ঢাকা, শনিবার 26 May 2018, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশ রোকনপুর মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

শাহজাহান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): তাড়াশ রোকনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার ও বরখাস্থকৃত ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে মাদ্রাসাটির শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক বরাবর রোকনপুর ও দামড়া গ্রামবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আত্মীয় ও স্বজনদের নিয়ে গোপনে মনগড়া কমিটি গঠন করেন বর্তমান সুপার মো. দলিলুর রহমান। সেই কমিটির অনুমোদনে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ২/১০/১৭ তারিখে মাদ্রাসাটির সুপারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। সুপারের বাবা নেজাহার আলী ফকিরকেও রাখা হয়েছে কার্যকরী কমিটিতে। আবার ২/৪ জন আছেন যারা জানেনও না তাদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
অভিযোগ পত্রে আরো বলা হয়েছে, মাদ্রাসাটির মঞ্জুরী মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১২ সালে। অথচ মঞ্জুরী তারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে ১২ সালকে ২০১৭ সাল বানিয়ে ৫ জন শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মাদ্রাসা ও সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন, উপবৃত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, আয়-ব্যায়ের হিসাব না দেওয়া, দিনের পর দিন মাদ্রাসায় না এসেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সুপার মো. দলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি।
সুপার দলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যে। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার আবুল কাশেম আজাদ স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ব্যাংক হতে ৫ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেন। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এরপর পরিচালনা কমিটি আব্দুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ করেন। পরবর্তীতে আবুল কাসেমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনিও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর নিয়মানুযায়ী তাকে (মো. দলিলুর রহমানকে) সুপার নিযুক্ত করা হয়। বরখাস্থকৃত ভারপ্রাপ্ত সুপার আবুল কাশেম আজাদ ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হোসেন সম্পর্কে আপন শ্যালক ও ভগ্নিপতি। তারই ইন্ধনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ১৯৭৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাদ্রসার সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে রোকনপুর ও দামড়া গ্রামবাসীর সঙ্গে শুধু মাত্র একজন সমর্থক হিসেবে রয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি। এবতেদায়ি ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি শূন্য। দশম শ্রেণিতে ১ জন, ৯ম শ্রেণিতে ৬ জন, ৮ম শ্রেণিতে ৫ জন, ৭ম শ্রেণিতে ৪ জন এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৫ জন ছাত্র ছাত্রীর পাঠদান চলছে।
এসময় শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান, শাহাবুদ্দিন, উজ্জল হোসেন, মিজানুর রহমান, হাবিবা খাতুন, ডালিয়া খাতুন, নীলা পারভিনসহ অনেকে জানান, তারা অনিয়ম আর দুর্নীতি বুঝতে চান না। পড়া-লেখার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ চান। মাঝে-মধ্যেই তাদের মাদ্রাসা নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়।
এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করেন। বর্তমান কমিটি বাতিল ও সুপার অপসারণের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন একটি পক্ষ। সব মিলিয়ে ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি একেবারে কমে গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন বলেন, সঙ্গত কারণে মাদ্রাসাটির শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা ভেঙে পড়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম ফেরদৌস ইসলাম জানান, বর্তমান সুপারের বিরুদ্ধে আনিত রোকনপুর ও দামড়া গ্রামবাসির সকল অভিযোগ তদন্তাধীন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ