ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম-নির্যাতনের জবাব দিতে প্রস্তুত জনগণ

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, সরকারের আশকারাতেই বন্দুকযুদ্ধের নামে দেশব্যাপী মানুষ হত্যার বিভীষিকা চলছে। এই বেআইনি হত্যার জন্য সরকারই দায়ী। তিনি বলেন, আসন্ন আন্দোলন সম্পর্কে ভীত হয়েই মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়েছে সরকার। জনমনে ভয় ধরিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড মূলত ঈদ পরবর্তী আন্দোলন দমনে একটি টেস্ট কেস।
এ ধরনের মহৎ অভিযানে দু’একটি ভুল হতেই পারে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ভুল! তার এই বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টা করা। ড্রাগ চেইনের লিংক হিসেবে চুরি চোট্টামি করা ছিঁচকে আর প্রমাণহীন কিছু অজ্ঞাত মানুষের বিরুদ্ধে হত্যা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু, এই চেইনের শীর্ষে থাকা অমিত ক্ষমতাধর গডফাদাররা এখনো বসে আছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মাদক সরবরাহের উৎস পথ আটকানো হচ্ছে না কেন? তাহলে কারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকতে সহায়তা করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি উৎসমুখ খোলা থাকে? এর একটিই কারণ, এই উৎসমুখগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন বদির মতো এমপিরা, প্রশাসনের সহায়তায়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বদিসহ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কিভাবে এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে গেল, জাতি জানতে চায়। সরকারই গডফাদারদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করছে না তো, এমন প্রশ্নও কিন্তু উঠছে? তিনি বলেন, বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে সরকার তার টিকে থাকার সমাধান খুঁজছে। সরকার বাংলাদেশে একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু, তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়।
রিজভী জানান, এখন পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কমপক্ষে ১৩০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সবমিলে গত চার মাসে ২৫০ জন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি দাবি করেন, মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ, তাদের সহায়তাকারী হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ফেনসিডিল ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানিকে মদদ দিয়ে সরকার যুবসমাজকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আর এখন কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে এডহক ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরেক দফা উস্কে দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদেররা।
জাল নথি’র ওপর ভিত্তি করে সাজানো মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সরকারি বহু টালবাহানার পর সে মামলায় বেগম খালেদা জিয়া উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও সরকারি কারসাজিতে জামিন আটকে দেয়া হয়েছে। হাইকোর্ট কোন মামলায় জামিন দেওয়ার পর আপিল বিভাগ কারও জামিন স্থগিত করে এমন নজির বাংলাদেশে আর একটিও নেই। মামলাগুলো নিম্ন আদালতেই জামিনযোগ্য, অথচ এতে প্রমাণিত হয় সরকার সকল স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে নিজের কব্জায় রেখেছে। আদালতের শরীর থেকে ন্যায়বিচারের আত্মা উধাও করে এটিকে একটি শূন্য কাঠামোতে পরিণত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে সরকার। 
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত কারাগার যা এখন ভাঙ্গাচোরা স্থাপনা, সেখানে বন্দী করে রাখা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে প্রচন্ড অসুস্থ। দুই’শো বছরের পুরনো একটি ধ্বংসাবশাষের মধ্যে বেগম জিয়া আটক রয়েছেন, ফলে নানা রোগ তাকে আক্রান্ত করছে। ভোটারশূন্য একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতেই বেগম জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে-অন্য কোন কারণে নয়, জনগণ কেবল একটি ৫ই জানুয়ারী মার্কা নির্বাচনী তামাশা দেখার অপেক্ষা করছে। কারাভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে অবিরামভাবে ঝরে পড়া সিমেন্ট, বালি’র ধুলোয় আক্রান্ত হয়ে দেশনেত্রী কাশি ও জ্বরে ভুগছেন এবং এতে করে কিছু দিন আগে অস্ত্রপচার হওয়া চোখগুলো ধুলোবালিতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। চোখ সারাক্ষণ লাল হয়ে থাকছে। হাত ও পায়ের প্রচন্ড ব্যথায় তাঁর হাঁটাচলাতেও কষ্ট হচ্ছে। কারাগারে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। তাকে যে খাবার দেয়া হয় তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। বিএনপির পক্ষ থেকেও বারবার তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী উন্নত হাসপাতালে চিকিৎসার জোর দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার দেশ-বিদেশের সোচ্চার দাবিকে উপেক্ষা করছে বেপরোয়া স্বৈরশাসকের নির্দয় ভঙ্গিতে। জামিন আটকে রেখে দেশনেত্রীর মানবাধিকার লঙ্ঘন শুধুমাত্র একজনের প্রতিহিংসার প্রতিফলন। আমি আবারও দাবি জানাই-জামিন নিয়ে কানামাছি খেলবেন না। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের পূর্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বাংলাদেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে জুলুম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হচ্ছে তার জবাব দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে।
ঢাকায় আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে আসার সময় সিরাজগঞ্জ জেলাধীন শাহজাদপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এস এম হলের সাবেক জিএস ছাত্রনেতা খন্দকার তারিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ