ঢাকা, শনিবার 26 May 2018, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক বাতিলে হতাশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

২৫ মে, রয়র্টাস : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আলোচনার দুয়ার খোলা রেখে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।  

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার (২৪ মে) উনের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত নতুন এজেন্ডা উপস্থাপন করতে গিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতার মধ্যে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক বাতিল হওয়ায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে মাথা ঠান্ডা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল সিঙ্গাপুরে। বৈঠকটি বাতিলের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে দেশটি। ‘কোরীয় উপদ্বীপে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা’ অব্যাহত থাকবে বলে আশা জানিয়েছে তারা। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইটার পোস্টে লিখেছে, ‘ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে ১২ জুন নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ায় সিঙ্গাপুর হতাশ। সিঙ্গাপুর আশা করে, কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং সংলাপ অব্যাহত থাকবে।’ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে হতাশা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১২ জুন ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা আর হচ্ছে না শুনে আমরা হতাশ হয়েছি।’ থেরেসা মে’র মুখপাত্র ‘কোরীয় উপদ্বীপে পূর্ণাঙ্গ, যাচাইযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের’ জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই লক্ষ্যে পৌঁছাতে যুক্তরাজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাবে।

রাশিয়া সফরে থাকা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি আশা করেন, ‘ট্রাম্পের এ বক্তব্যটি চলমান সংলাপ প্রক্রিয়ার একটি ত্রুটিমাত্র।’

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমরা বৈঠকের ওই পদক্ষেপকে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা প্রশমনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছিলাম। ভেবেছিলাম, এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ পর্বের সূচনা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতার মধ্যে বৈঠকের পথ প্রশস্ত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের হাত ধরে। ওই বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মুন জায়ে ইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ