ঢাকা, রোববার 3 June 2018, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সমস্যা কি অনেক গভীরে?

শৈশবের অনেক স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। এর মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে ছিল আমাদের শৈশব। বিদ্যালয়ের লেখাপড়া, কলকাকলি ছিল আমাদের প্রিয় বিষয়। বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল খেলার মাঠ। তবে আমাদের শৈশবের শিক্ষকরা বোধহয় একটু কড়াই ছিলেন। এখন বুঝতে পারছি, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার জন্যই তাঁরা শাসনটা একটু বেশি করতেন। তখন তো শিক্ষার বিষয়টা এখনকার মতো এতটা কমার্শিয়াল ছিল না। এ কারণেই হয়তো আমাদের শৈশবে ‘উস্তাদের কদর’ নামক কবিতা  পাঠ্য ছিল। শিক্ষকরা যে শুধু শাসনই করতেন তা  নয়, সোহাগও করতেন। তাইতো বলা হয়, শাসন করা তারেই সাজে, সোহাগ করে যে গো।
জীবনের শেষপ্রান্তে এসে আজও স্বপ্নে দেখি প্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। স্মৃতিগুলো নাড়া দেয়। কিন্তু এখনকার শিশুরা যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে, তার অবস্থা কেমন? এখনতো আবার বিদ্যালয়ের নানা রূপ, নানা বিন্যাস। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো কেমন চলছে? ২ জুন পত্রিকান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘দখলদারদের থাবায় ঢাকার ৩১ প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার ২৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৩১টিতে দখলদারদের থাবা পড়েছে। এগুলোর ভবন, জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন কমিউনিটি সেন্টার, গ্যারেজ, দোকান, ক্লাবঘর, বস্তি, কাঁচাবাজারসহ নানা প্রতিষ্ঠান। এর আগে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর ১০ম জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাজধানীর প্রাথমিক স্কুলের জমি অথবা ভবন দখলমুক্ত করতে ৫ সদস্যবিশিষ্ট ৩ নম্বর সাব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই বছরই কয়েকটি প্রতিবেদন  তৈরি করে। সে সময় কমিটি দখলকৃত ৪৮টি বিদ্যালয়ের জমি ও ভবন উদ্ধারের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। কিন্তু কয়েকটিতে উদ্ধারের তৎপরতা চালালেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ভাবতে অবাক লাগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল হয়ে যায় কেমন করে? যেখানে ছাত্র ও শিক্ষক থাকার কথা, লাইব্রেরি থাকার কথা, সেখানে এখন বিরাজ করছে অন্যকিছু। অর্থাৎ যথাস্থানে যথাবিষয় নেই। প্রশ্ন জাগে, আমাদের প্রশাসন ও সরকার যথাবিষয়ে যথাদায়িত্ব পালনে সমর্থ হচ্ছে না কেন? সমস্যা কি অনেক গভীরে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ