ঢাকা, সোমবার 28 May 2018, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাউন্সিলরসহ বন্দুকযুদ্ধে ১১ নিহত

স্টাফ রিপোর্টার : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ পৌর কাউন্সিলরসহ ১১জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৬শজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর, টেকনাফ, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঝিনাইদহে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের সংবাদাতারা মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ও  বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। 
 মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনীতে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হাফিজুল ইসলাম ওরফে হাফি (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাঁড়াবাড়িয়া বাথান মাঠ এলাকার এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশী পিস্তল ও ১১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।
নিহত হাফিজুল ইসলাম গাংনী ডিগ্রি কলেজপাড়া এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হারেজ উদ্দীনের ছেলে।
গাংনী থানার ওসি হরেন্দনাথ সরকার জানান, রাত আনুমানিক ১ টা ৩৫ মিনিটের সময় গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথান মাঠ এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধাঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলীবিদ্ধ হাফিজুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। পরে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এমকে রেজা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলবে আজ ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম (৩৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলার হাজীর ডোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাদক ব্যবসায়ী সেলিমের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী ইউনিয়নে।
বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিঠুন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহত মিঠুন উপজেলার ওই এলাকার খোকা বিশ্বাসের ছেলে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চিংগুরি মোচন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলী, দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ জানায়, থানা ও ডিবি পুলিশ ৭ মাদক মামলার আসামী সেলিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলী চালায়। এতে সেলিম গুলীবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ দুপুরে তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে জানিয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ কুতুবউদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৪ রাউন্ড গুলী, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১শ’ ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় ৭ মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শনিবার দিবাগত রাতে মাদক ব্যবসায়ী হালিম মন্ডল (৩৫) নিহত হয়েছেন। শহরের হাউসিং ডি ব্লক মাঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলী ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি এ ঘটনায় তাদের ৪ সদস্য আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশে শহরের হাউসিং ডি ব্লক মাঠে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে মডেল থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়ে। জবাবে পুলিশ ও পাল্টা গুলী চালায়। বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলীবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
পুলিশ জানায়, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হালিম মন্ডল এলাকার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ নগরীর মরাখলা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহতের পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে মাদকও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, নিহত ওই যুবকসহ আরো কয়েকজন মাদক ভাগাভাগি করছিল।
ডিবি ওসি আশিকুর রহমান জানান, নগরীর মরাখলা এলাকায় কিছু মাদক ব্যাবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে। এমন খবরে রাত দেড়টার দিকে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথারী গুলী ছুঁরে। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলী ছুঁড়ে। পরে বেতারে খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের ডিউটিরত মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে এসে গুঁলি ছোড়ে।
এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে অজ্ঞাত (২৬) এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বন্ধুকযুদ্ধে ডিবির কনস্টেবল হুমায়ুন এবং কনেস্টবল আমীর হামজা আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, ৪টি গুলীর খোসা, ২টি রামদা ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলেও জানান ডিবি’র ওসি আশিকুর।
টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে একরামুল হক নামের এক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর।
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলা সদর ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত একরাম টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বলে জানা গেছে।
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন বলেন, টেকনাফে ইয়াবা পাচারের খবর পেয়ে নোয়াখালী পাড়ায় একব্যক্তির গতিরোধ করে র‌্যাব। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ী গুলী ছুঁড়ে। র‌্যাব আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলী ছুড়ে। এতে গুলীবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই ইয়াবা ব্যবসায়ী।
তিনি আরো বলেন, এসময় তার কাছ থেকে ১০হাজার পিছ ইয়াবা, একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রণজিৎ কুমার বড়ুয়া বলেন, নিহত একরামুল হক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। রাত ১টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রফিকুল ইসলাম তালেবান নামে ৫১ বছর বয়সী এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন।  নিহত রফিকুল রানীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া (শিয়ালডাম্গী) গ্রামের হুমাউন কবিরের ছেলে।
শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, এক শ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ঠাকুরগাঁও জেলায় এটি তৃতীয় বন্দকযুদ্ধের ঘটনা।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহতের সত্যতা  নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রাতে রাণীংশকৈল উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে যায় পুলিশ। মহারাজাগামী রাস্তা দিয়ে দুর্লভপুর গ্রাম এলাকায় যাওয়ার পর মাদক কারবারি রফিকুলসহ ১০/১২ জন চোরাকারবারি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলী চালায়।
১০/১৫ মিনিট ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধের পর চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ধানক্ষেত থেকে রফিকুলকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, বন্দুকযুদ্ধের পর  ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান,কিছু ধারালে অস্ত্র ও এক শ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।
নিহত রফিকুলের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে আটটি মামলা আছে বলে ওসি আব্দুল মান্নান জানান।
এর আগে গত ২৩ মে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গীর পারুয়া গ্রামের ভেলসা মোহাম্মদের ছেলে আপতাফুল (৩৮) নিহত হয়। এছাড়া গত ২৬ মে আরেক বন্দুকযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদরের ছিট ছিলারং গ্রামের শফির উদ্দীনের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে কুট্রি (৪৪) নিহত হয়। দুজনই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছিল।
 ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দা জামতালা নামক স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘সংঘর্ষে’ অজ্ঞাত এক যুবকের গুলীবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। তার নাম পরিচয় পুলিশ জানাতে না পারলেও সে শৈলকুপার শেখপাড়া এলাকার মোল্লাপাড়ার সাকিম মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম লিটন (৩৬) বলে এলাকাবাসী সনাক্ত করেছে। শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার বড়দা জামতালা গোরস্থানের পাশে কথিত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, রাত ২টার দিকে মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগী নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলী হয়। এতে অজ্ঞাত ওই যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তিনি বলেন মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুলী বিনিময়ের পর ঘটনাস্থলে একটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় ১ টি ওয়ান শুটারগান, ইয়াবা ও ফেনসিডিল পড়ে আছে। নিহত যুবক মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানায়। তবে নিহতর নাম পরিচয় এখনো পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি বলেও ওসি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাত ১টার পর থেকেই বড়দা জামতলা এলাকায় গুলীর শব্দ শুনতে পারেন তারা। পরে একজনের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে গুলীবিদ্ধ লাশটি মাদক ব্যবসায়ী লিটনের। সে এলাকা ছেড়ে শান্তিডাঙ্গা এলাকায় পালিয়ে ছিল। এদিকে মাদক বিরোধী অভিযানের পর পুলিশের তালিকা ভুক্ত শেখপাড়া বাজারের সবচে বড় মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, বকুল জোয়ারদার ও শিকদার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছে। তারাই মুলত ওই এলাকার বড় ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযানে ২০০ মাদক ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৬০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত নওগাঁর ১১টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তালিকাভুক্ত ৯ মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মামলায় ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া, বিশেষ অভিযানে জামালপুরে মাদক ব্যবসায়ীধসহ ৫৫ জন এবং ময়মনসিংহ, যশোর, সাতক্ষীরা, রংপুর, গাজীপুর, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কিশোরগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে সাড়ে চার শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাজারীবাগে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১২৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। রোববার দুপুর ৩টার দিকে সাতরাস্তা থেকে কারওয়ান বাজার রেল লাইনের দুই পাশের বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকার সব ঘরেই তল্লাশি চালানো হয়। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারীসহ ৪৭ জনকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর আগে, সকালে রাজধানীর হাজারীবাগে অভিযান চালিয়ে ৭৮ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা মাদক ব্যবসায়ী।
দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘অভিযানে আমরা ৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছি, এরমধ্যে ৪ জন নারী। যাদেরকে ধরা হয়েছে, তাদেরকেও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে; তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
সীতাকু- (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : সীতাকুন্ডে পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' মো.রায়হান উদ্দিন প্রকাশ রেহান (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী হয়েছে। এতে সীতাকু- থানার দুই উপ-পরিদর্শকসহ ৫ পুলিশ আহত হয়েছে। গত শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলীয়াখালী সন্দ্বীপ ফেরী ঘাট এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান উপজেলার গোলাবাড়িয়া এলাকার মরহুম মালিউল হকের পুত্র। বন্ধুকযুদ্ধে আহত পুলিশরা হলেন,এসআই মাহফুজুর রহমান,নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া,এএসআই হাসান তারেক,পুলিশ সদস্য জহির হাসান ও সালাউদ্দিন।
অভিযানকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি দেশীয় বন্দুক, ১টি দা, ২টি ছুরি, ১০ রাউন্ড গুলী ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে জাফর,কালা সুমন ও টিটু নামে নিহত মাদক ব্যবসায়ী রায়হানের তিন সহযোগীকেও আটক করেন পুলিশ।
জানা যায়,রাতে মাদক বিরোদী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকের আস্তানার খবর পেয়ে গুলীয়াখালী সন্দ্বীপ ফেরীঘাট এলাকায় উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান,নাছির উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী রায়হান ও তার সহযোগীরা গুলীছুঁড়ে। এতে আতœরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টাগুলী চালায়। বন্ধুকযদ্ধের এক পর্যায়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে রায়হানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
সীতাকু- থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক জানান,নিহত রায়হান একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী। তার বিরুদ্ধে সীতাকু- থানায় মাদক,খুন ও ডাকাতির ৮টি মামলা রয়েছে। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে  ২টি দেশীয় বন্দুক, ১টি দা, ২টি ছুরি, ১০ রাউন্ড গুলী ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি জাফর,কালা সুমন ও টিটু নামে রায়হানের তিন সহযোগীকে আটক করেছে।
খুলনা অফিস : খুলনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আবুল কালাম মোল্লা (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় তাদের ছোড়া ককটেলে এএসআই মো. আমান উল্লাহ ও এএসআই পলাশ মৈত্র আহত হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। শনিবার দিবাগত রাত পৌণে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের খেয়াঘাট সংলগ্ন শ্মশান ঘাটে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত কালাম পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ইছামতি গ্রামের কাইয়ুম মোল্লার ছেলে। তিনি মাদকের পাইকারি বিক্রেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, খুলনা  জেলা গোয়েন্দা বিভাগ ও দিঘলিয়া থানা পুলিশের যৌথ মাদক বিরোধী দল গত ২৬ মে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দিঘলিয়া থানার মুজদখালি-সিদ্দিপাশা শ্মশানঘাটে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দু’টি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাত ৪ ব্যক্তি আসতে থাকে। রাস্তার উপর পুলিশ দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় আগন্তুক দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে একাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলী চালায়। সন্ত্রাসীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ককটেলে এএসআই মো. আমান উল্লাহ ও এএসআই পলাশ মৈত্র আহত হন। এ সময় গোলাগুলী ও বোমার শব্দ শুনে আশে পাশের মানুষজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় উপস্থিত জনগণের সহায়তায় পুলিশ সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলীতে আহত একজন সন্ত্রাসীকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক পরীক্ষান্তে আহত সন্ত্রাসীকে মৃত বলে ঘোষণা করে। আহত পুলিশ সদস্যদ্বয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। পুলিশ স্থানীয় জনতার উপস্থিতে তল্লাশি পূর্বক ঘটনাস্থল থেকে ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪টি ককটেল বোমা, একটি ২২ বোর সাদৃশ্য এয়ারগান, টু-টু বোর রাইফেলের ৪ রাউন্ড গুলী ও  নাম্বার বিহীন একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
খুলনার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ জানান, মাদক ব্যবসায়ী কালাম বারাকপুর গ্রামে তার ভগ্নিপতির বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার দিবাগত রাত পৌণে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর নদীর খেয়াঘাট সংলগ্ন শ্মশান  ঘাটে মাদক উদ্ধারে গেলে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলী চালায়। গুলী বিনিময়ের একপর্যায়ে কালাম গুলীবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি শটগান, চারটি ককটেল এক রাউন্ড রাইফেলের গুলী ও নম্বর প্লেটবিহীন একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, নত্রকোনা:নেত্রকোনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই মাদক বিত্রেুতার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৬ মে)বিকালে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ঈসমাইল ও ওসমানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স করে নিয়ে যান স্বজনরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো বোরহান উদ্দিন খান, উত্তম কুমার রায় (তদন্ত), উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো শাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ  বোরহান জানান , নিহত মাদক বিক্রেতা ওসমান গনি ও ঈসমাইল হোসেনের মরদেহ তাদের সহোদর মোইব্রাহিম ও মাওলা ইসহাক বুঝে নেন। তারা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দিবাগত রাতে নেত্রকোনা সদরের মদনপুর ইউনিয়নের মনাং এলাকায় স্থানীয় মাদক বিক্রেতাদের কাছে মাদক সাপ্লাই দিতে এসে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রতা নিহত হন। পরে পর্যায়ক্রমে ঈসমাইল ও ওসমানের নাম-পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার ৫ পিস ইয়াবা ও ২টি পাইপগান জব্দ করা হয়।
সামছুল আরেফিন জাফর, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ২১ মামলার আসামী মাদক সম্রাট হাসান ওরফে ইয়াবা হাসান পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। নিহত হাসান পৌর এলাকার ভানুয়াই গ্রামের মৃত হানিফের ছেলে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাইমুড়ী থানার এস আই আলমগীর ও এআসআই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোনাইমুড়ী মাছ বাজার থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হাসানকে আটক করে। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উপজেলার বগাদিয়া বেগম খালেদা জিয়া মাদ্রারাসার পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের জন্য আসে।  পুলিশি উপস্থিতি টের পেয়ে হাসানের সহযোগীরা হাসানকে চিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে অজ্ঞাতানামা আসামীদেরকে গুলী ছুড়লে হাসান দৌড়ে পালানোর সময় আসামীদের ছোড়া গুলীতে গুরুতর আহত হয়। পরে গুলীবিদ্ধ হাসানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থলে দুষ্কৃতিকারীদের গুলীতে সোহাগ, গোলাম সামদানী, জহির মজুমদার নামে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ২১ মামলা আসামী নিহত হাসান এর  আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জামিনে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
সোনাইমুড়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাসিম উদ্দিন জানান,  ইয়াবা হাসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ ২১ টি মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বে হাসানকে বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি রামদা, ৩টি লম্বা ছোরা, ১টি দাও ও ১টি বিদেশী ক্রীজ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবেনা। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিহত হাসানের বড় ভাই হুময়ুন কবির মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে হাসান এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে এবং আগামী মঙ্গলবার  সে সাউথ আফ্রিকায় চলে যাওয়ার কথা ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ