ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বাধীনতা উত্তরকালের মতো একদলীয় বাকশালী দুঃশাসন চলছে

খুলনা অফিস : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বেলা ২টায় মহানগর বিএনপির উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন এ দেশের জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক ও নেতা। তিনি একদলীয় দুঃশাসন হঠিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করেছিলেন। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কি, তা জনগণ তার শাসনামলেই প্রথম অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। মৃত্যুর ৩৭ বছর পরেও তার আদর্শ ও কর্মমুখর জীবন নিয়ে মানুষ গৌরব করে।
বক্তারা বলেন, দেশে স্বাধীনতা উত্তরকালের মতো একদলীয় বাকশালী দুঃশাসন চলছে। জনগণের কথা বলা ও মত প্রকাশ তো দূরের কথা, এখানে এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো গ্যারান্টি নেই। এতোদিন রাজনৈতিক কর্মীদেরকে গুম ও ক্রসফায়ারে খুন করা হয়েছে। আর এখন মাদক নিমূর্ল অভিযানের নামে প্রকৃত গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, এডভোকেট বজলুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, এডভোকেট এস আর ফারুক, রেহানা আক্তার, ফখরুল আলম, ডা. শওকত আলী লস্কর। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দল নেতা মাওলানা আব্দুল গফফার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, এডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মীর কায়সেদ আলী, ইকবাল হোসেন খোকন, শাহিনুল ইসলাম পাখী, আব্দুর রহিম বক্স দুদু, এডভোকেট গোলাম মাওলা, শেখ সাদী, গিয়াসউদ্দিন বনি, সাদিকুর রহমান সবুজ, মো. শাহজাহান, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, আশফাকুর রহমান কাকন, একরামুল হক হেলাল, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শরিফুল ইসলাম বাবু, হাসান মেহেদী রিজভী, মুজিবর রহমান ফয়েজ, হাফিজুর রহমান মনি, জামিরুল ইসলাম, সরদার ইউনুস আলী, হাসানউল্লাহ বুলবুল, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, মীর কবির হোসেন, বদরুল আনাম খান, শরিফুল আনাম, তরিকুল ইসলাম, তরিকুল্লাহ খান, কাজী মাহমুদ আলী, মইদুল হক টুকু, মেজবাহউদ্দিন মিজু, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, রবিউল ইসলাম রবি, নাসির খান, জাহিদ কামাল টিটু, আনিসুর রহমান আরজু, সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ডিনো, মোস্তফা কামাল, লিটন খান, আব্দুর রহমান, এইচ এম আসলাম হোসেন, আরমান হোসেন, কাজী নেহিবুল হাসান নেহিম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, মযেজউদ্দিন চুন্নু, মোহাম্মদ আলী, আনজিরা বেগম প্রমুখ।
খুলনা সিটি নির্বাচনের উদহারণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে ‘নির্বাচনের খুলন মডেল’ সৃষ্টি করেছে। ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, পুলিশী তল্লাশি ও গণগ্রেফতার অভিযানের মুখে বিএনপির কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার পর নজিরবিহীন কাটাকাটির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনর অভিষ্যতেও সকল নির্বাচন একই স্টাইলে করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বক্তারা দলের ভেতরকার সকল বিভক্তি, অনৈক্য, দ্বিধা-দ্বন্দ ভুলে ত্যাগী পরিক্ষীত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিএনপি গঠনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এই ফ্যাসিবাদী জালেম সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করতে চাইলে এবং অন্ধ কারাগারে আটক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। জিয়ার সৈনিকদেরকে সেই চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তত করতে হবে।
এদিকে ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭ তম শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে ভোরে সকল দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ, কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০ টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া এবং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ