ঢাকা, রোববার 27 May 2018, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর একটা বহুমুখী ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বহুদিন পর এক মঞ্চে উঠেন। এই বিষয়টা ছিল প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের জন্য বহুল আকাক্সিক্ষত। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে মমতা ব্যানার্জীর জন্যেই তিস্তা চুক্তি আটকে আছে। ন্যায্য ও কার্যকর তিস্তার পানি বন্টন মমতার উপর কতটা নির্ভরশীল আমরা জানি না। তবে দেখার বিষয় যে মমতার অংশগ্রহণ তিস্তার সফল ও কার্যকর চুক্তির জন্য কতটা কি করে। প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফরকালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মমতা ব্যানার্জীও। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ বাংলাদেশ ভবন দুই রাষ্ট্রের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের আর এক ধাপ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী একে অন্যের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলোচনার সুযোগ পেয়েছেন। আশার কথা যে উভয় রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের সকলে সহযোগিতার কথা বলেছেন এবং সম্পর্ককে আরো সামনে এগিয়ে নেবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো বলেন, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্ব অপরাপর দেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি দৃঢ়কন্ঠে ঘোষণা করেন উভয় দেশ সহযোগিতার এই মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে তার দেশ সবসময় পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ভারত বাংলাদেশ দুটি আলাদা দেশ কিন্তু সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে হোক কিংবা সরকারি নীতির দিক দিয়ে হোক, আমরা একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের যোগসূত্র রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সেই ১৯৭১ সাল থেকে অবিরল ও অবিচল। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক চিরকাল ছিল, আছে ও থাকবে। এই সাথে মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধুর নামে বঙ্গবন্ধুভবন’ তৈরি করতে চান বলে ঘোষণা দেন।
বলা যায় কথাবার্তা, ঘোষণা, প্রতিশ্রুতি সবই আশাব্যঞ্জক। তবে বাংলাদেশের মানুষের নিরাশার দিক একটাই হতে পারে সেটা হলো বাংলাদেশের জন্য জীবন মরণ সমস্যা তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বন্টন বিষয়ে কোনো কথা কেউ বলেননি। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর এবং সেখানকার অনুষ্ঠান কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য ছিলো না। সুতরাং সমস্যা নিয়ে আলোচনার প্রশ্নটা অবান্তর। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সমস্যার কথা তুলেন, অতীতে যেসব সমস্যার সমাধান হয়েছে তারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু সমস্যা বিদ্যমান। প্রতিবেশী দেশ হিসাবে এ ধরনের সমস্যা থাকাটাই স্বাভাবিক। এখানে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা সমস্যার কথা তুললে নিশ্চয় অপ্রাসঙ্গিক হতো না। কারণ তিস্তা সমস্যা ‘কিছু’ সমস্যার মতো নয়। বিশেষ করে মমতা ব্যানার্জীর উপস্থিতিতে কথাটা উঠলে সম্ভবত ভালোই হতো। মমতা ব্যানার্জীর বাংলাদেশ সম্পর্কে কথাবার্তা আন্তরিক ও আশাব্যাঞ্জক ছিল। তবে শান্তিনিকেতন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর একসাথে অংশগ্রহণ এবং আলোচনার মাধ্যমে শুভেচ্ছাসিক্ত যে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা শুভ ফল দিবে বলে আমরা মনে করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ