ঢাকা, সোমবার 28 May 2018, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্রীনগরে ক্ষতিকর কার্বাইড মিশিয়ে আম পাকানোর অভিযোগ

শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) সংবাদদাতা: মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আম ব্যবসায়ীরা  আম পাকাতে ব্যবহার করছেন বিষাক্ত কার্বাইড। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে কার্বাইড মিশিয়ে আম পাকানো হলেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্যৈষ্ঠ মাসে আম পাকলেও বৈশাখ মাস যেতে না যেতেই এক শ্রেনীর অসাধু ফল বিক্রেতা অধিক মুনাফা লাভের আশায় গাছে আমের মুকুল আসার আগেই আম বাগান কিনে নেয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্রামের অপরিপক্ক (পাকার উপযুক্ত হয়নি) আম মানবদেহের জন্য মারাতœক ক্ষতিকর কার্বাইড মিশিয়ে আম পাকানোর পর উপজেলা ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা-গেছে, রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে র‌্যাব ও ভ্রাম্যমান আদালতের সাজা ও জরিমানার ভয়ে আড়তদাররা কার্বাইড মিশাতে সাহস পাচ্ছেনা। কিছু নব্য আড়তদার রাতারাতি কোটি পতি হওয়ার আশায়। তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে গ্রাম-গঞ্জের অপরিপক্ক আম নিদিষ্ট ভাড়া করা ঘরে মজুত করে মারাতœক ক্ষতিকর কার্বাইড স্পে করে পাকানো হয়। প্রতিদিন পিক আপ যোগে শত শত মণ বিষ যুক্ত আম পাঠানো হচ্ছে  স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সহজ-সরল মানুষ কোন কিছু না বুঝেই। চক চকে রং এর আম ক্রয় করে দেহের মারাতœক ক্ষতি করছে। পরীক্ষা ছাড়া চেনার কোন উপায় নেই কোনটি কার্বাইড মুক্ত আর কোনটি কার্বাইড যুক্ত। যার ফলে গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছে। কার্বাইড ও ফরমালিন দিয়ে আম পাকানোর সময় অনেকেরই চোখে পড়ে। কাবার্ইড দিয়ে আম পাকানো সর্ম্পকে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যবসায়ী জানান, মেডিসিন না দিলে আমের রং ভাল হয় না। তাছাড়া অপরিপক্ব আম দ্রুত পঁচে যায়। ক্ষতিকর কার্বাইড মিশিয়ে আম পাকানো বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্বাইড মিশানো আম খেলে প্রাথমিক অবস্থায় ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদি কার্বাইড মিশানো ফল খেলে কিডনির সমস্যাসহ এক সময় ক্যানসারও হতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে কার্বাইড ও ফরমালিন মিশানো ফল-ফলাদি বিক্রি করলেও কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না বলে ভোক্তা সাধারনের অভিযোগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ