ঢাকা, সোমবার 28 May 2018, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গোমতী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি বিলীন

দাউদকান্দি লক্ষ্মীপুর চকেরবাড়ি-নতুনপাড়া গোমতি নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে (শুক্রবারের ছবি)

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : দাউদকান্দি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত গোমতি নদীর পানির প্রবল স্রোতে এইচটি থ্রি ফেজ বিদ্যুত লাইন, সেনা অফিসারের বসত ভিটা ও সাবেক প্রধান বিচার পতির গ্রামের বাড়িসহ অসংখ্য ঘর বাড়ী বিলীন হতে যাচ্ছে। ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে উপজেলার গৌরীপুর বাজার ও সংলগ্ন লক্ষিপুর, চকের পাড়া, চরমাহমুর্দ্দি, পাঁচানী, নুরপুর, নন্দনপুর, দৌলতপুর, কৃষ্ণপুর, দোনারচর, খোশকান্দি চান্দেরচর, তিতাসের লালপুর বাজার ও লালপুর নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, শোলাকান্দি, জিয়ারকান্দি, আসমানিয়া, নারান্দিয়া, খোশকান্দি, দাসকান্দি সহ অসংখ্য গ্রামের কয়েক হাজার ঘর বাড়ি বিগত কয়েক বৎসরে গোমতি নদীর করাল গ্রামে বিলিন হলেও ভাঙ্গন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ। তবে কুমিল্লা- ২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কুমিল্লা-১ আসন এর সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূইয়া, তিতাস উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজ নিজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সাহায্যের আশ্বাস দিলেও সরকারি কোন বরাদ্দ আসেনি। গত এক সপ্তাহ ধরে নদী ভাঙ্গন তিব্রতর হওয়াায় ক্ষতিগ্রস্তরা মধ্যে ঘরদোর সরিয়ে নেওয়ার হিরিক পড়ে গেছে ভাঙ্গনকৃত এলাকায়। গত শুক্রবার জেলা- উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ নদীর প্রায় ১১ কিলোমিটার পথ সরজমিনে গিয়ে অনেকের মানবেতর অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। বিশেষ করে লক্ষিপুর, চকেরপাড়া, চকেরবাড়ির লোকজনের চুখের সামনেই ধসে পড়ছে বসত ভিটা সহায় সম্বল। অনেকে ঘরদোর আসবাবপত্র সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ নিজের বসত ভিটায় আকরে থাকতে আহাজারি করছে। লক্ষিপুর চকেরবাড়ী নতুন পাড়ায় লে: কর্নেল আ: জব্বার এর বসত ভিটা, অদুরেই রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের এইচটি থ্রি ফেজের লাইন যা গাছ সহ হেলে পড়েছে নদীর তীরে। এছাড়া হাজী আ. মতিন ড্রাইভার, রমজান ভান্ডারী,  শমসের আলী, মাওলানা আমির হোসেন, আবুল হোসেন, হাজী মোবারক হোসেন, আমির হোসেন, মো: আলী, মিজান মিয়া, ছফিউল্লা, লিটন মিয়া, আবু বকর সিদ্দিক, মো: শাহিন, মো: সুমন ও শাকিল মিয়ার বাড়ীর বেশির ভাগই নদীগর্ভে চলে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ  কর্তৃপক্ষের কাছে তারা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এদিকে পল্লীবিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট জেনারেল ম্যানেজার মো: রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি সরেমিনে এইচটি থ্রি ফেজের লাইনটি দেখেছেন। এটি সরিয়ে নিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: হারুন অর রশিদ বলেন, লালপুর বাজার, সাবেক প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলাম এর গ্রামের বাড়ি ও নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়টি চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ