ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদক বিরোধী অভিযানে সরকারের প্রশংসায় বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : অসাধু প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের জন্য সড়কের বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সরকারের হাতে বেশি সময় নেই। এক পশলা বৃষ্টি হলে রাস্তা নাই হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের সঙ্গে এই প্রতারণা আমরা কেন করছি?’
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকার এলেনবাড়িতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। ঈদ সামনে রেখে সড়ক-মহাসড়কে যানজট নিরসনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চালানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঈদ প্রস্তুতি সভা করে বিআরটিএ।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু কিছু প্রকৌশলীর কারণে সব প্রকৌশলী দায়ী হবেন কেন? অসাধু প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব ঠিকাদার ঠিকমতো কাজ করেন না, তাঁদের বাদ দিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, রাস্তা নির্মাণে ত্রুটি ঠিক করতে হবে।
রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তায় যানজটের অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি। এসব গাড়ি রাস্তায় বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরার জন্য অভিযান চালালে রাস্তায় গাড়ি থাকে না। আমি যাই কই, মানুষ যায় কই?’
বাস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তা থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উঠিয়ে নিতে হবে। উল্টো পথে গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং করতেই হবে। এ সময় তিনি বলেন, আজ থেকে ঢাকায় সড়কের উন্নয়নের জন্য সব ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকবে। ঈদের পর এই কাজ শুরু হবে। আর ৮ জুন থেকে মহাসড়কে রাস্তা নির্মাণের কোনো কাজ হবে না। এই কাজও ঈদের পর শুরু হবে।
এদিকে অন্য একটি অনুষ্ঠানে মাদকের গডফাদারদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সরকার সহায়তা করছে বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিতেও আছে কি না, তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। বদির মতো আর কত বদি এ দেশে আছে। বদি মাদকের গডফাদার, এটা আপনি সরাসরি বলতে পারেন? প্রমাণ কী?প্রমাণ করুন। প্রমাণিত হলে বদিকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের প্যাকেজ-৭-এর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল রোববার এ অনুষ্ঠান হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় কি র‌্যাবের বড় অফিসাররা বাদ গেছে? তাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিহত একরামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একরাম আমাদের দলের কর্মী। একরামের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমি বলেছি, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় একরাম নির্দোষ, ওখানে যাঁরা তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, তাঁরাই দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে অভিযোগ আর নালিশের। আর কোনো সম্বল নেই। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছে, তার খেসারত দিচ্ছে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের সামনে শুধু হতাশা। এ হতাশা থেকেই আবোলতাবোল বলছে। যখন এ অভিযানে (মাদকবিরোধী) জনগণের প্রশংসা কুড়াচ্ছে, জনগণ খুশি এবং এ অভিযানে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তখন স্বাভাবিক কারণেই বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বলে বুদ্ধিজীবীরা বিবৃতি দিয়েছেন, এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের বিবৃতি দিতেই পারেন। সমালোচনা করার অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করছি মাদকবিরোধী অভিযান সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে। দেশের জনগণ খুশি। কারণ, দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে যে মাদক, তা থেকে তাদের (তরুণ) রক্ষা করার জন্য এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কাজেই সমালোচকেরা সমালোচনা করুন। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি দেশের জনগণ ও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ