ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২১ দিন পর শ্রমিকরা কাজে ফিরল

পার্বতীপুর প্রতিনিধি : পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকেরা টানা ২১ দিন কর্মবিরতি ও অবরোধ পালন শেষে তাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর পরপরই শ্রমিকরা গত শনিবার রাত ১২টায় কাজে যোগদান করে। এতে স্বাভাবিক হয়ে আসে খনির কয়লা উত্তোলন ও বিপণন কার্যক্রম। শনিবার রাত ১১টার দিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। এর আগে রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত খনি কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বড়পুকুরয়িা কয়লা খনির অফিসার্স ক্লাব মনমেলায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানীয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক (সারফেজ অপারেশন) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সার্কেল) মোঃ রফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল হক প্রধান, পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী নির্বাচনী এলাকার সংদস সদস্য ও সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান এর প্রতিনিধি ও পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
এছাড়া শ্রমিক ও এলাকাবাসীর পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক এহসানুল হক সোহাগ ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানসহ ১০ সদস্যের একটি দল।
বৈঠক শেষে খনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপিত রবিউল ইসলাম ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মিজানুর রহমান মিজান জানান, খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিক ও গ্রামবাসীর ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং শনিবার রাত ১২টা থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করেছে।
খনির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ জানান, শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোন সিদ্ধান্ত না হলেও পরবর্তীতে তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আলোচনা সাপেক্ষে পুরন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই শ্রমিকরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের ১৩ দফা ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিকরা গত ১৩ মে সকাল থেকে খনি গেটে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ