ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঘাতক আর্সেনিকের করাল গ্রাসে চুয়াডাঙ্গা

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা থেকে : নীরব ঘাতক আর্সেনিকের করার গ্রাসে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা। আর্সেনিকের প্রকপে নীরবে মরছে মানুষ। কিন্তু তাদের বাঁচাতে কারোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক প্রবণ এলাকার মানুষরা পাচ্ছেনা ঔষুধ এবং নিরাপদ পানি।
সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে জেলায় আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৫৭১জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৯৮৭ জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৭৭৩ জন ও জীবননগর উপজেলায় ১১৮জন। এর মধ্যে নারী-১০৭৯ জন, পুরুষ-১৩৭০ জন। প্রকৃত বাস্তবতা আরো ভয়াবহ। চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলাতেই আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। তার মধ্যে সর্বাধিক আর্সেনিক কবলিত গ্রামের নাম দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের বড়দুধপাতিলা। এই গ্রামের  মোট পরিবার ৬২০টি, মোট জনসংখ্যা ২৯৯০ জন, বড়দুধপাতিলা গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ নলকুপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। এই একটি গ্রামেই এপর্যন্ত আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৭ জন।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের বেনাগাড়ী গ্রামে বর্তমানে ৩২ ঘরের বসবাস। এর মধ্যে পরিবারের অনেক সদস্য আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছে। তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে জমি কিনে বসতবাড়ি করার মত সামর্থ নেই। আর্সেনিক আক্রান্ত এ গ্রামের অনেকেই জানান, তাদের শরীরে আর ঔষুধ কাজ করেনা। তাদের শরীরে আর্সেনিকের বিষক্রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কিন্তু তাদের দেখার কেউ নেই। তাদের এলাকায় কোন স্বাস্থ্যকর্মী আসেনা, দেয়না তাদের ঔষুধপথ্য। এই গ্রামের বাসিন্দাদের আর্সেনিকযুক্ত পানিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ ওই পানি দিয়েই সারে। তারা পান করেও ওই বিষ মিশ্রিত পানি। তাদের করার কিছুই নেই। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ওই গ্রামে কেউ এগিয়ে আসেনি। কোন জন প্রতিনিধি নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গভীর নলকুপ বসানোর জন্য প্রস্তাবনা জমা দেয়নি। গ্রামবাসীর জোরালে দাবী  নতুন প্রজন্ম যারা এখন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে তাদেরকে বাঁচানোর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আর্সেনেকি আক্রান্তদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ঔষুধ সরবরাহ জরুরী।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের বেনাগাড়ী গ্রামের মরহুম আকবার আলীর ছেলে রহমতউল্লাহ (৬০)  জানান,২৫-৩০ বছর আগে এনজিও সংগঠন হিট বাংলাদেশ  এই গ্রামের টিউবয়েলের  পানি পরীক্ষা  করেছিল। ঐ সময় আমাদের টিউবয়েল বসানো। অনেক দিন হয়ে গেল আর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি । মরহুম আলী মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রহমান (৫০) বলেন ,আমার বাবা  আর্সেনিকে  আক্রান্ত হয়ে ২০০৫ সালে মৃত্যু বরণ করেছেন। মরহুম জামাল উদ্দিনের ছেলে মিনারুল হক (৩৩) জানান,আমারও বাবা ২০০০ সালে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ( ৫০) ও জানান, আমার স্বামী ২০০৭ আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। মরহুম মহিউদ্দিনের স্ত্রী আঙ্গুরা (৫০), মরহুম আমোদ আলীর দু ছেলে মোহাজ্জেল (৬০) ও তোফাজ্জেল (৬০) এরা সবাই আর্সেনিকে আক্রান্ত। তারা জানান, তাদের ওই গ্রামে অনেক ঘরবাড়ি ও মানুষের বসবাস ছিলো। গত ২৫-৩০ বছর এ গ্রামে আর্সেনিকের ভয়াবহতার বিষে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা গেছে। অনেকে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।
 বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। আর্সেনিক আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা অন্যতম। এখানকার পানির একমাত্র উৎস নলকুপ। সর্বশেষ সরকারিভাবে ২০০৩ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটি জরিপ চালানো হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় ২৭.৭৩ শতাংশ নলকুপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে, এবং উক্ত জরিপ অনুযায়ী জেলায় ৮০% থেকে ১০০% আর্সেনিক আক্রান্ত গ্রামের সংখ্যা ২৯টি। ৫০% আর্সেনিক আক্রান্ত গ্রাম সংখ্যা-১৭৫টি।
চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জেলার নলকুপের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রার উপস্থিতির ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ জরিপ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে স্থাপিত নলকুপের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৫২৪টি। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫১টি নলকুপ চালু  রয়েছে এবং আর্সেনিক দুষণ নলকুপের সংখ্যা হলো ৩১ হাজার ৩৫১টি। আর্সেনিক দুষণের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৭৩ ভাগ। চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে আর্সেনিক দুষনের মাত্রা এবং রোগীর সংখ্যা অনেক বেশী। চুয়াডাঙ্গা জেলার যে সকল গ্রামের নলকুপে ৮০ ভাগের বেশী মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে সে গুলো হলো সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হুচুকপাড়া। আলমডাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার ঠাকুরপাড়া, বারাদী ইউনিয়নের অনুপনগর, কাচিকাটা ও রাধাকান্তপুর, বেলগাছী ইউনিয়নের ডামোশ ও কাশিপুর, গাংনি ইউনিয়নের বড় গাংনি ও শালিকা, জেহালা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর ও সোনাতনপুর, কালিদাসপুর ইউনিয়নের মুনাকসা, খাদিমপুর ইউনিয়নের ভালাইপুর, গোকুলখালী, গোপীনগর, যুগীরহুদা ও রামচন্দ্রপুর, খাসকররা ইউনিয়নের কাবিলনগর ও নিশ্চিন্তপুর, কুমারী ইউনিয়নের এলাহীনগর ও করিমপুর, নাগদাহ ইউনিয়নের খাসবাগুন্দা, মধুপুর, গুচ্ছগ্রাম (১০০ ভাগ) ও বেনাগাড়ী।  দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, কুড়–লগাছী ইউনিয়নের আমডাঙ্গা, নতিপোতা ইউনিয়নের করিমপুর, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিরামপুর, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের জিরাট ও হাউলি ইউনিয়নের বড়দুধপাতিলা।
এছাড়া যে সকল গ্রামের নলকুপে ৫০ ভাগের বেশী মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে সে গুলো হলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ডিহি ও কুন্দিপুর, কুতুবপুর ইউনিয়নের জলিবিলা, মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী, পদ্মবিলা ইউনিয়নের রাজনগর ও নীমতলা, শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের মিলপাড়া ও উকতা, তিতুদহ ইউনিয়নের গিরিশনগর, গোবরগাড়া, খাড়াগোদা, সড়াবাড়িয়া, সিলিন্দিপাড়া ও তেঘরিয়া। দামুড়হুদা উপজেলায় সদর ইউনিয়নের দশমীপাড়া, দক্ষিণ খানপাড়া, হাতিভাঙ্গা, কুশোডাঙ্গা, পাটাচোরা, উজিরপুর ও উত্তর চাঁদপুর, দর্শনা পৌরসভার আজমপুর ও মোহাম্মদপুর, হাউলি ইউনিয়নের পুরাতন কাশিপুর ও রঘুনাথপুর, জুড়ানপুর ইউনিয়নের দলিয়ারপুর ও লক্ষীপুর, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা, কাঞ্চনতলা ও সুবোলপুর, কুড়–লগাছী ইউনিয়নের আমডাঙ্গা, দুর্গাপুর ও প্রতাপপুর, নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া, দুলালনগর ও ফকিরপাড়া, নতিপোতা ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা, কালিয়াবোকরি, করিমপুর, কুনিয়া ও ভগিরথপুর, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া। জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিধিকুন্ডু, পাকাও ঘোষনগর , হাসাদহ ইউনিয়নের হাসাদহ, করিমপুর, রঘুনাথপুর, রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর ও উথলী ইউনিয়নের রাজাপুর। আলমডাঙ্গা উপজেলার পৌরসভা এলাকার বাবুপাড়া, কোর্টপাড়া, ডাক্তারপাড়া, দোয়ারপাড়া, গেটপাড়া, হাইরোড, কায়েতপাড়া, কারিগরপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, মাঝেরপাড়া, মসজিদপাড়া, মাঠপাড়া, মিয়াপাড়া, মোল্লাপাড়া, মন্ডলপাড়া, মুন্সীপাড়া, নওদাবন্ডবিল, সরদারপাড়া, রেলপাড়া, স্কুলপাড়া, সোনাপট্টি, রেলস্টেশনপাড়া, ঠাকুরপাড়া, উত্তরপাড়া, ওয়াপদাপাড়া, বারাদী ইউনিয়নের অনুপনগর, আঠারোখাদা, গোয়ালবাড়ী, গোপালনগর, কাচিকাটা, নতিডাঙ্গা ও রাধাকান্তপুর, বেলগাছী ইউনিয়নের বেলগাছী, ডামোশ, ফরিদপুর ও কাশিপুর, ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের বেনাগাড়ী, বগাদী, গৌরীহদ, হাটবোয়ালিয়া, নগরবোয়ালিয়া, ডাউকি ইউনিয়নের ডাউকি, গাংনি ইউনিয়নের বন্দরভিটা, বড়গাংনি, ছোটগাংনি, ফুলবগাদি, মোচাইনগর, নান্দবার, নীমতলা, রামনগর, সাহেবপুর ও শালিকা, হারদী ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর, রামনগর, চরযাদবপুর, মোহাম্মদপুর, ওসমানপুর, প্রাগপুর, শেখপাড়া ও উত্তরলক্ষীপুর, জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া, ঘোষপাড়া, নওদাপাঁচলিয়া, পুরাতনপাঁচলিয়া ও রঘুনাথপুর, জেহালা ইউনিয়নের বেতবাড়ীয়া, ছোটপুঁটিমারি, গড়গড়ি, হায়দারপুর, জেহালাবাজার, কৃষ্ণপুর, মাদারহুদা ও সোনাতনপুর, কালিদাসপুর ইউনিয়নের বলরামপুর, চরশ্রীরামপুর, ডম্বলপুর, জগন্নাথপুর, কালিদাসপুর, মুনাকসা, পাইকপাড়া ও পারকুলা, খাদিমপুর ইউনিয়নের আল্লাদবাজার, বাটিয়াপাড়া, ভালাইপুর, গোকুলখালী, গোপীনগর, যুগীরহুদা, কৃষ্ণপুর, লক্ষীপুর, পশ্চিমকামারপুর, রামচন্দ্রপুর, রংপুর, শীবপুর ও শৈলাপুর, খাসকররা ইউনিয়নের কাবিলনগর, কায়েতপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, পারলক্ষীপুর, রায়সা, তালুককররা ও তিয়রবিলা, কুমারী ইউনিয়নের এলাহীনগর, করিমপুর, নওদাদূর্গাপুর, পারদূর্গাপুর ও কুমারীপাড়া, নাগদাহ ইউনিয়নের বড়ঘরিয়া, বেনাগাড়ী, ভেদামারী, ভোলারদাইড়, বুড়াপাড়া, ছয়ঘরিয়া, দমদমা, গুচ্ছপাড়া, জোড়গাছা, খাসবাগুন্দা, কোটিপাইকপাড়া, মধুপুর, মোকামতলা, সাতেনতলা ও টাকপাড়া।
এ অঞ্চলে আর্সেনিক প্রতিরোধে পানি সরবরাহ সমস্যা সমাধানে জরিপ কাজে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় মাটির গভীরের বালির স্তর থেকে খাবার ও সেচকাজে ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি উঠানো হয়। এই বালি স্তর থেকে উঠানো পানিতে আর্সেনিক, আয়রণ ও ম্যাঙ্গানিজের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পানি আগামীতে আরো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে। প্রকৃতিগত কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ কম। তাছাড়া এ জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী গুলোর পানি প্রবাহ থাকছে না। প্রত্যেকটি নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরে বালির স্তর পাওয়া গেলে সেখান থেকে নিরাপদ পানি পাওয়া সম্ভব। সে কারণে জেলা ব্যাপী নিরাপদ পানির জন্য গভীর নলকুপ ব্যাপকভাবে বসানো প্রয়োজন।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হরিরামপুর গ্রামে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় পাইপলাইন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এই গ্রামের ২০০টি পরিবার মাসে ২০টাকার বিনিময়ে প্রত্যেকদিন তিন বেলা আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ পাচ্ছে। এই পানি সরবরাহ পেতে গ্রাহকদের টাকায় পাম্পের বিদ্যুৎ বিল ও তত্বাবধায়কের বেতন বাবদ ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার। হরিরামপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার রাজ্জাক আলীর ছেলে তত্বাবধায়ক টুটুল আলী (১৮) বলেন, এই পানি খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও গ্রাহকরা অন্য কাজে পানি অপচয় করে। তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করলে তারা বিশুদ্ধ পানি অপচয় না করে সেটা তারা সঠিক কাজই লাগাবে। একই গ্রামের পূর্বপাড়ার মরহুম হযরত আলীর ছেলে মকলেছুর রহমান (৪০) বলেন, এই গ্রামে পানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আরো ট্যাঙ্ক তৈরি করার প্রয়োজন। তাছাড়া এ গ্রামের অনেকেই এখনো আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে। যেটা উদ্বেগজনক ব্যাপার। তিনি আরো বলেন, এখনো ১ হাজার বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করলে এ গ্রামটি আর্সেনিকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তিপাবে। ওই গ্রামের ক্লাবপাড়ার আবুল হাশেমের স্ত্রী আসলিমা খাতুন (৫০) বলেন, এ গ্রামে সার্বক্ষনিক আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গৃহস্থালী কাজে পানি ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে এ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নিরব ঘাতক আর্সেনিকের করাল গ্রাসে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বড়দুধপাতিলা গ্রাম। আর্সেনিকের ভয়াল থাবায় এ গ্রামে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, কারর শরীরের অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে, কেউ কেউ বিছানায় ধুকে ধুকে মরনের প্রহর গুণছে। আর্সেনিকের কবলে পড়ে এ গ্রাম থেকে ‘শান্তি’ নির্বাসনে গেছে। গ্রামের মুরব্বীদের ভাষ্যমতে ইতিপুর্বে আরো অনেকে মারা গেছে যাদের দেহে আর্সেনিকোসিসের এই লক্ষণগুলো ছিল যা তখন বুঝতে পারা যায়নি। এই গ্রামে শিক্ষার হার খুব কম। ফলে সচেতনতাও কম এখানকার মানুষের। স্যানিটেশনের অভ্যাসগত পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার মারাত্মক অভাব রয়েছে এখানকার জনগোষ্ঠির মধ্যে। বিভিন্ন কুসংস্কারকে বিশ্বাস করে এরা। এমতাবস্থায় আর্সেনিকের মত একটি ভয়াবহ সমস্যা সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে কি ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে তা এই গ্রামে এসে না দেখলে বোঝা যাবেনা। দরিদ্রতা, অজ্ঞতা, তথ্যের অভাব, কুসংস্কারসহ বিভিন্ন কারণে এই জনপদের মানুষ। আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ সহজেই চোখে পড়ায় বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকে তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করে না। আর্সেনিকে আক্রান্ত ছেলে মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায়না। এমনকি অন্য গ্রাম থেকে আত্মীয় স্বজনরা এ গ্রামে আসতে চায়না। এই সবকিছুর জন্য দায়ী নীরব ঘাতক আর্সেনিক। বড়দুধপাতিলা গ্রামে যারা আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তাদের মধ্যে একজন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নানের শরীরে সর্বপ্রথম আর্সেনিক চিহ্নিত করা হয় ১৯৯৪ সালের দিকে। ইউপির কাজে বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত করতেন আব্দুল মান্নান। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আব্দুল মান্নানের হাতে, পায়ে, বুকে বিভিন্ন ক্ষত চিহ্ন দেখে সন্দেহ করেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলে সন্দেহ সত্যি হয়। আব্দুল মান্নানের শরীরে আর্সেনিক ধরা পড়ে। চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রথম রোগী হিসেবে চিহ্নিত হয় আব্দুল মান্নানকে। পরীক্ষা করা হয় কিছু সংখ্যক নলকুপ তাতে ধরা পড়ে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক।এসময় নলকুপের পানি পরীক্ষা, ঝুঁকিপুর্ণ রোগীর চিকিৎসাসহ কিছু গবেষণামূলক কাজ বাস্তবায়ন করে দাতা সংস্থা জাইকা। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গভীর নলকুপ স্থাপন করে, ১টি নলকুপের গভীরতা ছিল ৯৮০ ফুট। সেখানেও ধরা পড়ে আর্সেনিক। সফলতা না পেয়ে সিডকো প্লান্ট নির্মাণ করে জাইকা। আর্সেনিকে আক্রান্ত আব্দুল মান্নান ও ওই গ্রামের আনছারের স্ত্রী আলেয়াকে (৫০) নিয়ে যায় ঢাকায়। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও বাঁচানো যায়নি আব্দুল মান্নানকে। ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছে আলেয়া। এদিকে স্থানীয় জনগণ, ইউপি ও ডিপিএইচই’র সম্পৃক্ততা না থাকায় অল্প দিনেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সিডকো প্লান্টের রিএজেন্ট (বিশেষ উপাদান) শেষ হয়ে যাওয়াই অকেজো হয়ে পড়ে ২টি সিডকো প্লান্ট। গ্রামবাসী জানে না কি করতে হবে। কে করবে। এগিয়েও আসেনি কেউ সমস্যা সমাধানে। গ্রামের মুরব্বীরা বলেন, আব্দুল মান্নানের মৃতুর পর জানা যায় এটা আর্সেনিক। আগেও এই গ্রামের অনেকেই মারা গেছে যেমন আব্দুল মান্নানের মা জামেলা খাতুন বাবা রিয়াজউদ্দীন ও ভাই ইব্রাহীম এছাড়াও গ্রামের আফসার আলী, নুর ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও মাজের আলী। যাদের শরীরেও একই ধরনের ক্ষত চিহ্ন ছিল। কথা প্রসঙ্গে আরো জানা যায় বড়দুধপাতিলা গ্রামের আর্সেনিকের ভয়াবহতা ও সেখানকার  মানুষের কষ্টের করুন কাহিনী। আর্সেনিকের কারণে বড়দুধপাতিলা গ্রামের মাঝের পাড়ার রেণু খাতুনের (৪৫) সংসার ভেঙ্গে যায়। বিয়ের পর রেণুর হাতে, পায়ের ক্ষত যখন বড় হতে থাকে তখন শ্বশুর বাড়ীর লোকজন রেণুকে বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। আর যাওয়া হয়নি শ্বশুর বাড়ীতে। হাতে পায়ে পচন ধরার ফলে এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। একে একে কেটে ফেলতে হয়েছে হাতের সবগুলো আঙ্গুল।  এখন দুচোখের জল ছাড়া আর কিছু নেই রেণু খাতুনের। আবার আর্সেনিকের ভয়ে এ গ্রামে বাল্য বিয়ে বেড়ে যাচ্ছে। যেমন বিয়ে হয়েছে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী মুসলীমার। মুসলীমার বাবা মহম্মদ আলী বলেন, মেয়ের হাতে পায়ে কালো কালো দাগ দেখা দিচ্ছিলো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত পায়ের ক্ষত বড় হলে বিয়ে দেওয়া যাবে না। এই আশঙ্কায় অল্প বয়সেই মুসলিমার বিয়ে দিয়ে দিলাম। এখানেই শেষ নয় গ্রামবাসী আরো জানায়, আর্সেনিকের কারণে তাদের কেউ ঋণ দিতে চায়না। খেয়ে না খেয়ে ভীষণ কষ্টে কাটে তাদের জীবন।
বড়দুধপাতিলা গ্রামের মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ডাগওয়েল, গভীর নলকুপসহ কয়েকটি প্লান্ট নির্মাণ করে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে গভীরনলকুপে আর্সেনিক ধরা পড়ে। ডাগওয়েলে খরা মৌসুমে পানি উঠেনা। আবার কিছুদিন পুর্বে কারিতাস কয়েকটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করে। তাতেও আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। কল্পনাতীত এতসব প্রযুক্তি স্থাপন, অল্পদিনে নষ্ট হয়ে যাওয়া তারপর আর দেখার কেউ নেই। এসকল কারণে গ্রামবাসী হাল ছেড়ে দিয়ে নিরুপায় হয়ে এতোদিন আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানিই পান করে আসছে। ইউরেপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এর সহযোগিতায় রিসো ২০১৩ সাল থেকে দামুড়হুদা উপজেলার দামুড়হুদা, কার্পাসডাঙ্গা ও হাউলী ইউনিয়নে “এ্যানহেনসিং গভর্নেন্স এ্যান্ড ক্যাপাসিটি অব সার্ভিস প্রোভাইডার এ্যান্ড সিভিল সোসাইটি ইন ওয়াটার সাপ্লাই এ্যান্ড স্যানিটেশন সেক্টর” প্রকল্প শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময়, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ওয়াটসান কমিটি সক্রিয় করা, গ্রাম উন্নয়ন কমিটি গঠন ও তাদের মাধ্যমে সামাজিক মানচিত্র অংকনের মধ্যদিয়ে গ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করা, নলকুপের পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষা, আর্সেনিক  আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করা ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান, আর্সেনিক আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য সুদ মুক্ত ঋন প্রদানসহ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের উপর সচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করে। সেখানে ফুটে উঠে বড়দুধপাতিলা গ্রামের মানুষের অসহায়ত্বের কথা। বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের উঠে আসে বড়দুধপাতিলা গ্রামের আর্সেনিকের ভয়াবহতার কথা। কিন্তু বিগত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে প্রথমদিকে বড়দুধপাতিলা গ্রামের মানুষ এসব আলোচনায় সাড়া দেয়নি। কিন্তু আর্সেনিক প্রতিরোধে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হাল ছাড়েনি। তারা তাদের কাজ শুরু করে ২০০ পিপিএম আর্সেনিক আক্রান্ত নলকুপে এআইআরপি স্থাপন করে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গ্রহনযোগ্য মাত্রার আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির অস্থিত পায়। একটি এআইআরপি ১৫-২০ টি পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারে। যেখানে গ্রামের শতভাগ মানুষের আর্সেনিকমূক্ত নিরাপদ পানির প্রয়োজন। ফলে আরো চাহিদা বাড়তে থাকে। কিন্তু বেশীরভাগ নলকুপে ২০০ পিপিএমের চেয়ে বেশী মাত্রার আর্সেনিক থাকায় এআইআরপি করা সম্ভব হয়নি। এরপর পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। গ্রামের যে দিকে আর্সেনিক নেই সেদিকে ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করে ওভারহেড টেঙ্কের মাধ্যমে সারা গ্রামে পানি সরবরাহ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেটাও টাকা ও আর্থিক সহযোগীতা না পাওযার কারনে এগুয়নি। বর্তমানে এ গ্রামের মানুষ আর্সেনিককে আলিঙ্গন করেই জীবন কাটাচ্ছে। বড়দুধপাতিলা গ্রামের মঝেরপাড়ার মরহুম আব্দুস সামাদের ছেলে কৃষক আসাদুজ্জামান (৪৮) বলেন, আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও মেহেরপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। গত ৯ মাস আগে তার ডান পা কাটতে হয়। এখন তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেনা। একই গ্রামের ঈদগাপাড়ার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানী চিনিকলে কর্মরত আনসার আলী ( ৬৫) ও তার স্ত্রী পারুলা বেগম (৫৫) এবং তার ছেলে আতিয়ার (২৬) আর্সেনিকে আক্রান্ত। এর মধ্যে বিছানায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে পারুলা বেগম, তিনি খুব কষ্টে বিছানায় খাঁড়া হয়ে বসে বলেন, অনেক চিকিৎসা করে কাজ হচ্ছেনা। তার প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। সব সময় শরীরে অস্থির লাগে। কোন কিছুই ভাললাগে না। কারর সহযোগিতা ছাড়া তিনি উঠে দাঁড়াতে পারেননা। ২৫ বছর ধরে আর্সেনিক আক্রান্ত হলেও রাস্ট্রীয়ভাবে তার চিকিৎসা হয়নি। এখন তিনি তিলে তিলে মরতে বসেছেন। তিনি কষ্টের সঙ্গে বলেন, কোন স্বাস্থ্যকর্মীই তার চিকিৎসার খবর নিতে আসেনা।
আর্সেনিকের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন খায়রুল আলম জানান, জেলায় আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সদর উপজেলায় ৫৭১জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৯৮৭ জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৭৭৩ জন ও জীবননগর উপজেলায় ১১৮জন। এর মধ্যে নারী-১০৭৯ জন, পুরুষ-১৩৭০ জন। এ পর্যন্ত আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৭ জন। গত ২৪ জানুয়ারি’২০১৮ আর্সেনিক রোগীর হালনাগাদ তথ্য ঢাকা মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বরাবর পাঠানো হয়েছে।  এছাড়া আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর্সেনিক প্রবণ এলাকায় নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী মো: হাচানুজ্জামান বলেন, আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭০ হাজার ৫০০ জনকে ৩ হাজার ৪৯২টি বিভিন্ন ধরনের পানির উৎস স্থাপন করে দেওয়া, ৫৯ হাজার ১৫০ জনের জন্য ৩৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ, ২৮ হাজার জনের জন্য ৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এআইআরপি নির্মাণ, ২৮ হাজার জনের জন্য ৩৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গভীর নলকুপ নির্মাণ, দর্শনা ও জীবননগর পৌরসভায় ৩৭ হাজার ৯৪০ জনের জন্য ৩২ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, জীবননগর পৌরসভায় ২৪ হাজার ৩০০ জনের জন্য ১টি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৫৫ হাজার ৭০২ জনের জন্য ৪০ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপলাইন  স্থাপন ও ১টি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ এবং জাপান সরকারের অর্থায়নে ১টি গভীর উৎপাদক নলকুপ স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার বটিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সোলার এনার্জি পাম্পের সাহায্যে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অন্যান্য কাজের পূনাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে এ জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ