ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় আল কুরআনকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে -বিচারপতি এএফএম আলী আজগর

গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল-এর উদ্যোগে রমযানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিচারপতি এএফএম আলী আজগর বলেছেন, মাহে রমযান কুরআন নাজিলের মাস। এ মাসে একটি নফল ইবাদত ফরজের ফজিলত, একটি ফরজ ইবাদক ৭০টি ফরজের ফজিলতের কথা বলা আছে। এ মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় বিচার, আইনের শাসন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি সারা বিশ্বের সকল অশান্তি দূর করার জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আল কুরআনকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে রমজানের এ পবিত্র মাসে সুশাসন এবং ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হই।
গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামিক ল ইয়ার্স কাউন্সিলের উদ্যোগে রমযানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিচারপতি এএফএম আলী আজগর সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কাউন্সিলের সহ-সভাপতি এডভোকেট নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন সুত্রাপুর জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি মুহাম্মদ আবু ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলের সুপ্রীমকোর্ট শাখার সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কাউন্সিলের সুপ্রীমকোর্ট শাখার সেক্রেটারি এডভোকেট ফরিদ উদ্দীন খান, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি এডভোকেট ড: গোলাম রহমান ভূইয়া, এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, এডভোকেট ইউসুফ আলী, এডভোকেট মইন উদ্দিন, এডভোকেট জাকির হোসাইন, এডভোকেট শফিকুর রহমান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি সভাপতি এডভোকেট যাইনুল আবেদিন এবং সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, সিনিয়র এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার,ত ঢাকা বারের সভাপতি এডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাবেক সভাপতি এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, এডভোকেট বোরহান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ওমর ফারুক, এডভোকেট ইকবাল হোসেন, এডভোকেট আবদুস সালাম রেজা, এডভোকেট এস এম শাহজাহান কবির প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এডভোকেট এস. এম কামাল উদ্দিন এবং এডভোকেট সাইফুর রহমান।
ড. মুফতি মুহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, আল্লাহ তায়ালা সুনিদ্দিষ্ট চিন্তার আলোকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাই সৃষ্টি তার স্রষ্টার সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্যই যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরামকে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, রোজাকে ফরজ করা হয়েছে মুত্তাকি হওয়ার জন্য। আল্লাহর আদেশকে মেনে চলা এবং নিষেধকে বর্জন করার মাধ্যমে মুত্তাকি হতে হয়। তিনি আরো বলেন, মাদক ভয়াবহ ভাবে আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। কিন্তু ক্রসফায়ারের মাধ্যমে এর সমাধান হতে পারে না। মাদকের ভয়াবহতার অনুভুতি সৃষ্টি হলে ক্রয়ফায়ার দেয়ার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, রোজার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে জবাবদিহীতার অনুভুতি সৃষ্টি করতে হবে। সত্যিকারের তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে রোজার সার্থকতা রয়েছে। তিনি বলেন, রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন হলে দেশ, সমাজ ও পরিবারের অবস্থা সুন্দর হবে। এজন্যই রোজা ফরজ করা হয়েছে।
এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, কুরআন নাযিল হয়েছে মুক্তির জন্য, শান্তির জন্য। আজকে সারা বিশ্বে যে অশান্তি, তা দূর করতে হলে কুরআনকে আকরে ধরতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু রমযান মাস নয়, কুরআনের চর্চা করতে হবে সারা বছর।
এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে দরকার তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ। নবী (সা:) তাকওয়া ভিক্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অল্প সময়ের মাধ্যমে গোটা সমাজে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে গোটা জাতি। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিনা বিচারে, মানুষ হত্যা কখনই সমর্থন যোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করে আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ