ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ৩০ মে বুধবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী। তিনি ছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ‘শহীদ জিয়া’ বলেই পরিচিত। শোকাবহ এই দিনটি স্মরণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণসহ ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ। জাতি আজ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ বাণী দিয়েছেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। তিনিই জাতির সঙ্কটময় মুহূর্তে বার বার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে, মাথা উঁচু করে। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে। ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস জুগিয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য হানাদারদের বিরুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার এ অতুলনীয় ভূমিকা ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত এক পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্তি পায় ৭ নবেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে। আর এই বিপ্লবের প্রাণপুরুষ ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি একদলীয় বাকশালের রাহুমুক্ত করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। নিশ্চিত করেন বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের বক্তা জিয়াউর রহমান জাতির নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরেন। তার অন্যতম উপহার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পতাকাবাহী রাজনৈতিক দল ‘বিএনপি’। তার শাহাদাতের পর তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল তিনবার জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়। তিনি ছিলেন সাতান্ন হাজার বর্গমাইল এলাকার বাংলাদেশের অতন্দ্র প্রহরী, অকুতোভয় বীর। তিনি ছিলেন আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে শকুনের থাবামুক্ত রাখার লড়াকু সৈনিক। আধিপত্যবাদী-সম্প্রসারণবাদীদের ষড়যন্ত্র রুখতে জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিলেন তিনি। আমৃত্যু যুদ্ধ করেছেন ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শ্রেণীবৈষম্য ও নিরক্ষতার বিরুদ্ধে। জাতিকে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি। রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশকে তিনি গণতন্ত্রের আস্বাদ দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়া খালকাটা কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব, শিল্প উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত রচনা করেন। জাতীয় মহিলা সংস্থা প্রতিষ্ঠাসহ নারী সমাজের উন্নয়ন ও শিশুদের বিকাশে তার আগ্রহ জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। তার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিয়াউর রহমান একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃত। মুসলিম বিশ্বে, জোটনিরপেক্ষ বলয়ে ও পাশ্চাত্যে তেজোদ্দীপ্ত ও প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভূমিকা পালনে, সফল স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে শহীদ জিয়া আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে এক মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসন, লুটপাটের পর সিপাহী-জনতার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে ক্ষমতায় এসে স্বল্পসময়ের শাসনকালে তিনি বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছিলেন।
সেদিন জিয়াউর রহমানের আকস্মিক শাহাদাতবরণে গোটা জাতি শোকাভিভূত হয়ে পড়েছিল। এই শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল রাজধানীর শেরেবাংলানগরে তার নামাজে জানাযায়। লাখো মানুষের উপস্থিতি সেদিন জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এক ক্রান্তিকালে পালিত হচ্ছে এই মহান নেতার শাহাদাতবার্ষিকী। যখন দেশে তার প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে আবারো কবর দিয়ে বাকশাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর ক্ষমতাসীনরা। সরকার সারা দেশে ভিন্নমতের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের রোষানলে পড়ে বিএনপির একাধিক নেতা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাসের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চরম অপমান জনকভাবে বের করে দেয়া হয়েছে। এখন কথিত দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ প্রায় তিনমাস ধরে জেলখানায় আবদ্ধ রয়েছেন। হাইকোর্ট থেকে তার জামিন হলেও অন্য মামলায় তাকে আটক দেখানো হচ্ছে। ছোট মামলা গুলোতেও জামিন হলে সরকার তাতেও বাধা দিচ্ছে।  লক্ষ্য তাকে নির্বাচন ও নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখা। একই সাথে চলমান আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা। এছাড়া তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সর্বোপরি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রিয় ও অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপিকে সংসদের বাইরে রাখা হয়েছে। এদিকে টানা বারো বারের মতো এ বছরও বাবার শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত থাকছেন তারেক রহমান। চিকিৎসার জন্য বিদেশ অবস্থান করা অপর ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ইন্তিকাল করেন।
উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তীতে তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তার ডাক নাম ছিল ‘কমল’। বাবা মনসুরুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে কমল ছোটবেলা থেকেই লাজুক ও গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে কলকাতায় তার বাল্যপাঠ শুরু হয় সেখানকার হেয়ার স্কুলে। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সালে বাবার সঙ্গে করাচি চলে যান তিনি। জিয়াউর রহমান ছিলেন মেধাবী ছাত্র। ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং কমিশন পান ১৯৫৫ সালে। ১৯৬৬ সালে তিনি কাবুলে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে ইন্সপেক্টর হন এবং একই বছর শেষদিকে কোয়েটা স্টাফ কলেজে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালের অক্টোবরে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রামে।
কর্মসূচি : জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপিসহ অঙ্গ দলগুলো। গতকাল এ উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচজনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মাজার জিয়ারত, কুরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, তবারক বিতরণ প্রভৃতি। এছাড়া কয়েকটি জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। আজ সকাল ৬ টায় নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইভাবে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করা হবে। বেলা ১১ টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর শেরে বাংলা নগরস্থ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজারে কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১০টা হতে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ড্যাব এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ করা হবে। এছাড়া দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ