ঢাকা, সোমবার 28 May 2018, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রূপসা রেল সেতুর প্রথম স্প্যান বসছে জুনে

খুলনা অফিস : খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের রূপসা সেতুর প্রথম স্প্যান বসছে জুনে। প্রকল্পের খুলনা অংশে এ স্প্যান বসবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল খুলনায় আনা হয়েছে। এছাড়া সেতু এলাকায় দুই শতাধিক পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্প্যান বসানোর পর দৃশ্যমান সেতু দেখতে পারবে খুলনাবাসী। এদিকে রূপসা রেল সেতুর পাশাপাশি খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল রূপসা রেল সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হয়। এরপর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দুই দফায় পাইল টেস্ট করা হয়। তবে এ সময়ে তা ফেল করে। দু’দফায় ৪০ ও ৫২ মিটার দৈর্ঘ্যরে পাইল লোড টেস্ট ফেল হওয়ার পর রেল ভবনে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রেরণ করেন খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মজিবর রহমান। পরে ডিজাইন পরিবর্তন করে সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৫২ মিটার দৈর্ঘ্যরে আরেকটি পাইল লোড টেস্ট করলে সেটি সফল হয়। সফল পাইল লোডটেস্ট হওয়ার পর গত ১৫ অক্টোবর রূপসা রেল সেতুর পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন। এছাড়া খুলনা অংশের জমি ২০১৬ সালের ৩ নবেম্বর এবং বাগেরহাট অংশের জমি ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি বুঝে পেয়েছিলো প্রকল্প কর্মকর্তারা। ফলে ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হলেও কাজে কিছুটা ধীর গতি দেখা দেয়।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের দাবি, সব ঠিক থাকলে নির্মাণকাজ শেষ হলে ২০২০ সালের মধ্যে মংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। তবে এর আগে ফুলতলা থেকে আড়ংঘাটা পর্যন্ত রেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এ বছরই।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রূপসা রেল সেতুর খুলনা অংশে প্রথম স্প্যান বসানো হবে। মাটি থেকে ১৬ মিটার উঁচুতে এই স্প্যান বসানো হবে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৩২ দশমিক ৫ মিটারের গার্ডার প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। সর্বমোট ১৪২টি স্প্যান বসানো হবে। প্রথমটি বসানোর পর পর্যায়ক্রমে এগুলো বসানো হবে। রূপসা রেল সেতু নির্মাণের জন্য ৯৫৮টি পাইলিং করার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৮৮৬টি নদীর দুই পাড়ে এবং ৭২টি নদীর অভ্যন্তরে পাইলিং করতে হবে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রেলপথ নির্মাণের জন্য ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন ইউআইসি রেলপাটি প্রয়োজন হবে। যা ইতোমধ্যে আনা হয়েছে। মূল রেলপথের সাথে নতুন করে খুলনা ও মংলার ৮টি স্টেশনে প্রবেশের জন্য এ্যাপ্রোচ রোডের প্রয়োজন হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে জমি অধিগ্রহণের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। খুলনা অংশের অনুমোদন হয়েছে। তবে বাগেরহাট অংশ এখনো অনুমোদন হয়নি। এখন ফুলতলা স্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যাযে। ফিনিসিংয়ের কাজ চলছে। এছাড়া আড়ংঘাটা ও মোহাম¥দ নগর রেল স্টেশনের বালু ভরাটের কাজ চলছে। মংলাতে ৭টি অফিস বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকার মোট ৩১টি ছোট-বড় ফুলতলা থেকে মোহাম্মদনগর পর্যন্ত ১৫টি ব্রীজের মধ্যে ১০টির কাজ চলছে। ৮টি ব্রীজের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ তিনটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি রেল সেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। এ প্রকল্পে ৭৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে। অধিগ্রহণের জন্য খুলনার ৪০১.২৭৯০২ একর, বাগেরহাটের ২৭৫.০২৫৭ একর ও মংলা কর্তৃপক্ষের ৭৩.৩৫৭ একর জমি প্রয়োজন। প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। এর মধ্যে রূপসা নদীর উপরে হযরত খানজাহান আলী সেতুর দেড় কিলোমিটার দূরে যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতু। এছাড়া ২১টি ছোটখাট ব্রীজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে। ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মংলা।
প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে, এ সময়ে সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং ব্রীজের জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকী টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের ইরকন সাথে চুক্তি হয়েছে। আর ব্রীজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন এন্ড ট্রাব নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পরে ২০১২ সালের নবেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ