ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বোরো নিয়ে বিপাকে দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলার ছয় লাখ কৃষক

খুলনা অফিস : বোরো নিয়ে বিপাকে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল জেলার প্রায় ছয় লাখ কৃষক।  খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মনোজ মন্ডলের গোলায় ধান মজুদ করা হয়েছে। মূল্য কম থাকায় মাড়াই শেষে হাটে-বাজারে তিনি ধান তোলেন নি। প্রকারভেদে বোরো প্রতিমণ ছয়শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে উৎপাদন খরচ ওঠে না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন তার প্রতিবেশি কৃষকরাও।
এবার বোরো’র বাম্পার ফলনে খুশি জেলা প্রশাসন, কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা। এক মণ ধানের মূল্যের সমান একজন কৃষি শ্রমিকের একদিনের মজুরি। বোরোর দাম না পাওয়ার ক্ষোভের কথা জানালেন ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক অনাদি মন্ডল, কমলেশ মন্ডল ও পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী আরাজি ডুমুরিয়া, খড়িয়া, পঞ্চু ও গুটুদিয়া গ্রামের বোরো চাষিরা স্থানীয় কৈয়া বাজারে এবারে ধান তোলেনি।
কৃষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ ফলনশীল জাতের প্রতিমণ ধানের মূল্য ৮শ’ টাকা আর হাইব্রিড মণপ্রতি সাড়ে ৬শ’ টাকা। এই কৃষকরা জানিয়েছেন, বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। ভরা মওসুমে এক সপ্তাহ সার মেলেনি জেলার কোন মোকামেও। অনাদি মন্ডলের ভাষ্য, ২০১৬-’১৭ মওসুমের তুলনায় ২০১৭-’১৮ মওসুমে দেড়গুণ মূল্যে বীজ ক্রয় করতে হয়েছে। মনোজ মন্ডলের তিন বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হয়েছে ১৩০ মণ ধান।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, খর্ণিয়া, রঘুনাথপুর ও রংপুর ইউনিয়নের উৎপাদন ছিল বাম্পার। হেক্টরপ্রতি উপসী জাতের ধান ৪ দশমিক ০৫ মেট্রিক টন ও হাইব্রিড জাতের ধান ৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, উপজেলা সদরে বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বোরোর ওপর আঘাত হানতে পারেনি। কৃষক সহজেই ধান ধরে তুলতে পেরেছে।
আঞ্চলিক অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, চার জেলায় দুই লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। এর আগের মওসুমে এ অঞ্চলে দুই লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। ছয় লাখ কৃষক এবার আবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত
খুলনায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০১৮ পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজনে গতকাল বুধবার সকালে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ আব্দুল হান্নান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্থ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের পরিক্ষিত বন্ধু হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা বিচক্ষণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করছে।
এতে খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার কমডোর সামসুল আলম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর, খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক হোসেনসহ সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা  এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের এক লাখ ৫৬ হাজার ৪০৯ জন শান্তিরক্ষী সদস্য বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে সাত হাজার ৭৫ জন সদস্য শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করছে। এ মহান দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের ১৪২জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ