ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে ॥ আমরা এটা আদায় করবো

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বিকল্পধারা বাংলাদেশ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিকল্পধারার ইফতার মাহফিলে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশে এখন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ  থেকে উত্তরণের অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে, আমরা এটা আদায় করবো। সংসদ ভেঙে দিতে হবে ১০০ দিন আগে। নির্বাচনের তামাশা দেখতে চাই না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে নির্বাচনে। সাহসী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
গুলশান-২ এর অল কমিউনিটি ক্লাবে বাংলাদেশ বিকল্পধারা এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। ইফতারে অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান মান্না, জেএসডির আসম আবদুর রব, সভাপতি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান, বিজেপির আবদুল মতিন সউদসহ বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। এছাড়া ইফতার মাহফিলের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বক্তব্য রাখেন।
ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, একাদশ নির্বাচনের পরে পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় সরকার হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে দেশের মানুষকে শান্তি দেয়ার জন্যে, নিরাপত্তা দেয়ার জন্যে এবং দেশের অগ্রগতির করার জন্যে আমরা আগামী ৫ বছরের জন্যে একটি জাতীয় সরকার চাই। সহিংসতা হবে, আগুন জ্বালানো হবে না, অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার হবে না। কতগুলো ম্যাচুরড ব্রেইন একত্রিত করলে হয়ত ইনশাল্লাহ আমরা বাংলাদেশ আরেক সুযোগ পাবে।
যুক্তফ্রন্ট গঠনের কারণ তুলে ধরে ফ্রন্টের আহবায়ক বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা নিউক্লিয়াস গঠন করেছি, যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি। তার মাধ্যমে আমরা একটা নেতৃত্ব দিতে চাই। যেই নেতৃত্বে চরিত্র থাকবে, যেই নেতৃত্বে সততা থাকবে এবং যেই নেতৃত্বে কথা বলার দাম থাকবে। আমরা আজকে শক্তির উত্থান চেয়েছি। সেই শক্তির মাধ্যমে আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দল বিশেষ করে সরকারি দলকে সাবধান করে দিতে পারবো- দেশের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র জনগনের হাতে চলে যাবে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।
বিরোধী দলকে সমাবেশ করতে না দেয়া, হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের কারাগারে আটকিয়ে রাখা কোনোভাবে সহ্য করা যায় বলে মন্তব্য করেন বি চৌধুরী। তিনি বলেন, মামলা করে রাজনীতিকদের হয়রান করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার আগেই আমরা বলেছি। যখনই বিচার হয়, বিচারের রায় আসে। সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টের রায়কে আপনারা বুড়ো আঙ্গুল দেখান। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় কী হতে পারে। রুল অব ল আছে কী? নির্বাচনী প্রক্রিয়া কিভাবে ট্যাম্পার করে দেখাইয়া দিছেন। ২০১৪ সালে দেখেছি, এবার খুলনাতে দেখলাম। এভাবে চলতে পারে না, দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ থেকে উত্তরণের অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে, আমরা এটা আদায় করবো। সংসদ ভেঙে দিতে হবে ১০০ দিন আগে। নির্বাচনের তামাশা দেখতে চাই না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে নির্বাচনে। সাহসী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতির সামনে আজকে যে সংকট সেই সংকট কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এই সংকট আজকে সমগ্র দেশের সমগ্র জাতির। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে ভয়াবহ স্বৈরাচার যারা আমাদের সমগ্র অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের যদি পরাজিত করতে হয় তাহলে ছোট-খাটো সমস্যাগুলো দূর করে আমাদেরকে একটা ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়েই আমরা এই ভয়াবহ শক্তিকে পরাজিত করতে পারবো, জনগণের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। জনগন আশান্বিত হবে এবং জনগনের যে প্রত্যাশা সত্যিকার অর্থে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকেই (গতকাল) দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবার আপীল বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই, তাকে আটকিয়ে রাখার জন্যই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিসন্দেহে এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোভাগের নেতা। তার মুক্তির এই ফোরাম থেকে আমি আবারো দাবি জানাচ্ছি।
নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সর্বশেষ এই কয়দিন ১১১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটা সত্যি সত্যি একটা মৃত্যুর মিছিল বলতে পারেন এবং সেই মিছিল চলছে, থামছে না। আমরা অনেক অনুনয়-বিনয়, প্রতিবাদ করেছি। আপনার সংসদ সদস্যকে যদি প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার করা না যায়, তাহলে এদের নামে অভিযোগ আছে তারও কোনো প্রমাণ নেই, তাহলে এদের গুলি করে মারবেন কেনো? উনারা(সরকার) বলছেন আমরা যুদ্ধ করছি। নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এরকম প্রকাশ্য ঘোষণা বাংলাদেশে প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে। আমরা যারা এখানে আছেন তারা এই হত্যার নিন্দা করি।”
তিনি বলেন, আমি প্রথমে মির্জা ফখরুল আলমগীরের সঙ্গে একমত পোষন করে বলতে চাই- কবরেরও ঘুম ভাঙে জীবনের দাবি আজ যতই বিরাপ। জীবন রক্ষার জন্যে, জীবন বাঁচাবার জন্যে সমস্ত মানুষকে এক হতে হবে এটা ঠিক। ফখরুল ভাই কথা কিন্তু আমাদের অনেক আছে। কারণ এই যে লড়াই করবো একদিন একটা ভোট হবে, ভোটের পরে জিতে ব্যাপক ভোট পেয়ে আপনারা সরকার গঠন করবেন। তখন আর আমাদের চিনবেন না যদি এমন হয়।
আমাদের অতীতে অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য বলছি না, অহেতুক খোঁচাও দিচ্ছি না। শুধু এটিই বলছি এটা বিবেচনায় রাখবেন। একই সাথে লড়াই করতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কোনো শর্তছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি দেয়া উচিৎ যদি অংশগ্রহণমূলক চান। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোনো বিকল্প নাই, এর বিকল্প যা কিছু হবে তা দেশের সর্বনাশ আনবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ