ঢাকা, বৃহস্পতিবার 31 May 2018, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমিও মুসলিম হবো

ভারতে গরু জবাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে যখন অসহিষ্ণুতা চলছে, তখন ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রশস্তি গেয়ে চলেছেন এক হিন্দু প-িত। মুম্বাইয়ে তার কবিতায় উঠে এসেছে সেই প্রশস্তি। ৬৮ বছর বয়সী সাগর ত্রিপাঠী নিজেকে পরিচিত করেছেন শায়েরি বা কবিতার মাধ্যমে। তার কবিতায় ¯্রষ্টার প্রশংসার সাথে লক্ষ্য করা গেছে মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রশস্তি। ত্রিপাঠী মনে করেন, নবী (সা:) শুধু মুসলমানদের নন, তিনি বিশ্ব মানবতার। তাই তার প্রশস্তিতে কোনো ভুল নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রচারক হিসেবেও তিনি বিবেচনা করেন নবী মুহাম্মদ (সা:)কে। বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি এখন আদালতে বিচারাধীন বিষয়, আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, যদি মানুষ তাদের অহমবোধ ছাড়ে, আর রাজনীতিকেরা দূরে থাকে, তবে এই সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব।’
সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ায় সাগর ত্রিপাঠীর ওই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের বর্তমান অসহিষ্ণু পরিবেশে সাগর ত্রিপাঠীর বক্তব্যে উদারতার সূর লক্ষ্য করা যায়। তার মধ্যে একটা কবি মন আছে বলেই হয়তো তিনি সত্য ও সুন্দরকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে দর্শন ভাবনার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞানের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, মানুষ অহমবোধ থেকে সরে আসলে এবং রাজনীতিকরা দূরে থাকলে এই সমস্যারও সমাধান সহজেই সম্ভব।
ত্রিপাঠীর বক্তব্যে ভারতের রাজনীতিকদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। শুধু ভারতেই নয়, এমন নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য বর্তমান পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি লক্ষ্য করা যায়। এ কারণেই হয়তো বর্তমান সময়ে, রাজনীতি এবং রাজনীতিকরা মানুষের কাছে তেমন মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত নেই। এটা মোটেও ভাল খবর নয়। আমরা এর পরিবর্তন চাই। এ ক্ষেত্রে যাদের করণীয় আছে তারা এগিয়ে আসবেন কী?
কারা কতটা এগিয়ে আসবেন তা আমরা জানি না। এ বিশ্বে কত রকম ঘটনাই না ঘটে চলেছে। তবে বর্তমান সভ্যতায় মন্দ ঘটনার আধিক্যই লক্ষণীয়।  এর দায় সভ্যতার পরিচালকদের ঘাড়েই বর্তায়। আর যারা সংশ্লিষ্ট থাকেন তারাও দায় এড়াতে পারেন না। কিছু লঘু ঘটনাও ঘটে, ঘটে আবেগমথিত ও কৌতূহল উদ্দীপক ঘটনাও। ক্রীড়াঙ্গনে আবেগঘন ঘটনার তো কোন কমতি নেই। এ প্রসঙ্গে সালাহ-এর নাম উল্লেখ করতে হয়।
চলতি মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলকে তুলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে। দলকে রেখেছেন সেরার দৌড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হাজার হাজার অমুসলিম ভক্তও। তাদেরই একটা বড় অংশ মুসলমান হতেও রাজি। ধর্মপ্রাণ হিসেবে সালাহর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। তাতে শুধু মুসলিমরা নন, অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অমুসলিমরাও। তাই প্রিয় খেলোয়াড়ের সাথে মসজিদে পর্যন্ত যেতে চান অনেকেই। প্রতিপক্ষের সঙ্গে লিভারপুলের খেলার সময় এমন ইচ্ছার কথা তারা প্রকাশ করেছেন গানে গানে। যেমনÑ ‘যদি সে তোমার জন্য ভাল হয় তবে আমার জন্যও ভাল।/যদি সে আমাদের জন্য আরও কিছু গোল করে তবে আমরা মুসলিম হতেও রাজি।/যদি সে তোমার জন্য ভালো হয় তবে সে আমার জন্যও ভাল।/যদি সে মসজিদে যায় তবে আমিও সেখানে যেতে রাজি।’ সালাহকে নিয়ে ভক্তদের ‘আমিও মুসলিম হব’ শিরোনামের গানটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। ফুটবলের মিসরীয় এই রাজা মাঠে ঢুকতেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসে গানের ওই সুর। তাকে নিয়ে বাঁধা এই গানের সুবাদে অনেকেই এখন ইংলিশ এই ক্লাবটির ভক্ত হচ্ছেন। সালাহ একজন নিবেদিত প্রাণ মুসলিম। প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েই সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেজদায় অবনত হন, দুই হাত তুলে মুনাজাত করেন। খেলা শুরুর আগেও দোয়া করেন। যেখানে যান সঙ্গে রাখেন পবিত্র কুরআন।
সালাহকে নিয়ে, ফুটবলকে নিয়ে আমি কোন গুরুগম্ভীর আলোচনায় যেতে চাইনে। শুধু এটুকুই বলতে চাই, মানুষ আন্তরিকভাবে কিছু করলে তার ফল পাওয়া যায় এবং সমাজে, বিশ্বে তার ইতিবাচক প্রভাবও পড়ে। বর্তমান সংঘাতময় অশান্ত বিশ্বে মুসলমানরা যদি পবিত্র কুরআনের মর্মবাণীর আলোকে জ্ঞানচর্চা করতো, ওহী ও বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে সমন্বয় ঘটাতে পারতো তাহলে মানব জাতি সংকট থেকে মুক্তি পেত। যুগ যুগ ধরে বিশ্বনেতারা শান্তির কথা বলে আসছেন, যুদ্ধ বন্ধের কথা বলছেন; কিন্তু যুদ্ধতো বন্ধ হচ্ছে না, বরং বহুমাত্রিক যুদ্ধের মাত্রা বাড়ছে। আর এখন তো এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, যারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাতব্বরি করছেন তারাই আসলে যুদ্ধের কলকাঠি নাড়ছেন, প্রত্যক্ষ যুদ্ধেও শরিক হচ্ছেন। কথা ও কাজে এমন গড়মিলের কারণেই পৃথিবীটা এখন এতো অনিরাপদ। সভ্যতার এমন সংকট দূর করার ক্ষেত্রে মুসলমানরা তাদের ধর্মনির্দেশের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, মুসলমানরা এখন পোশাকি ইসলামেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছেন, ধর্মের মূল বার্তায় যেতে পারছেন না। পারবেন কী করে? মুসলিম নেতারা তো এখন পাশ্চাত্যের ভ্রান্ত সভ্যতার অনুসারী, পাশ্চাত্যের খলনায়কদের তারা আনুগত্য করে চলেছেন। ফলে সংকটের মাত্রা বেড়েই চলেছে। কবে তাদের ঘুম ভাঙবে কে জানে। তবে ঘুম ভাঙ্গা প্রয়োজন, প্রয়োজন জাগৃতির।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ