, তিনি একজন ওলামাও। সঠিক পথে ইসলামকে মানুষের মনকে উদ্বেলিত করা, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা, মানবতার অবদান-মানবতা শব্দটিতো ইসলামই জগতে এনেছে। নিপীড়িত, নিষ্পেষিতের দমন তো ইসলামই শিখিয়েছে। মানুষে মানুষে ভাই ভাই এতো ইসলামেরই শিক্ষা। নজরুলের মাধ্যমে এসব উঠে এসেছে। নজরুল উদ্বুদ্ধ করেছেন এ অঞ্চলের মানুষদেরকে খাঁটি পথের সন্ধানে-

‘হযরত ওমর, হযরত আলী এঁরা অর্ধেক পৃথিবী শাসন করেছেন, কিন্তু নিজেরা কুঁড়ে ঘরে থেকেছেন, ছেঁড়া কাপড় পরেছেন, সেলাই করে, কেতাব লিখে, সেই রোজগারে দিনপাত করেছেন। ক্ষিধের পেটে পাথর বেঁধে থেকেছেন; তবু রাজকোষের টাকায় বিলাসিতা করেননি, এমন ত্যাগীদের লোকে বিশ্বাস করবে না কেন?

কওমের সত্যিকার কল্যাণ করতে হলে ত্যাগ করতে হবে হযরত ইব্রাহীমের মতো।’

নজরুল তাই সদা-সর্বদা উচ্চস্বরে বলেন,

আমি ভিক্ষুক কাঙালের দলে-       

কে বলে ওদের নীচ?

ভোগীরা স্বর্গে যাবে, যদি খায়           

ওদের পানের পিচ!

ওরা হাসে, ‘একি কবিতার ভাষা?           বস্তিতে থাক বুঝি?

আমি কই, ‘আজো পাইনি পুণ্য          

 বস্তির পথ খুঁজি?

দোওয়া করো, যে ঐ গরীবের           কর্দমাক্ত পথে

যেতে পারি এই ভোগ-বিলাসীর           

পাপ-নর্দমা হতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ