ঢাকা, বুধবার 30 May 2018, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাইবান্ধায় গ্রাম পুলিশদের মানবেতর জীবনযাপন

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: গ্রামীণ জনপদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সামাজিক ও সরকারের উন্নয়নে অবদান রাখলেও ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি গ্রাম পুলিশদের। সামান্য বেতন ও ঈদ বা অথবা পূজার বোনাস ছাড়া আর কোনো আর্থিক সহযোগিতা পান না তারা। শুধু তাই নয় সময় মতো বেতনও হয় না বলে অভিযোগ গাইবান্ধার গ্রাম পুলিশদের।
জেলার গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ পরিবার নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত বছরের শেষের দিক থেকে অবসরপ্রাপ্ত দফাদাররা এককালীন ৬০ হাজার টাকা ও মহল্লাদাররা ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ তসলিম উদ্দিন বলেন, খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। শুধু ঈদ ও পূজা ছাড়া কোনো বোনাস দেয় না সরকার। সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখলেও গ্রাম পুলিশ নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ ১০ জন করে। এদের মধ্যে দফাদার পদে একজন ও নয়জন মহল্লাদার। বর্তমানে দফাদারদের মাসিক বেতন তিন হাজার ৪০০ টাকা ও মহল্লাদারদের তিন হাজার টাকা। এ বেতনের অর্ধেক দিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ ও অর্ধেক দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, আজকের দিনে তিন হাজার টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। কোথায় কখন কী ঘটে এটা ভেবে আমরা বাড়ি ফিরেও শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। সরকারি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমস্কেল প্রদান, রেশন ব্যবস্থা চালু ও চাকরিকালীন কেউ মারা গেলে তার পরিবারকেও একাকালীন টাকা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি আবদুল সাত্তার সরকার শেয়ার বিজকে জানায়, ইউপি ভবন ও বিভিন্ন সড়কে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন, সড়ক দুর্ঘটনার স্থানে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব পালন, মাদকদ্রব্য ও জুয়া প্রতিরোধে অভিযান, ট্রেন ও যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সময়ে রেললাইন ও সড়ক পাহারা দেওয়া, নির্বাচনকালীন ও ছিনতাই প্রবণ এলাকায় দায়িত্ব পালনসহ আরও অনেক কাজে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু আমাদের পরিবারের দায়িত্ব আজও কেউ নিল না। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলো বেতন কোনো মাসে ২০ বা ২৫ তারিখ আবার কখনও এক বা দুই মাসেও মেলে না। অন্তত প্রতি মাসে ৫-৬ তারিখের মধ্যে বেতন যেন পরিশোধ করা হয় সে দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সময় আনসারদের সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। ডিসি স্যার আনসারদের সার্বিক বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার জানিয়েছেন। সরকারের একটা বিশেষ নজরও আছে তাদের ওপর। তবে তিন হাজার টাকা বেতনের পরিবর্তে খুব তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে একটা সময় উপযোগী বেতন সরকার তাদের জন্য বরাদ্দ দেবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ