ঢাকা, শনিবার 2 June 2018, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভাসানীর ফারাক্কা আন্দোলন পানির দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল

জিবলু রহমান : [ছয়]
১৭ নভেম্বর ২০১৪ দিল্লিতে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিস্তার পানির সঙ্গে রাজ্যের স্বার্থের প্রসঙ্গটি জড়িত। অবশ্য মমতা তিস্তায় পানির প্রবাহ জানতে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটি অনেক দিন আগেই রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিলেও মমতা সে ব্যাপারে আর কোন উচ্চবাচ্য করেন নি। তবে মমতা অভিযোগ করেছেন, ভারত সরকার গোপনে ফারাক্কা দিয়ে পানি ছেড়েছে, তিস্তার পানিও ছেড়েছে। আর তিস্তার পানি বণ্টনে যে তার সায় এখনও নেই সেই ইঙ্গিতই তিনি দিয়েছেন। তবে মমতা দাবি করেছেন, গত ইউপিএ সরকারের আমলে তার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হলেও এখন বাংলাদেশের সঙ্গে তার দল ও সরকারের সম্পর্ক মোটেই খারাপ নয়। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ১৯ নভেম্বর ২০১৪)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের রাজনীতি করছেন প্রতিবেশী দেশের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বিষয়ে কিছুটা আন্তরিক মনে হলেও ফয়সালা হওয়ার আগে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই। সামনে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এর মাঝেই হাঁকডাক পড়ে গেছে। তিস্তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ মনোভাবের সমালোচক ভারতে এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও আছেন অনেকে। সে দেশের সুশীল সমাজের বড় একটি অংশ এসব বিষয় নিষ্পত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও কার্যকর সম্পর্ক করার প্রশ্নে জোর দিচ্ছে। তারা বলছে, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভারতের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের ২০০৯ সালের নির্বাচিত সরকার ভারতকে একতরফা বিভিন্ন সুবিধা দিতে থাকে। আওয়ামী লীগ জনগণকে বুঝিয়েছিল, এর প্রতিদানে ভারত অনুকূল সাড়া দেবে। কিছুটা দেয়নি এমন নয়, তবে মূল পানি বণ্টনের বিষয়টি থাকছে উপেক্ষিত। গজলডোবা বাঁধ থেকে এক লাখ হেক্টর জমিতে চাষ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হয়েছে সেচ অঞ্চল। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে এ নদে স্থাপিত পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলেও জানা যায়। অথচ এই পানিতে তো বাংলাদেশের ভাগ আছে। এই ভাগ চাইলে নির্মমভাবে না বলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। আর আমরা চার হাজার একর সেচসুবিধার একটি রাবার ড্যাম দিলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা না করার অভিযোগ তোলা হয়।
ফারাক্কার মরণ ছোবলে আজ আমাদের অন্যতম প্রধান জীবনপ্রবাহ এখন মৃত্যুমুখী, তার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব নদীই ব্যাপকভাবে সংকটাপন্ন এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির পরও এক দশকের অধিক সময় বাংলাদেশ তার প্রাপ্য পানি পায়নি। ব্রহ্মপুত্র ও সুরমা-কুশিয়ারার ওপর ঝুলছে প্রায়-অবশ্যম্ভাবী ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও টিপাইমুখ ড্যাম।
বিভিন্ন রাজ্যের পানির অভাব দূর করতে এক মহাযজ্ঞ শুরুর পথে ভারত। অর্থ, সময় ও প্রকল্পের বিশালতা-সব মিলিয়ে ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্প আসলেই এক মহাযজ্ঞ। এ নিয়ে প্রায় বছর তিরিশ ধরে নানা তর্কবিতর্ক, সংশয় আর দোদুল্যমানতার পর এর কাজ এখন শুরু হলো বলে। ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকারকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মরিয়াই মনে হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতী ২০১৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি বলেছিলেন, নদী সংযোগের কাজ ‘কয়েক দিনের’ মধ্যেই শুরু হতে পারে। ভারতের এই নদী সংযোগ প্রকল্প ১৯৮০-র দশকে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার প্রথম এ পরিকল্পনা হাতে নেয়। এরপর নানা সময়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারগুলোর কাছ থেকে এ ব্যাপারে সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়। এখন সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে কার্যত কোনো বাধা নেই।
এ কে এম জাকারিয়া লিখেছেন, ‘....এ প্রকল্প দীর্ঘদিন ঠেকে ছিল, কারণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ নিয়ে বিরোধিতা আছে, আছে পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের আপত্তি। তবে ২০১২ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে। ভারতের এই নদী সংযোগ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে খালের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেয়া। নদীর উৎসমুখ বা এর কাছাকাছি উজান থেকে পানি সরিয়ে নেয়া হলে নদীটির নিচের দিকে পানির সংকট দেখা দেবে এটা সাধারণ হিসাব। এই নদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত যে পানি সরাবে, তার কোনো ভাগ বাংলাদেশ পাবে কি না বা পানির ভাগাভাগি কীভাবে হবে, তার কিছুই পরিষ্কার নয়। তবে সব পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরাই বলছেন যে ভারতের বাইরে এবং নদীগুলোর সবচেয়ে ভাটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশের ওপর এর কোনো না কোনো প্রভাব পড়তে বাধ্য।
নদী সংযোগ প্রকল্প কার্যত ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রকল্প, কিন্তু নদীগুলো আন্তর্জাতিক। যে নদীগুলোর উজান থেকে ভারত পানি সরাবে, সেই পানির ওপর বাংলাদেশের জনগণের জীবন-জীবিকা, এখানকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রকৃতি সবই নির্ভরশীল। ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্পে এ বিষয়টি কতটুকু, কোন মাত্রায় বা আদৌ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে কি না, সেটা এখন এক বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টায় দেশের বেশ কয়েকজন পানি ও নদী বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কথা বলতে চেয়েছি। কার্যত সবাই এড়িয়ে গেছেন। কেউ অফ রেকর্ড কিছু বলেছেন......।’ (সূত্র : নদী সংযোগ প্রকল্প-আমরা কোন ভরসায় বসে আছি? দৈনিক প্রথম আলো ২০ জুন ২০১৬)
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান ১৮ মে ২০১৬ ভারতের এই নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্প শুধু দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যেই নয়, বরং প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গেও বিরোধ ডেকে আনতে পারে। ভারতের এ প্রকল্প গঙ্গা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাটিতে বসবাসকারী ও জীবন-জীবিকার জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের ১০ কোটি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলামের মন্তব্য রয়েছে সেই প্রতিবেদনে। তিনি বাংলাদেশের পানির চাহিদা বিবেচনায় নেয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘খরায় ক্ষতিগ্রস্ত নিজের জনগণের দিকটিতে ভারত খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের অধিকারের বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।’
গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ভারত সরকার বাংলাদেশের পানি সমস্যাকেও বিবেচনায় রেখেছে। আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই, তবে বাংলাদেশ যাতে তার পানির ভাগ পায়, তা আমরা নিশ্চিত করব।’
ভারতের জোরেশোরে এই প্রকল্প নিয়ে লেগে পড়ার কারণ দেশটি কিছু অঞ্চলের চরম খরা পরিস্থিতি। প্রায় ৩৩ কোটি মানুষ খরায় বিপর্যস্ত। গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে জরুরি উদ্যোগ হিসেবে এমনকি ট্রেনে করেও পানি সরবরাহ করতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় স্কুল ও হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। শত শত পরিবার গ্রাম থেকে শহরের দিকে গেছে। এই নদী সংযোগ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে উত্তর ও পশ্চিম ভারতীয় রাজ্যগুলো থেকে খরাপ্রবণ পূর্ব ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে পানি সরিয়ে নেয়া হবে।
যে নদীগুলো থেকে পানি সরানো হবে, তার মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো বড় নদী রয়েছে। খাল কেটে মধ্য ভারতের কেন ও বেতওয়া এবং পশ্চিম ভারতের দামানগঙ্গা-পিঞ্জাল নদীকে সংযুক্ত করা হবে। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় ভারতে ৩৭টি নদী ১৫ হাজার কিলোমিটার খালের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত হওয়ার কথা। এর মধ্যে হাজার হাজার পানি ধরে রাখার আধার ও ৩৪ গিগাওয়াটের পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পও রয়েছে। বিশাল এ প্রকল্পের জন্য খরচ হবে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন রুপি (৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই নদী সংযোগ প্রকল্পের পক্ষে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি ভারতের পানি সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।
এ কে এম জাকারিয়া আরো লিখেছেন, ‘....এ প্রকল্প নিয়ে ভারতের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। পরিবেশকর্মীরা শুরু থেকেই এ ধরনের প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের দাবি, এ পরিকল্পনা স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। এ ধরনের প্রকল্প কতটুকু বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে ভারতের পানি বিশেষজ্ঞ মহল থেকে। ভারতের অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, এ ধরনের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সরকারের উচিত বর্তমান পানিসম্পদ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ করা এবং এর পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি পর্যালোচনা করা।
রিভার রিসার্চ সেন্টারের ড. লাথা অনন্থা মনে করেন, এ প্রকল্প ভারতের নদীভিত্তিক প্রতিবেশের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘সরকার দেশের ভূগোলকে নতুনভাবে আঁকাতে চাইছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর, বন্যপ্রাণীর এবং ভাটির দিকে থাকা কৃষকের কী হবে? নদীকে শুধু পানির উৎস হিসেবে দেখলে হবে না। দেখতে হবে একটা পূর্ণাঙ্গ ইকো সিস্টেম হিসেবে।’
লাথা অনন্থা মনে করেন, এর জন্য যে অসংখ্য খাল খনন করতে হবে, তার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশকে অস্বীকার করা হবে। এটা হবে অর্থের অপচয়। ‘উদ্বৃত্ত’ পানি দেখিয়ে যে পরিমাণ পানি সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেই হিসাবের মধ্যে অতিরঞ্জন আছে বলে তিনি মনে করেন।
ভারতের নদী সুশাসন তদারক প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ড্যামস রিভারস অ্যান্ড পিপলের (এসএএনডিআরপি) হিমাংশু ঠাক্কার মনে করেন, প্রকল্পটি বাস্তবানুগ হবে না। এ ধরনের কোনো প্রকল্পের নমুনা বা নজির বাস্তবে নেই। ‘আমরা একটি যথাযথ পরিবেশ, সামাজিক ও হাইড্রোলজিক্যাল প্রভাবের পর্যালোচনা চাই এবং সেসব জানার একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চাই। শুধু এরপরই আমরা সঠিক বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে আসতে পারব।’
এসব বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নিলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীগুলোর ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের এ প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তাদের জীবন-জীবিকার জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল। বিস্ময়করভাবে নদী সংযোগ প্রকল্পের বিষয়টি সামনে চলে আসার পর ভারতে এ নিয়ে যেসব আলোচনা ও তর্কবিতর্ক হচ্ছে, বাংলাদেশে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। নদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরুর ঘোষণা আসার পরও এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো অবস্থান জানা যাচ্ছে না। জনগণকে কিছু জানানোর প্রয়োজনও মনে করছে না। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কিছু জানানো বা আশ্বস্ত করা হয়েছে কি না, সেটাও কোনো তরফে পরিষ্কার করা হচ্ছে না।
আমাদের মনে আছে, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ডেভেলপমেন্ট বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ’-এ স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে ধারা ২-তে বলা আছে, ‘অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সুবিধার জন্য অভিন্ন অববাহিকা ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে। বন্যার পূর্বাভাস ও বন্যানিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষ সহায়তা করবে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং নদীপথ ও বন্দরে ঢোকার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষই একে অপরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।’ ভারত যদি একক বিবেচনায় ও নিজেদের মতো করে নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়, তবে তা হবে এই ধরার বরখেলাপ.....।’
আপনি যে রঙের চশমা (দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবেন) পরবেন আপনি সামনে সেই রঙেই দেখবেন। লাল চশমা পরলে লাল, সবুজ পরলে সবুজ, হলুদ পরলে হলুদ, কালো পরলে সবকিছু দেখবেন কালো। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যেমন হবে আপনি তেমনি সব দেখবেন। মন সুন্দর করলে আপনি সবকিছুই সুন্দর দেখবেন। আপনার সুখ, আপনার খুশি, আপনার আনন্দ অন্যের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে আপনার ওপর। এসব অনুভবগত বিষয়। বাংলাদেশকে বাঁচতে হলে অববাহিকাভিত্তিক নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আর নিশ্চিতভাবেই তার মূল নৈতিক ও আইনি ভিত্তি হবে ‘জাতিসংঘ নদীধারা সনদ, ১৯৯৭’। কবি বলেছেন ‘একবার না পারিলে/দেখ শতবার’ এর মতো ফারাক্কার পানি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখা ১৬ কোটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি। [সমাপ্ত]
jiblu78.rahman@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ