ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পানামা রূপকথার স্বপ্নে বিভোর রোমান তোরেস

আসন্ন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কি? আইসল্যান্ড ও পানামা। এই দু’টি দেশই ইতিহাসে প্রথম বারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। বাছাইপর্বের কঠিন বাধা পেরিয়ে লিখেছে রূপকথার গল্প। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে কোস্টারিকাকে হারিয়ে যেদিন প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটে পানামা, সেদিন থেকেই মধ্য আমেরিকার দেশটিতে চলছে উৎসব। সেদিন থেকেই পানামাবাসী নতুন আরেকটা স্বপ্নের মালা গেথে চলেছেন আপন মনে। রাশিয়া বিশ্বকাপেও পানামা রূপকথার গল্প লেখার স্বপ্ন। বিশ্বকাপের দরজায় দাঁড়িয়ে দেশবাসীর সেই স্বপ্নটা আরও রাঙিয়ে দিলেন পানামাবাসীর আজন্ম স্বপ্নপূরণের নায়ক রোমানা তোরেস। দেশবাসীর আশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্ষিয়ান এই ডিফেন্ডার বললেন, বিশ্ববাসীকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন-প্রত্যয় নিয়েই রাশিয়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন তারা। পানামা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্রথম অংশ নেয় ১৯৭৮ বিশ্বকাপে। সেই থেকেই বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলার স্বপ্নের জাল বুনে আসছিল তারা। কিন্তু দেশের মানুষের প্রাণের সেই চাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারছিলেন না ফুটবলাররা। পারবেন কি করে? ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী দেশটির আয়োতন মাত্র ২৯ হাজার ১১৯ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখ। তার চেয়েও বড় কথা, মধ্য আমেরিকা ফুটবল উর্বর নয়। এমন একটি ভূখ-ের মাত্র ৪০ লাখ জনসংখ্যার দেশের ফুটবলারদের জন্য বিশ্ব মঞ্চে জায়গা করে নেয়াটা সত্যিই কঠিন এক লক্ষ্য ছিল। অবশেষে পানামাবাসীর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নিজেদের উজাড় করে দিয়ে দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন রোমান তোরেসরা। আর দেশবাসীর আজন্ম এই স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় নায়ক নিশ্চিতভঅবেই রোমান তোরেস। ঝাকড়া চুলের ৩২ বছর বয়সী রোমান তোরেস আপাদমস্তক একজন ডিফেন্ডার। প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করাই তার কাজ। কিন্তু পানামার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে গুর”ত্বপূর্ণ গোলটি করেছেন তিনিই! সেটি গত বছরের ১০ অক্টোবর। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে কোস্টারিকার মুখোমুখি হয় পানামা। যে কোস্টারিকা আগেই নিশ্চিত করে ফেলে বিশ্বকাপে খেলা। তো ওই ম্যাচের সমীকরণটা ছিল এমন, প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে হলে পানামাকে জিততেই হবে। ড্র হলেও পানামার স্বপ্ন চুরমার করে বিম্বকাপে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সম্ভাবনার দিকেই এগোচ্ছিল ম্যাচ। ৮৮ মিনিট পর্যন্তও ১-১ গোলে সমতা ছিল ম্যাচে। কোস্টারিকা, মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেই তখন বিশ্বকাপে দেখছিল সবাই। কিন্তু ৮৮ মিনিটে সবার সেই বিশ্বাসকে দুমড়ে-মুষড়ে দিয়ে পানামা রূপকথার গল্প লিখেন ডিফেন্ডার রোমান তোরেস। জটলার মধ্য থেকে গোল করে পানামাকে এনে দেন আজন্ম স্বপ্নপূরণের ২-১ গোলের জয়। অবিশ্বাস্য এই সাফল্যের আনন্দে পরদিনই দেশটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আপামর জনসাধারণ মিলে মেতে উঠেন উৎসবে। পানামায় সেই উৎসব এখনো রঙ হারায়নি। মনের অন্দরে উচ্ছ্বাসের ঢেউ খেলা করে যাচ্ছে এখনো। যে ঢেউয়ের ডগায় ভেসে তারা বুনে চলেছে নতুন উ]সবের স্বপ্ন। জাতীয় বীর বনে যাওয়া রোমান তোরেস দেশবাসীর সেই স্বপ্নে রঙ ছিটালেন, ‘আমরা জানি, আমাদের গ্রুপটি খুবই কঠিন। তবে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। বিশ্বকে চমকে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই রাশিয়ায় যাচ্ছি আমরা।’ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও পানামার শক্তি-সামর্থ সম্পর্কে গ্রুপের অন্য দলগুলো তেমন অবগত নয়। কারণ পানামার ফুটবলের দিকে বিশ্ব গণমাধ্যম সেভাবে দৃষ্টি দেয় না বললেই চলে। এরই মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে ১১০টি ম্যাচ খেলে ফেলা রোমান তোরেস এটাকে সুবিধাই মানছেন। তার মতে, প্রতিপক্ষ যেহেতু তাদের সম্পর্কে তেনম কিছু জানে না, এটা তাদের জন্য বড় সুবিধা, ‘সবচেয়ে গুর”ত্বপূর্ণ হলো, পানামা সম্পর্কে অন্য দলগুলো তেমন কিছু জানে না। এই বিষয়টা আমাদের সাহায্য করবে। তবে আমরা ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনই খেলব। কাজেই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুর”ত্বপূর্ণ হলো মনোযোগ ধরে রাখা এবং নিজেদের খেলাটা খেলা।’ পানামাবাসীর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে পানামার মানুষ খুবই খোশ মেজাজে আছে। দেশবাসীর কাছে এটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছি। আশা করি রাশিয়াতেও ভালো কিছুই করতে পারব।’ আজন্ম স্বপ্নপূরণের নায়কের মুখে প্রতিশ্রুতি শুনে পানামাবাসীর স্বপ্নে বাড়তি রঙ লাগারই তো কথা! উল্লেখ্য, পানামর বিশ্বকাপ মিশন শুরু ১৮ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। সি গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও তিউনিসিয়া। ইন্টারনেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ