ঢাকা, সোমবার 28 May 2018, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [চার]
[এই নিবন্ধের পূর্ববর্তী তৃতীয় কিস্তি ১৭ মে ছাপা হয়েছে।]
১৮ এপ্রিল রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে পুলিশ জামায়াত নেতা আবুল হাসান, তার স্ত্রী, ২ কন্যা ও ৩ ভাতিজিকে আটক করে। ২৭ এপ্রিল গাজীপুর মহানগর জামায়াত আমীর অধ্যাপক এস.এম সানাউল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ গাজীপুর মহানগর সভাপতি আজাহার হোসাইন মোল্লা ও পুবাইল সাংগঠনিক থানা আমীর আশরাফ আলী কাজলসহ ৪৫ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ৩০ এপ্রিল সিলেটের কানাইঘাটে নারায়নপুর আগফৌদ গ্রাম থেকে জামায়াত-শিবিরের ১৪ নেতা-কর্মীকে আটক করে। পুলিশ দাবী করে তাদের কাছ থেকে ১১টি কিরিচ, ছোরা, রাম দা ও ১১টি রড উদ্ধার করা হয়।
২০ দলীয় জোট : ৪ এপ্রিল ঝিনাইদাহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২০ দলীয় জোটের ৭৪ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ২০ দলীয় জোটের ২ নেতা-কর্মীসহ ৬৮ জনকে আটক করে। ২৬ এপ্রিল সিলেট মহানগর এলাকা থেকে পুলিশ ২০ দলীয় জোটের ২ নেতাকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- শাহ পরাণ থানা জামায়াতের সেক্রেটারী চৌধুরী আব্দুল বাছিদ ও বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক।
জাতীয় পার্টি : ৩ এপ্রিল জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দিঘপাইত বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে জাতীয় পাটির এমপি মামুনুর রশীদ জোয়ারদারের ভতিজা আনিসুর রহমান জোয়ারদার ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম লাভলুকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।
খেলাফত মজলিস : ২৫ এপ্রিল মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা পশ্চিম জোন সহকারী পরিচালক ও সাবেক মানিকগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শেখ মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে আটক করে।
জাসদ : ৮ এপ্রিল নরসিংদীর পলাশে যুবলীগের উপর জাসদ জেলা সভাপতি জায়েদুল কবীরসহ তার লোকজনের হামলা ও গুলীবর্ষণ করা হয়। হামলায় এলাকায় ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি হয় এবং বাংলা ভিশনের ক্যামেরাপার্সন মাসুম ও এনটিভির প্রদীপ সাহা আহত হয়।
তরিকত ফেডারেশন : ১৬ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি ও তরিকত ফেডারেশনের মহসচিব এম.এ আউয়ালকে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে দল থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।
জেএমবি : ৫ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় দক্ষিন ধুবনী গ্রাম থেকে জেএমবির সদস্যা আফরোজা নীনাকে আটক করা হয়। ১৭ এপ্রিল নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জর বন্দর এলাকা থেকে জেএমবি সদস্য জান্নাতুল নাঈম মিতুল, মেহেদী হাসান মাসুদ ও আকবর হোসেন সুমনকে আটক করে র‌্যাব-১১। ২২ এপ্রিল খাগড়াছড়িতে ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলা মামলায় ১৫ জেএমবি সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় আদালত।
আনছার আল-ইসলাম : ২৪ এপ্রিল রাজশাহীর বেলপুকুর থানার বানেশ্বর বাজার ও জামিরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আনছার আল-ইসলামের সদস্য রাজু আহমেদ, ফরহাদ হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে র‌্যাব-৫। অন্যদিকে একই দিনে রাজশাহী শহরের কাটাখালী বাজার এলাকা থেকে আনছার আল-ইসলামের সদস্য আফান আলীকেও আটক করে র‌্যাব-৫।
তাবলীগ জামাত : ২৮ এপ্রিল ঢাকার রমনার কাকরাইল মসজিদে তাবলীগ জামায়াতের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম গ্রুপ ও মাওলানা জুবায়ের হাসান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পরে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় মাওলানা জুবায়ের হাসান ও সৈয়দ ওয়াছিফুল ইসলাম আগামী ১ মে পর্যন্ত কাকরাইল মসজিদে আসবেন না। এ ছাড়া মাওলানা আব্দুল্লাহ্, ডঃ এরতেজা হাসান, প্রকৌশলী মাহফুজ হাসান এবং আজগর আলীও সাময়িক ভাবে কাকরাইল মসজিদে আসবেন না।
জেএসএস : ১১ এপ্রিল রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের তারাছড়া গ্রামে জেএসএস-এনএম লারমা গ্রুপের হাতে ইউপিডিএফ নেতা জনি তংচংগ্যা চাকমা খুন হয়। ২৪ এপ্রিল খাড়ছড়ির পানছড়ির গহিন অরণ্যে বেয়াংছড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর মধ্যে ২ ঘন্টা ব্যাপী গোলাগুলিতে ২ জন আহত হয়। ২৯ এপ্রিল খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্ত্বরে পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় আহবায়ক মাইন উদ্দিন, যুগ্ম-আহবায়ক এস.এম মাসুদ রানা এবং বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন এক মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অভিযোগ করেন যে, ১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল খাগড়াছড়িতে পানছড়ি, দীঘিনালা ও মাটিরাঙ্গায় ৩টি গনহত্যার মাধ্যমে ২৪৩৫ জন নীরিহ বাঙ্গালীকে হত্যা করে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার তথাকথিত শান্তি বাহিনী। তারা শুধু হত্যাই করেনি বরং অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বাঙালী নারীদের ধর্ষণ, হত্যা ও প্রতিটি লাশ বিকৃত করে চরম অমানবিক আচরণ করে। তারা ওই ঘটনার বিচারসহ সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করার দাবী করেন।
ইউডিপিএফ : ১১ এপ্রিল রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের সাবেক্ষং ইউনিয়নের বেতছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফ-এর হাতে জেএসএস নেতা সাধন চাকমা খুন হয়। ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি সদরের আপার পেড়াছড়া এলাকায় ইউপিডিএফ-এর দলীয় গ্রুপিং-এ সূর্য বিকাশ চকমা খুন হয়। সূর্য বিকাশ চাকমা বার্মা গ্রুপের সদস্য প্রতিপক্ষ প্রসিত গ্রুপের লোকেরা এই হত্যাকান্ড করে বলে ধারনা করা হয়। একই দিন বাবু চাকমা নামে প্রসিত গ্রুপের একজন ছুরিকাহত হয়ে আহত হয়।
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ : ২৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কাছে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এবং জনসংহতি সমিতি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দীপন চাকমা ও সজীব চাকমাসহ ৬ জন আহত হয়।
পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পাটিং (সর্বহারা) : ২৪ এপ্রিল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চরমপন্থী পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির পরিচয়ে সর্বহারা পার্টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ প্রীতিশ তরফদার ও মেডিকেল অফিসার ডা. মোবাশসিরুল ফেরদৌসের নিকট সকাল ১০.৪২ মিঃ ০১৭৩১-৮০৮৭০০ মোবাইল নম্বর থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
[সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ