ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমযান

মিয়া হোসেন : শেষের পথে মাগফিরাতের দশক। একে একে ফুরিয়ে যাচ্ছে মাহে রমযানের বরকতময় দিনগুলো। ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হওয়ায় এর মধ্যে দৈহিক ও আর্থিক ইবাদাতের সমন্বয় রয়েছে। নামায-রোযা দৈহিক ইবাদত, যাকাত অর্থনৈতিক ইবাদত এবং হজ্ব দৈহিক ও অর্থনৈতিক সমন¦য় ইবাদত। সূরা মুজ্জাম্মেলের ২০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, আল্লাহ তা'আলাকে (তার নির্দেশিত পথে) উত্তম ঋণ দাও, আর তোমরা নিজেদের কল্যাণে যা অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ প্রতিদান হিসেবে (পরকালে) প্রাপ্ত হবে।” রোযা যেমন দেহের পরিশুদ্ধতাকারী, যাকাত তেমন অর্জিত ধন-সম্পদের পবিত্রতাকারী। মহান রাব্বুল আলামীন সূরা আত-তাওবার ১০৩ নং আয়াতে মহানবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে ধনীদের সম্পদ হতে যাকাত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে, “হে নবী, তাদের ধন-মাল হতে যাকাত গ্রহণ করো। এর সাহায্যে তুমি সেগুলোকে এবং তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ কর।” যাকাত না দিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তাতেও যাকাত পরিশোধে অস্বীকার করলে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বৈধ হবে। হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেছেন, যে লোক যাকাত দেয়ার দায়িত্ব হতে মুর্তাদ-অস্বীকৃত হবে, আল্লাহর শপথ, আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো। বুখারী, মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ভাষা ছিল এরকম : যে লোক নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আল্লাহর শপথ, আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো।
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বর্ধিত হওয়া, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করা। আর ব্যাপক অর্থে যাকাত বলতে বুঝায়, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নেসাব পরিমাণ সম্পদের এক বছরান্তে আল কুরআনে বর্ণিত খাতে নিদিষ্ট পরিমাণ অংশ প্রদান করা। ঠিক কখন যাকাত ফরয হয়েছে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। মুহাদ্দিস ইবনে খুযায়মা দাবি করে বলেছেন, “হিজ্বরতের পূর্বে যাকাত ফরয হয়েছিল। কারো মতে হিজ্বরী দ্বিতীয় সনে রোযা ফরয হবার পূর্বে। ঐতিহাসিক ইবনুল আসীর বলেছেন,  হিজ্বরী নবম বৎসরে। আবার অনেকের মতে, সপ্তম হিজ্বরীতে ফরয হয়। আল্লামা ইবনে আসীর লিখেছেন, যাকাত ফরয হবার হুকুম মক্কা শরীফে নাযিল হয়েছে। তবে নিয়ম ও বিধি, কোন জিনিসে কতটুকু ও কিভাবে যাকাত দিতে হবে তার বিস্তারিত বিধি বিধান মদীনায় নাযিল হয়েছে।
আল কুরআনের সূরা আল বাকারার ৪৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন “আর নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।” সূরা আর রুমের ৩৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির নিমিত্তে যে সুদ ভিত্তিক লেনদেন করে থাক, প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহর নিকট কোন লাভজনক লেনদেন নয়। পক্ষান্তরে তোমরা যে যাকাত প্রদান কর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তা বৃদ্ধি পায়, ফলত যাকাত প্রদানকারীগণ মুনাফাকে দ্বিগুণ করে নেয়।” যাকাত ফরয হবার মেয়াদ সম্পর্কে তিরমিযী ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে লোক কোন ধন-সম্পদ লাভ করল, আর এর মালিকের নিকট পূর্ণ এক বৎসর অতিবাহিত হবার পূর্বে তার উপর যাকাত ফরয হবে না।”
যাকাত কারা পাবে বা যাকাতের মালের হকদার কারা বা যাকাতের সম্পদের বিতরণের খাতসমূহ সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আত তাওবার ৬০নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা হলো ফকীর, দরিদ্র, মিসকীন, যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য নওমুসলিমকে, ক্রীতদাস বা গোলাম মুক্তি, ঋণ গ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরকে যাকাতের অর্থ প্রদান করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ