ঢাকা, শনিবার 26 May 2018, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্যাসসংকট নিরসন করুন

মহানগরী ঢাকায় তীব্র গ্যাসসংকট চলছে। গ্যাসের অভাবে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ। গ্যাস না পেয়ে রমযানে রান্নাবান্নাসহ ইফতারি প্রস্তুত করতে পারছেন না গৃহিণীরা। সিয়াম সাধনার মাসে সায়েমদের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। তাই গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীলদের টনক নড়ছে না। এই গ্যাসসংকট নিত্যদিনের হলেও রমযানে ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা। চুলায় রান্না করতে গিয়ে চোখের পানি নাকের পানি একাকার। অনেকে দূরের স্বজনদের বাসা থেকে খাবার রান্না করে আনছেন। কিন্তু এভাবে কদ্দিন চালানো সম্ভব? ঢাকা দক্ষিণ হোক কিংবা উত্তর সব জায়গায় একই অবস্থা। বিশেষ করে শ্যামলী, কল্যাণপুর, পাইকপাড়া, আহমদনগর, পীরেরবাগ, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, জুরাইন, মালিবাগ, রামপুরার উলন, মগবাজার এলাকায় গ্যাসসমস্যা প্রকট। গ্যাস দিয়ে রান্না করতে অভ্যস্থ গৃহিণীরা লাকড়ির চুলোয় পাক করতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। আবার বাড়িওয়ালারাও লাকড়ির চুলো জ্বালাতে বারণ করছেন। কারণ দেয়ালে কালি পড়ার আশঙ্কা। তাই রমযানে রান্না নিয়ে চোখে সরষেফুল দেখছেন ভুক্তভোগীরা। গ্যাসের বিল দিতে হয় ঠিকই। অথচ প্রয়োজনের সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গ্রাহকরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। সামর্থ্যবানরা সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে বৈদ্যুতিক হিটার বা চুলো ব্যবহার করছেন। এসব করতে গিয়ে মানুষের সমস্যা বাড়ছে। বিলও বাড়ছে কয়েক গুণ বেশি।
গ্যাসসংকটে মহানগরীর কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি ও সিয়াম পালনের পর শান্তিতে ইফতার ও সাহরিগ্রহণ করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এগুলো তৈরি করতে না পারায় ছুটতে হয় হোটেল-রেস্তোরাঁয়। বাধ্য হয়ে এসব খাবার কিনতে হয় বেশি দামে। তাও মানের নিশ্চয়তা নেই। গ্রাহকের প্রতি সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতার অভাবেই এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করায় গ্রাহকরা দুর্ভোগে পড়ছেন।  একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারি অবৈধভাবে বাসাবাড়ি, দোকান ও বস্তিতে গ্যাসসংযোগ দেয়াতে গ্রাহকদের সমস্যা হয়  বেশি। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকরা খেসারত দেবেন কেন? লোক দেখানো অবৈধ সংযোগ মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয় বটে। তবে দুয়েক দিনপর আবার যেইকেসেই। আগে গ্যাসসংকট হতো শীতকালে। অবৈধ সংযোগ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় এখন এ সমস্যা সার্বক্ষণিক। এ সমস্যা কবে কাটবে, কেউ বলতে পারছেন না। তাই অনিশ্চয়তার গ্যাঁড়াকলে আটকে পড়ছেন গ্যাসের বৈধ গ্রাহকরা।
উল্লেখ্য, দেশে গ্যাসের অভাব নেই। মওজুদও যথেষ্ট। দেশের যেখানেসেখানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। মাটির নিচে শুধু নয়, নদী ও সাগরের তলদেশেও প্রচুর গ্যাস রয়েছে। ভ্তূত্ত্বজরিপ এবং সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞমহলের সূত্রমতে, এ দেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে। এ কথা একেবারেই যে অমূলক তা নয়। সেটার প্রমাণও প্রায় পাওয়া যায়। অনেক এলাকায় নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে গ্যাস উঠে আসে। গ্যাসের চাপে বিস্ফোরণ ঘটবার খবরও মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তাই গ্যাস উত্তোলন সময়ের দাবি। তবে সমস্যা আছে। আর তা হচ্ছে নীতি-নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও আদর্শের।
অভিযোগ উঠেছে, একটি মহল কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাস আমদানিকে বৈধতা দেবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির নয়, নিজের ও কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে এসব হচ্ছে বলে কানাঘুষা চলছে। কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে এদের হাত করে বিনাশী খেলায় মেতে উঠেছে। এসব দেখবার কেউ নেই। গ্রাহক সাধারণের ভোগান্তিতে তাদের কী আসে-যায় ! সূত্রমতে, গ্যাসখাতে বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে। একসময় বিপাকে পড়ে স্বেচ্ছায় এমন তথ্য দেন দুর্নীতিপরায়ণরাই। মাটির নিচের পাওয়া প্রাকৃতিক এ সম্পদ গ্যাসের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। বরং হরিলুটের মালে পরিণত করেছে দুর্নীতিবাজরা। সাধারণ গ্রাহকরা যথারীতি বিল পরিশোধ করে রান্নাবান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না এ রমযানেও। অথচ গ্যাস নিয়ে নয়-ছয় করে রাজার হালে আছে দুর্বৃত্তরা। তাই গ্যাসখাতের সবরকম লুটপাট বন্ধ করে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ দেয়া জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ