ঢাকা, শুক্রবার 1 June 2018, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাস ও দুর্নীতি রোধে রোজার ভূমিকা

প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী : রোজা ইসলামের অন্যতম বুনিয়াদ। নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র প্রাপ্তবয়স্ক সকল মুসলিমের ওপর রমযানে পূর্ণমাস রোজা রাখা ফরজ। অসুস্থতা ও সফরে থাকলে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করে দেয়ার সুযোগ রয়েছে। অতি বার্ধক্য ও চিররুগ্ন যাদের পক্ষে রোজা রাখা আদৌ সম্ভব নয়, কেবল তারা ফিদিয়া (এক রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্যদান) দিয়ে রোজা রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেতে পারে। আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখলে তার কাফ্ফারা হলো এক রোজার পরিবর্তে ক্রমাগত ষাটটা রোজা রাখা যা আদৌ সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে সহজেই রোজা রাখার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। রোজা ফরজ প্রসঙ্গে আল্লাহপাকের বাণীÑ ‘হে ঈমানদারগণ তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)। এতে বোঝা যায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে যতগুলো শরীয়ত এসেছে সবার প্রতি রোজা কোনো না কোনোভাবে ফরজ ছিল। এই রোজা ফরজ করার পেছনে আল্লাহপাক তাঁর উদ্দেশ্যও বলে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো এই যে, রোজা রাখার মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা। আল্লাহ মানুষকে কেবল তাঁরই ইবাদতের (গোলামী) জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইবাদত বা গোলামী করার অর্থ হলো আল্লাহ যে কাজ করতে আদেশ করেছেন তা সম্পন্ন করা এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। এই গোলামীর নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। চেতনা লাভের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় সর্বক্ষণ আল্লাহর হুকুম পালনের নামই হলো ইবাদত। আল্লাহ এই বিশ্বজাহানের মালিক (শাসক), হাকিম (বিচারক) ও রব (পালনকর্তা)। তিনি চান যে তাঁর সা¤্রাজ্যে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকুক এবং সকল মানুষ সুখ-শান্তি-স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করুক। মানবজাতির জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে নবী-রসূল ও বিধান দান করেছেন এবং তাঁর পক্ষে সমাজে তা কার্যকর করার জন্য প্রতিনিধির মর্যাদা দিয়ে মানুষকেই দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁর বিধানে মানবজাতির জন্য যা হিতকর তা করার আদেশ রয়েছে এবং যা ক্ষতিকর তা করতে নিষেধ রয়েছে। মানুষের সুখ-শান্তি-স্বস্তি ও নিরাপত্তা ব্যহত করে এমন সকল কর্মকান্ড তিনি হারাম করেছেন এবং দুনিয়ার জীবনে হারামকে হারাম হিসেবে কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মানুষেরই। মূলত এ দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে মানুষ রাষ্ট্রশক্তির উদ্ভব ঘটিয়েছেন। নবী-‘রসূলদের দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রশক্তি নিজেদের করায়ত্তে নিয়ে সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করার লক্ষ্যে শাস্তিবিধানের পাশাপাশি আখিরাতে পুরষ্কার ও শাস্তিদানের ঘোষণার মাধ্যমে মানুষকে স্বতস্ফূর্তভাবে ভালো কাজ সম্পন্ন এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। উদ্বুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে নামায-রোজা বড় কার্যকর প্রক্রিয়া। কাউকে মনিব হিসেবে মেনে তাঁর আনুগত্যের জন্য বড় প্রয়োজন তাঁকে স্মরণ ও ভয়। মানুষ যে আল্লাহর গোলাম-এ বোধ-উপলব্ধি জাগ্রত করে নামায। একজন মুসলিম ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে মুয়াজ্জিনের আযানে আল্লাহর ঘরে ছুটে এসে প্রমাণ করে যে, সে আল্লাহর গোলাম এবং বারবার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে যে-‘আমরা তোমারই গোলামী করি ও তোমারই কাছে সাহায্য চাই’। কর্মব্যস্ততার মাঝে এমনিভাবে যোহর, আছর, মাগরিব ও এশায় বান্দা আল্লাহর কাছে তাঁরই আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বারবার আল্লাহর কথা স্মরণ করে দেয় বলে নামাযকে বলা হয় যিক্র। নামাযের কল্যাণকারিতা সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই বলেছেন-‘নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে’। আর রোজা মানুষের মধ্যে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকার নামই হলো রোজা। সব পবিত্র জিনিসই তার জন্য হালাল। কিন্তু রমযান মাসে আল্লাহপাক রোজাবস্থায় তা হারাম করে দেয়ায় সুযোগ থাকা সত্তে¦ও কেবল তাঁরই ভয়ে ভোগ থেকে বিরত থাকে। সবার সাথে সাহরী খায়, আবার সবার সাথে ইফতার করে, কিন্তু সাহরী থেকে ইফতার এই দীর্ঘ সময় ক্ষুধা-পিপাসায় অস্থির হয়ে পড়লেও লোকচক্ষুর আড়ালে কিছুই গ্রহণ করে না এবং করে না এই কারণে যে, কেউ না দেখলেও আল্লাহ দেখেন-এই বিশ্বাস তার মধ্যে দৃঢ়মূল করে দেয় রোজা। একদিন দুইদিন নয়, টানা একটি মাস বান্দার মধ্যে আল্লাহভীতি জাগ্রত হওয়ার এ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বান্দা রোজার মাধ্যমে লাভ করে। বৈধ জিনিস সাময়িকভাবে হারাম করার কারণে এখন একজন ব্যক্তি রোজার দিনে তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। সে কী করে আল্লাহ কর্তৃক স্থায়ীভাবে হারাম ঘোষিত জিনিস ভোগ-ব্যবহার করবে? সমাজের জন্য ক্ষতিকর এমন সবকিছু আল্লাহ হারাম করেছেন। সুদ-ঘুষ, মদ-জুয়া ও সকল নেশাজাতীয় দ্রব্য, যিনা-ব্যভিচার ও সব ধরনের অশ্লীলতা, ওজনে কম-বেশি করা ও ভেজাল দেয়া, ধোকা-প্রতারণা, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও খেয়ানত, গীবৎ ও চোগলখুরি, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি-কাটাকাটি, গুম-খুন, চুরি-ডাকাতি-রাহাজানি, সব ধরনের জুলুম-নির্যাতন ও অসদাচরণ সবই হারাম ও কবিরা গুনাহ এবং তাওবা করে সংশোধন ছাড়া পরিণতি জাহান্নাম। ইসলাম নামায-রোজার মতো আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাসকে শানিত করতে চায় যাতে কারো প্রলোভন বা ভয় ছাড়াই নিজ থেকে সকল পাপাচার থেকে দূরে থাকতে পারে এবং থাকেও। আল্লাহর ভয় ও সন্তুষ্টির লক্ষ্যে যারা নামায-রোজা আদায় করে, তারা নিঃসন্দেহে সৎ লোক এবং সমাজ তাদের থেকে কেবল কল্যাণই পেয়ে থাকে। তাই ‘রসূল (সা) বলেছেন-‘রোযজ রেখে কেউ যদি মিথ্যা ও মন্দ কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে না পারে, তার রোজায় ক্ষুত-পিপাসায় কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কিছুই জোটে না’। নামাযের বিষয়েও তিনি বলেছেন-‘যে নামায মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে না রাখে, সে নামায আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়’। মারামারি-খুনোখুনি-সন্ত্রাসের তো প্রশ্নই ওঠে না, কেউ ঝগড়া করতে চাইলে একজন রোজাদারের জবাব হয়-ভাই, আমি রোজাদার। এইভাবে রোজা মানুষকে ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহার শেখায়।

বাংলাদেশ আজ দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। একজন দরিদ্র ফলবিক্রেতা থেকে শুরু করে দেশের আমলা ও মন্ত্রী-মিনিস্টার কেউ দুর্নীতি থেকে মুক্ত নয়। শেয়ার কেলেঙ্কারী থেকে শুরু করে হলমার্ক, ডেসটিনি, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কোন প্রতিষ্ঠানই দুর্নীতিমুক্ত নয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর ভাষায় পুকুরচুরি নয় সাগরচুরি ঘটছে। শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান নৈমিত্তিক ঘটনা। অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন ফাইল নড়ে না, চাকরিতে ঘুষ, পদোন্নতিতে ঘুষ সর্বত্রই ঘুষ। অথচ এরা ভালো করেই জানে-‘ঘুষ দানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ই দোযখী’। কে বলবে এরা বিশ্বাসী জাতি? এদের বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। সমাজের কর্তৃত্বের আসনে যারা আছেন এবং যাদের দ্বারা সমাজের সিংহভাগ অন্যায়-অপকর্ম-দুর্নীতি সাধিত হচ্ছে, তারা সবাই বিশ্বাস বিবর্জিত হয়ে পড়েছে। পরকালে ন্যূনতম বিশ্বাস থাকলে দেশটা আজ এ অবস্থায় উপনীত হত না। মিছিল করে যেন গোটা জাতি জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যারা তাদেরকে পেছন থেকে টেনে ধরছে তাদেরকে দুশমন ভেবে জুলুম-নির্যাতনে তাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। সমাজে সৎ ও ধর্মপরায়ণ লোকদের জীবন আজ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, তারা নানাবিধ জুলুম-নির্যাতনের শিকার। দুর্নীতি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করার কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেই বরং তা ধ্বংস করার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গুম-খুন-সন্ত্রাসে আজ জনজীবন বিপর্যস্ত। কেউ আর নিরাপদ নয়। মসজিদের মুয়াজ্জিন, ব্লগার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, হিন্দু জনগোষ্ঠী সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে। মুসলিম অধ্যুষিত একটি জনপদে এমনটি কখনই কাম্য নয়। ‘রসূল (সা) ও তাঁর সাথীরা যখন অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতনের সম্মুখীন, সে সময়ে খানায়ে কাবায় অবস্থানরত আল্লাহর নবী (সা)-এর কাছে তাঁর সাথীরা জানতে চান কখন আসবে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুত সাহায্য? তাঁদের শোনানো হয়েছিল যে, আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে এবং আশ্বস্ত করা হয়েছিল-‘সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন একজন ষোড়শী স্বর্ণালঙ্কারসহ সানা থেকে হাজরা মাউত একাকী হেঁটে যাবে, তাকে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করতে হবে না’। ‘রসূল (সা) তাঁর সাথীদেরকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং সেই সমাজের কারিগরদেরকে নামায ও রোজা অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তুলেছিলেন। একজন ব্যক্তি প্রকৃতই যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নামায ও রোজা আদায় করে থাকেন তাহলে তার দ্বারা কখনই মানুষকে কষ্ট দেয়ার মত কোন আচরণ সম্ভব নয়। কেউ ঝগড়া করতে আসলে সে বলবে ভাই, আমি রোজাদার (পাল্টা ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না)-এই যেখানে শিক্ষা সে কেমন করে মানুষ খুন করবে বা কাউকে আহত করবে? সে তো ভালো করেই তার রবের হুকুম জানে-‘নিশ্চিত ধ্বংস তাদের জন্য যারা মানুষকে সামনা-সামনি গালাগাল করে ও পেছনে দোষ প্রচার করে’। তারা নবী (সা)-এর কথাও ভুলে থাকতে পারে না-‘ঐ ব্যক্তি মু’মিন নয়, মু’মিন নয়, মু’মিন নয় যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ নয়’। তাই যার মধ্যে সর্ষেকণা ঈমান আছে ও পরকালে জবাবদিহিতার ভয় আছে তার দ্বারা আল্লাহর কোন সৃষ্টির সামান্যতম ক্ষতি হওয়াও সম্ভব নয়। এটিই বাস্তবতা। এর ভিন্নতর যা কিছু দেখা যায় তা একান্তই মুসলিম নামের কলঙ্ক-ভন্ড, প্রতারক, নাস্তিক ও মুরতাদদের কাজ। ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। স্বাভাবিকভাবে একজন নামাযী ও রোজাদার মানুষ মাত্রই সৎ ও আইনানুগত মানুষ এবং সমাজে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টির সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আল্লাহর কুরআন ও ‘রসূল (সা)-এর হাদিস তাই বলে। এর থেকে অন্যথা হওয়া কখনই সম্ভব নয়-তাহলে আল্লাহর বাণী মিথ্যে হয়ে যায় (নাউঁজুবিল্লাহ)। হ্যাঁ, ভন্ড, প্রতারক ও লোক দেখানো কেউ হলে তার কথা স্বতন্ত্র- সে তো শয়তানেরই অনুচর। এগুলো ব্যতিক্রম। তাই আল্লাহতায়ালা রাষ্ট্রসরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন (নামায প্রতিষ্ঠা, যাকাত আদায়, ভালো কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে নিষেধ) তা পালনের মাধ্যমেই সম্ভব সমাজ থেকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দূর করা।

সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েই যুগে যুগে নবী-‘রসূলদের আগমন ঘটেছিল এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর ‘রসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একই দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে এ দুনিয়ায় এসেছিলেন এবং সবাই ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, সমসাময়িক রাজশক্তি ও কায়েমী স্বার্থবাদীদের দ্বারা সবাই চরমভাবে নিপীড়িত-নির্যাতিত হয়েছেন এবং এই নির্যাতন চালাতে জালেমদের ছলনারও কোন অভাব হয়নি। কিয়ামত পর্যন্ত সত্য ও মিথ্যার এ দ্বন্দ¦ চলবে এবং আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এটি একটি পরীক্ষা বৈ আর কিছুই নয়। আল্লাহ কাউকে তাঁর ইলমের ভিত্তিতে পুরস্কার বা শাস্তি দেবেন না। তিনি বান্দার আমলের ভিত্তিতেই পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করবেন। তিনি জালেম ও মজলুম উভয়েরই পরীক্ষা নেবেন। মজলুমের পরীক্ষা হলো শত নিপীড়ন-নির্যাতনে সে কতটুকু সত্য আঁকড়ে থাকতে পারে, আর জালেমের পরীক্ষা হলো সে কতখানি সীমালঙ্ঘন করতে পারে। ফলে এই পৃথিবীতে যারাই তাঁর সৃষ্টির সাথে জুলুম করছে তা যেমন তিনি দেখছেন, তেমনি মজলুমের সাথে যা করা হচ্ছে তাও তাঁর দৃষ্টির বাইরে নয়। কিয়ামতের দিন কড়ায়-গন্ডায় হিসেব করে তিনি জালেম ও মজলুম উভয়কেই তার উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন। এই বিশ্বাস মজলুমকে প্রতিশোধস্পৃহা থেকে দূরে রেখে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে সহায়তা করে। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সবধরনের জুলুম থেকে হেফাজত করুন এবং জালেমকেও জুলুম থেকে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন।

 লেখক : উপাধ্যক্ষ (অব), কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ