ঢাকা, মঙ্গলবার 29 May 2018, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ছয় মাসের জামিন

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে নড়াইলের মানহানির মামলাটির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার সকালে বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান ও জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিকে জামিন আদেশের দুই ঘণ্টার মাথায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টে দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্র পক্ষ। গতকাল সোমবার দুপুর ৩টার দিকে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদন শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন।
চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিতের আবেদনে শুনানিতে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ; খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার নাশকতার দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয়। তবে নড়াইলের মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়েছে।
হাইকোর্টে জামিন আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, গাড়ি পোড়ানো ও মানুষ হত্যার অভিযোগে ২০১৫ সালে কুমিল্লায় যে দুটি মামলা হয়েছিল, সেই মামলাতে হাই কোর্ট তাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। নড়াইলের মামলাটি আসামি পক্ষ ‘নট প্লেসড’ বলে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এই দুই মামলা নিম্ন আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাই কোর্ট থেকে জামিন দেওয়া ঠিক হয়নি বলে অভিমত দিয়ে তিনি বলেন, যাই হোক আদালত জামিন দিয়েছে। আমি আজকে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। পিটিশন রেডি হয়ে গেছে। অন্যান্য ফরমালিটিজ শেষ হলে আজকেই এটা চেম্বারে মুভ করব।
এদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, কুমিল্লার দুটি মামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় জামিন হওয়ার পর অন্য মামলাগুলো সবই জামিনযোগ্য। এগুলো বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে উত্থাপন করলেই জামিন পাওয়া যাবে। মূলত সরকারের সদিচ্ছাই এখানে যথেষ্ট। সরকার যদি মনে করে, তাহলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘কুমিল্লার দুটি মামলায় ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। আর নড়াইলের মামলাটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জজকোর্টের আদেশ শেষ না হওয়ার আগে হাইকোর্টে আসা ঠিক হয়নি। তবে আমরা আইনের ব্যাখ্যায় বলেছি, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী জজকোর্ট ছাড়াও হাইকোর্ট আদেশ দিতে পারেন এবং এ সংক্রান্ত একটি মামলায় আপিল বিভাগের রায় রয়েছে।
কুমিল্লার দুটি মামলায় জামিন পেলে সরকার খালেদা জিয়াকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখ করেন খন্দকার মাহবুব। তিনি বলেন, এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেটাই দেখার বিষয়।
খালেদা জিয়া আর কয়টি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন জানতে চাইলে তাঁর আইনজীবী বলেন, নড়াইলেরটিসহ আর চারটি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তবে এখানে সঠিক তথ্য বলা যাবে না। কেননা সরকারই ভালো বলতে পারবে। আমরা দৃশ্যমান মামলাগুলোর জামিন করিয়েছি। সরকার আবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখায়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, কুমিল্লার দুটিসহ মোট তিনটি মামলায় জামিন হয়েছে। হাইকোর্টে কুমিল্লার নাশকতার একটি, ঢাকার মানহানি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় জামিনের জন্য আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের দুটি পৃথক অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ আবেদন করেন। এ দুটি মামলায়ও আজ মঙ্গলবার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তবে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে জামিন পেলেও তিনি মুক্তি পাননি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।
রায়ের পর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ