ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় টিসিবির ন্যায্য মূল্যের পণ্য বিক্রি শুরু না হওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছে ভোক্তারা

চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গা জেলায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্য মূল্যের পণ্য বিক্রি না হওয়ায় এ জেলার ভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছে। ভোক্তাদের চাহিদা মাথায় রেখে সরকার ২০০৯ সাল থেকে টিসিবির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে ন্যায্য মূল্যে কিছু পন্য বিক্রি করে আসছে। ওই সময় চুয়াডাঙ্গার ৪টি উপজেলায় ১০ জন টিসিবির ডিলার তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
সেই থেকে নানান অজু হাতে ডিলারের সংখ্যা কমতে কমতে এখন শূন্যের কোঠায় চলে গেছে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের কাঁচারীবাজারের মেসার্স হেলাল ট্রেডার্স টিসিবির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে, যার মেয়াদও শেষ হয়েছে ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলার মেসার্স স্বপ্ন কনস্ট্রাকশনের টিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ গত ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট, জীবননগর উপজেলা শহরে বাজারের মেসার্স সাগর কুমার বিশ্বাসের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট, একই উপজেলার চ্যাংখালী রোডের মেসার্স সাইদুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট, আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের কাকুলী ট্রেডাসের্র চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট, একই উপজেলার মেসার্স আলম ট্রেডার্সের চুক্তির মেয়াদ ২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ডের মেসার্স নিতুন ট্রেডার্সের চুক্তির মেয়াদ ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট, দামুড়হুদা উপজেলা শহরের দশমীপাড়ার মেসার্স জব্বার এন্টারপ্রাইজের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর, একই উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামের মেসার্স মোখলেছুর এন্টারপ্রাইজের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ও দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রেলবাজারের মেসার্স আব্দুস সাত্তারের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও নতুন ডিলার নিয়োগ ও তাদের ডিলারশিপ বাতিল করার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ডিলাররা তাদের খেয়াল খুশিমত আচরণ করে আসছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলার মেসার্স স্বপ্ন কনস্ট্রাকশনের টিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ গত ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাশিদ জানান তিনি আর টিসিবির পণ্য তুলবেননা। এতে তার ঝামেলা হয়। 
জীবননগর উপজেলা শহরে বাজারের মেসার্স সাগর কুমার বিশ্বাসের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট শেষ হলেও তার আগ্রহ নেই টিসিবির পণ্য উঠিয়ে বিক্রি করা।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বলেন, টিসিবি যে পণ্য ডিলারদের দেওয়া হচ্ছে সেগুলোর দামের সঙ্গে বাজারের দামের মিল নেই। সে কারণে লোকসানের জন্য পণ্য তুলছেনা তিনি।
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রেলবাজারের মেসার্স আব্দুস সাত্তারের চুক্তির মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও তিনি টিসিবি থেকে দামের হেরফেরের যুক্তি দেখিয়ে কোন দিনই টিসিবির পণ্য বিক্রি করবেন না বলে জানান।
তবে আলমডাঙ্গা উপজেলার মেসার্স কাকুলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, দেরী হলেও টিসিবির পণ্য তিনি তুলবেন। তিনি বলেন, টিসিবি পণ্যের মান ভাল। এবার রোজার পর অর্থাৎ ২০ মে থেকে টিসিবি পণ্য দেওয়ার কারণে ওগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে সংশয় ছিলো। এবার টিসিবি সরবরাহ করা পণ্যের দাম বাজার থেকে কম বলে তিনি জানান।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-উর্ধ্বতন কার্য নির্বাহী রবিউল মোর্শেদ বলেন, এ অঞ্চলের সকল ডিলাররা রোজার মাসে পণ্য বিক্রির জন্য তুললেও চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যতিক্রম।
এখানকার ডিলাররা পণ্যের দামের সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আমাদের বর্তমান দর নিয়ে যাচাই করেনি। তাছাড়া তারা আমাদের দুষছেও ব্যবসা করার মানষিকতা তাদের নেই। তারা ডিলার শিপ নিয়েছিলো কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। এবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বরাবর নিস্ক্রিয় ডিলারদের বাতিলের জন্য চিঠি পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এবার টিসিবি প্রতি কেজি ছোলা ৬০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, প্রতি কেজি মশুর ডাল ৫০ টাকা, প্রতি লিটার পুষ্টি সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা ও ৫লিটার ৪২৫ টাকা দামে এবং খেজুর ১০০ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে। যা বর্তমান বাজার দর ছাড়া অনেক কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ