ঢাকা, রোববার 3 June 2018, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিংড়ার সংগ্রামী নারী খোদেজা ও বিশোকা রানী

নাটোরের সিংড়ার সংগ্রামী নারী খোদেজা ও বিশোকা রাণী

সিংড়া (নাটোর) : নাম খোদেজা, বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৪৮ বছর হবে। প্রতিদিন তাকে দেখা যায় নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাট-বাজারে। পেশায় একজন কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী হলেও তিনি একজন সংগ্রামী মা। তার বাড়ি পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর দমদমা গ্রামে। উত্তর দমদমা গ্রামের আঃ খালেকের মেয়ে খোদেজা। প্রায় ২৮ থেকে ৩০ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লার সাথে। খোরশেদ আলম নামের এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়ার পরে তাদের সংসার ভেঙ্গে যায়। তারপর থেকেই জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন খোদেজা। প্রায় ২৫ বছর যাবৎ সিংড়ার হাট-বাজারে কাঁচা তরকারীর ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ছেলেকে ছোট থেকে বড় করে বিয়েও দিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে ছেলে এখন স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ঢাকায়। ছেলের দুই সন্তান নিয়েই এখন সংসার খোদেজার। সংসার চালানোর জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠায় ছেলে খোরশেদ আলম। নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন ছেলে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন খোদেজা। প্রতি সপ্তাহে ৬১০ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয় তাকে। বছরে দু’ এক দিন বাদে প্রতিদিনই দোকানদারি করেন এই সংগ্রামী মা। টিনের ঘরে থাকেন এই হতদরিদ্র খোদেজা। সংগ্রামী মা খোদেজা বলেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা লাভ হয় ব্যবসা করে। এতেই চলে তার সংসার। সাবেক প্যানেল মেয়র গোলাম আজম বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছে। সেটা থেকে ৩-৪ মাস পর পর ১৫০০ টাকা পাই। সাবেক প্যানেল মেয়র আদনান মাহমুদ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। সিংড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমানও সবসময় আমাকে সহযোগিতা করে। বিশোকা রানী। সিংড়া পৌরসভা কর্তৃক জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় পৌর শহরের পরানহাটি দহপাড়ে স্থাপিত সৌর বিদ্যুতায়িত সড়ক বাতির আলোয় আপন মনে বাঁশ দিয়ে ডালা বুনাচ্ছেন। বয়স প্রায় ৫০ বছর। ডালা বুনানো পেশা না হলেও নেশায় পরিণত হয়েছে তার। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে তিনি পালা বুনান। স্বামী নরেন সরকার ১৫ বছর আগে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের সবারই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। ছোট ছেলে পরিবার নিয়ে নাটোরে থাকে। সেখানে একটি সেলুনে কাজ করে। বড় ছেলে মিলন সরকার বাড়িতে থাকে সেই পরিবারের খরচ চালায়। সখের বসেই অবসর সময়ে ডালা বুনান তিনি। প্রতি সপ্তাহে ২০টি ডালা বুনাতে পারেন। প্রতি পিচ ডালা বাজারে ২৫-২৫ টাকায় বিক্রি করেন। অনেকে উনার বাড়ি থেকেই ডালা পাইকারি ক্রয় করে নিয়ে যায়। ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি করলে বাঁশ ও সুতার খরচ বাদে ১০০-১৫০ টাকা লাভ থাকে। মাঝারী আকারের ১টি বাঁশ থেকে ১২-১৫টি ডালা বুনানো যায়। মাঝারী আকারের ১টি বাঁশ ১২৫ টাকায় কিনেন তিনি। পরিবারে সময় দেয়ার পাশাপাশি অবসরে ডালা বুনানো এভাবেই চলে যাচ্ছে বিশোকা রানীর জীবন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ