ঢাকা, সোমবার 28 May 2018, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোটে সমান সুযোগের প্রশ্ন

‘ভোটে সমান সুযোগ রাখল না ইসি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ২৫ মে তারিখে মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ক্ষমতাসীনদের দাবির দেড় মাসের মাথায় একজন নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির মুখে ২৪ মে এই সংশোধনী আনল ইসি। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংশোধনী আনার ফলে সামনের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে না। এতে ক্ষমতাসীনরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ, স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যরা বেশ প্রভাবশালী, যার যার এলাকায় প্রায় সবকিছু তারাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালায় যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে ইসি, তা সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য পদটি লাভজনক কিনা এটা নিয়ে আমাদের সময় বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। সব পক্ষের সঙ্গে বহু আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন না। তারা শুধু ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। এর কারণ হলো, সংসদ সদস্যরা যখন এলাকায় যান তখন নানা ধরনের প্রভাব তৈরি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন তাদের কথা শোনে। কারণ, আমাদের এখানে স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যরা সবকিছুর শীর্ষে থাকেন। ফলে সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমরা চেয়েছিলাম স্থানীয় সরকারের নির্বাচন স্থানীয়ভাবে হোক। সাবেক এই নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে যথেষ্ট যুক্তি আছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন কেন এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলেন না তা আমাদের বোধগম্য নয়। ফলে ইসির সিদ্ধান্ত জনমনে সৃষ্টি করেছে প্রশ্ন।
সরকারের ইচ্ছা পূরণেই নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলে মনে করেছেন পর্যবেক্ষক মহল। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ গত এপ্রিল মাসে ইসির সাথে বৈঠকে তিনটি দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারে সুযোগ দেয়া, সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন না আনা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কারের আগে তা আরও পর্যালোচনা করা। সরকারি দলের ওই দাবিগুলো একে একে পূরণ হতে চলেছে। ফলে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির  (ইসি) বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এভাবে ইমেজ সংকটে পড়লে প্রতিষ্ঠানটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কতটা সফল হবে তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি ইসির উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ