ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘লাভ জিহাদ’র নামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বজরং দল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক

কথিত ‌'লাভ জিহাদ' মোকাবেলার নামে মুসলিম বিরোধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির খুলে শত শত তরুণকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছে উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠন বজরং দল।

সংগঠনটির জেলা আহ্বায়ক দেবী সিং সোন্ধিয়া ওই অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ শিবির। জাতীয়তাবিরোধী শক্তি ও ‘লাভ জিহাদ’কারী অংশের মোকাবিলা করতে প্রত্যেক বছর এ ধরণের শিবির করা হয়।

দেবী সিং সোন্ধিয়া

ভারতে উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের অভিযোগ, মুসলিমরা হিন্দু মেয়েদের ভুলিয়ে ভালিয়ে তাদের নিজেদের ধর্ম থেকে সরিয়ে মুসলিম করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এটিকেই তারা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। যদিও ইসলাম ধর্মে ‘লাভ জিহাদ’ বলে কোনো শব্দই নেই।

কংগ্রেস গতবছর জুলাইতে বজরং দল ও বিশ্বহিন্দু পরিষদের কর্মীদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়ার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিল। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বিনা লাইসেন্সে অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।  

 

গত বছর অসমে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ হোজাইয়ের গীতা আশ্রম ও নলবাড়িতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। নলবাড়িতে বিশ্বহিন্দু পরিষদের নারী শাখা ‘দুর্গা বাহিনী’কে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এর আগে ২০১৬ সালে বজরং দল উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করেছিল। সেসময় কর্মীদের রাইফেল, তলোয়ার ও লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার কুলতলিতে বজরং দলের পক্ষ থেকে সামরিক কায়দায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ডা. মশিহুর রহমান

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘মীযান’ পত্রিকার সম্পাদক ডা. মশিহুর রহমান আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘লাভ জিহাদ’ বলে যে কথাটি সঙ্ঘপরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটা তাদের তৈরি একটি শব্দ, যার মাধ্যমে ওরা সংখ্যালঘুদের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বাতাবরণ তৈরি করতে চাচ্ছে। এর পিছনে শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ আছে, অন্য কিছু নয়। সঙ্ঘপরিবার ও তার শাখা সংগঠনগুলো চায় যে, সামাজিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে ভারতে ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতাকে আরো মজবুত করা। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের এ ধরণের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির, লাভ জিহাদসহ অন্য ইস্যুতে তারা ক্রমান্বয়ে এগোতে থাকবে।

ডা. মশিহুর রহমান আরো বলেন, ‘সম্প্রতি কর্ণাটকে তাদের যে পরাজয় ঘটেছে, অর্থাৎ বিধানসভায় তারা যে সরকার গড়তে পারল না, এটা তাদের জন্য একটা বড় ধাক্কা। সুতরাং, পরবর্তী ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন বা মধ্য প্রদেশ, ছত্তিসগড়, রাজস্থানে আসন্ন যে বিধানসভা নির্বাচনগুলো আছে সেগুলোকে সামনে রেখে তারা মরিয়া হয়ে উঠবে। এবং এ ধরণের সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উগ্রজাতীয়তাবাদী প্রচার চালাবে যেটা সঙ্ঘপরিবারের আদর্শের মধ্যেই পড়ে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ