ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারত বাংলাদেশকে বজ্র্যের ভাগাড় বানাতে চাইছে

স্টাফ রিপোর্টার : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে ভারত বাংলাদেশকে ময়লার ভাগাড় বানাতে চাইছে। আর নিউক্লিয়ার্স পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে গণহত্যার ট্র্যাপ। বাংলাদেশকে কেউ যদি ধ্বংস করতে চাই তাহলে নিউক্লিয়ার্স ট্যাবলেট যথেষ্ট। বর্তমানে যেসব বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি করা হচ্ছে তাতে প্রতি মেগাওয়াটের খরচ ধরা হয়েছে ৫০ কোটির উপরে। এ সব প্রকল্পের নামে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। দেশের মানুষের রক্ষার্থে অবিলম্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। 
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘ইলেকট্রিক পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার বিডি রহমত উল্লাহ, ড. এ হাসিব চৌধুরী, এস এম আকরাম প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর সাইফুর রহমান পিএইচডি।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন ফাইল আটকে দুর্নীতি কম হয়। দুর্নীতি হয় টেন্ডারে এবং মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে। আর একে বলা  হচ্ছে হিডেন কস্ট। এটা বড় ধরনের দুর্নীতি। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে সুশাসন না থাকলে উন্নয়ন অর্থহীন। দেশের পাওয়ার প্লান্টের সমস্যা সবাই জানে কিন্তু সমাধানে আন্তরিক না হলে সমাধান হবে না। এ বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধানের জন্য এক্সপার্টদের কথা শুনতে হবে। কারণ এ বিষয়ে তারা ভালো জানে। দেশ কারো একার নয়। এ দেশ আমাদের সকলের। এ জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো দেশে যদি আইনের শাসন না থাকে তাহলে সেদেশের অবস্থা খুব খারাপ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে সে অবস্থা চলছে। 
প্রফেসর সাইফুর রহমান বলেন, যারা পাওয়ার প্লান্টের বিষয়ে অভিজ্ঞ তারা চাপে পড়ে দুর্নীতির কথা বলছেন না। আমি বলবো যারা পাওয়ার প্লান্টের সাথে আছেন তারা চাপে পড়ে সত্য লুকাবেন না। সত্য তথ্য জাতিকে জানাতে হবে। কারণ আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ক্ষতির মুখে রেখে যেতে পারিনা। এটা করলে আমরা নিজেরা নিজেদের সাথে প্রতারণা করা হবে। চাকরি চলে গেলেও জাতির সাথে প্রতারণা করা ঠিক হবে না।
বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে ভারত সরে আসছে। আর তাদের সেই বর্জ্য দিয়ে আমাদের পাওয়ার প্লান্ট করে দিতে চাইছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে ভারত বাংলাদেশকে ময়লার ভাগাড় বানাতে চাইছে। আর নিউক্লিয়ার্স পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে গণহত্যার ট্র্যাপ। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে যে পারমানবিক চুল্লি স্থাপন করা হচ্ছে এই প্রযুক্তি জার্মানী বাতিল করে দিয়েছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে জাপানের ফুকুসীমা জনমানবহীন নগরীতে পরিণত হয়েছে। অতএব বাংলাদেশে যদি এ প্রকল্প চালু হয় তাহলে তার ক্ষতিকারক প্রভাবের কারণে অবশ্যই বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এ কারণে জনগণের টাকা ক্ষতি না করে এখনি এ প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া উচিত। কেননা বাংলাদেশকে কেউ যদি ধ্বংস করতে চাই তাহলে নিউক্লিয়ার্স ট্যাবলেট যথেষ্ট।
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। বলা হচ্ছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের প্লান্ট, ১০ হাজার মেগাওয়াটের প্লান্ট অথচ তা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম। যদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বিদ্যুত উৎপাদন হতো তাহলে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম পড়তো আড়াই থেকে সাড়ে তিন টাকা। অথচ সরকার বলছে বিদ্যুতে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এর মানে কী? তাহলে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের কারচুপি করছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের ৫৭ নদীতে বাঁধ দিয়েছে। আমরা যদি এর প্রতিবাদ আন্তর্জাতিকভাবে জানাতে পারতাম আর যদি ন্যায্য পানি পেতাম তাহলে এখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতাম। ভূমিতে পারমানবিক চুল্লি করা লাগতো না।   
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে ও দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকারক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। কেননা বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ প্রকল্পে অনেক সমস্যা রয়েছে। আর এসব প্রকল্প অনেক দেশেই বন্ধ করা হচ্ছে। আমাদের দেশের বিশষজ্ঞরা সরকারকে বন্ধ করতে বললেও তারা বন্ধ করছেন না। কেননা তাদের নৈতিকতা ধ্বংস হয়ে গেছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অবস্থা সরকার ভালো করেই জানে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কী হবে সেটাও তারা জানে। এ কারণে সরকার আবার ৫ জানুয়ারির ফোর টুয়েন্টি মার্কা নির্বাচন করতে চাচ্ছে। এ ধরনের কোনো নির্বাচন আর বাংলাদেশে হবে না।
মান্না বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষিতদের এমন অবস্থা হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরাও প্রধানমন্ত্রীর পিএ হতে চান। আসলে এ দেশের মানুষ যেমন বীর সাহসী, তোষামোদিতেও তেমনি ফার্স্ট। শেখ হাসিনা স্যাটেলাইট বানালেন না, ধরলেন না, পাঠালেনও না; অথচ সব নাম হলো তার। সমুদ্রসীমা জয়ের কৃতিত্বও ছাড়েন না
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেলেন, ডিগ্রি নিলেন কিন্তু তিস্তার বিষয়ে কোনো কথা বললেন না। বরং বললেন আমার অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু এ সুন্দর অনুষ্ঠানে সে কথা বলে অনুষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত করতে চাই না। এ কথা বলে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের সম্মানহানি ঘটিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ