ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে এবার থ্রি-পিস

জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর ফুটপাতের কেনাকাটা -সংগ্রাম

মুহাম্মদ নূরে আলম : এ বছর মেয়েদের বিভিন্ন ধরণের টু-পিস, থ্রি-পিস, ফোর-পিস সালোয়ার কামিজসহ বুটিক থ্রি-পিস, পাকিস্তানী লোন, পাকিস্তানী জামদানী, ডালপার্ট, ফোরপার্ট, ইন্ডিয়ান কাতান, জর্জেট ও ঘেরওয়ালা ড্রেস বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আর এর মধ্যে সুতি ও সিনথেটিক টরী কাপড় উল্লেখযোগ্য। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে  তরুণীদের জন্য বাজারে আনা হয়েছে স্টিচের থ্রি-পিস। জুন জুলাইয়ের গরমের বিষয় মাথায় রেখে লিনেন ও সুতি কাপড়ের মিশ্রণে তৈরি এ কাপড়টি এরই মধ্যে বেশ নজর কেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, নতুনত্ব ও সময়োপযোগী হওয়ায় এবার তরুণীদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে এটি। দিন যতই গড়াচ্ছে উজ্জ্বল রঙের এ পোশাকটির চাহিদা ততই বাড়ছে।
রাজধানীর ইষ্টার্ণ মল্লিকা, বসুন্ধরা, ইষ্টার্ণ প্লাজা, ইস্কাটন, মগবাজারসহ বিভিন্ন স্থানের নাম করা বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, এবারের বিক্রেতাদের কালেকশনের মধ্যে স্টিচের থ্রি পিসের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তরুণীরাও এ পোশাক কিনছেন আগ্রহ ভরে। দোকানদাররাও নতুন এ কাপড়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হাতে নিয়েছেন বিভিন্ন আয়োজন। দোকানগুলোর সামনে বড় করে স্টিচের থ্রি পিসের বিভিন্ন ডিজাইন সংবলিত ব্যানার ও অন্যান্য বিজ্ঞাপনেও চোখ এটে যাওয়ার মতো অবস্থা।
দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টিচের এসব পোশাক দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা। তবে দেশের কয়েকটি ব্রান্ডও বাজার ধরতে কাপড়টি তৈরি করছে। দেশি ও বিদেশি দুটিরই চাহিদা প্রায় সমানতালে। তবে দাম একটু বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই অসন্তুষ্ট। ক্রেতারা বলছেন, স্বাভাবিক অবস্থায় তারা যেসব থ্রি পিস কিনে থাকেন নতুন ব্রান্ডের এ পোশাকটির দাম তার চেয়ে অনেক বেশি। পোশাকের রং, আকার, ডিজাইন ও চাহিদা ভেদে এর দাম হাঁকানো হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেয়েদের কাপড়ের মধ্যে বুটিক ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, পাকিস্তানী লোন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, পাকিস্তানী জামদানী ৪০০০ থেকে ৮০০০ টাকা, ডালপার্ট ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, ফোর পার্ট ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, ইন্ডিয়ান কাতান ও জর্জেট ৩০০০ থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এ সকল পোষাকগুলোর মধ্যে মাঝামাঝি দামের পোষাকগুলোর বিক্রি বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
কানিজ ফাতেমা নামের এক ক্রেতা জানান, গরমের কথা ভেবেই সূতির কাপড়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। সাধারণত আমি থ্রি-পিস পরি। তাই ঈদে থ্রি-পিস কিনব। তবে যাই কিনি না কেন আরামের বিষয়টা মাথায় রেখেই কিনব।
অমিত ক্লথ স্টোরের রেকাবুল ইসলাম বাবু জানান, বুটিক কাপড়গুলো এখন বিক্রি কম হচ্ছে। ডালপার্ট ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা, ফোর পার্ট ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা, ঘেরওয়ালা ও সূতি কাপড় ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা দামের মধ্যেই বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর বয়স্ক মহিলারা বেশিরভাগই সুতি কাপড় বেঁছে নিচ্ছেন।
ক্রেতারা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে তারা থ্রি পিস কিনে থাকেন দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। সে তুলনায় এ বাড়তি দাম তাদের কাছে একটু বেশি বলে জানাচ্ছিলেন, ইষ্টার্ণ প্লাজায় থ্রি পিস কিনতে আসা ডেজি রেহমান। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, 'কাপড়টি বেশ সুন্দর। উজ্জ্বল রঙে সহজেই চোখ এঁটে যায়। হাত দিয়ে দেখেছি বেশ নরম এবং ঠান্ডা। এখন গরমের সময় হওয়ায় কাপড়টি ভালোই লেগেছে। কিন্তু দামটা বেশ খানিকটা বেশি। আরেকটু কম হলে একসঙ্গে কয়েকটি কিনে নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু এত দামের কারণে কেনা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি। তারপরও আশাবাদী একটি ভালো কাপড় কিনতে পারব।'
আরেক বয়স্ক নারী ইসমত জাহান তার এবার এসএসসি পাস করা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ বাজার করতে এসেছেন। তিনি বলেন, 'আমার পছন্দ সুতি কাপড়ের থ্রি পিস। বাড়ি থেকে তেমনটিই কথা ছিল মেয়ের সঙ্গেও। কিন্তু মার্কেটে আসার পর স্টিচের থ্রি পিস দেখে মেয়ের মত বদলে গেছে। সে এখন চাইছে নতুন বাজারে আসা এ থ্রি পিসের একটি কিনতে। প্রথম কয়েকটি দোকান দেখার পর আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু কাপড় দেখে আমারও ভালো লেগেছে। তাই ভাবছি মেয়ের জন্য এবার স্টিচের একটি থ্রি পিসই কিনব।' বিক্রেতারা জানায়, কাপড়টি নতুন আসায় অনেকেই কেনার আগে দ্বিধায় ভুগছেন। কিন্তু কয়েকটি দোকান দেখার পর সবাই শেষ পর্যন্ত এটাকেই পছন্দ করছেন। এর কারণ হিসেবে বিক্রেতা-ক্রেতা সকলেই নতুনত্ব ও সময়োপযোগিতাকেই কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে দাম নিয়ে অস্বস্থিাতার জন্য অনেক ক্রেতা পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন ডিজাইনের দাম একটু বেশিই থাকে। ফলে যারা ডিজাইন দেখে কাপড় কেনেন তারা ঠিকই কিনছেন।
ইষ্টার্ন মল্লিকার একজন দোকান মালিক আবু হায়দার খাঁন এ প্রতিবেদককে বলেন, 'দাম একটু বেশি এটা যেমন ঠিক, তেমনই এবারের বাজারে তরুণীদের জন্য এর চেয়ে ভালো মানের কাপড় খুব কমই আছে- এটাও কিন্তু ঠিক। তাই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। ভালো জিনিসের দাম একটু বেশি থাকবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যারা ভালো মানের কাপড় চান তারা ঠিকই কিনবেন।'
অন্যান্যবার নন স্টিচের কাপড়ের চাহিদা সবার শীর্ষে থাকলেও এবার এর ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই জানান, পোশাকটি গরম আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটাই একে বিক্রির শীর্ষে নিয়ে এসেছে। এছাড়া উজ্জ্বল রংও ক্রেতারা পছন্দ করছেন।
এবার বাজারে আসা প্রধান স্টিচের পোশাকের মধ্যে রয়েছে, বার্বি গ্রাউন, টুইস্টার লেহেঙ্গা, ফোর পিস স্টিচ ও থ্রি-পিসের স্টিচসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড। এসবের মধ্যে থ্রি-পিসের পরেই লেহেঙ্গা ও গ্রাউনের কদর বেশি। আর এ কারণে দোকানের কালেকশনের মধ্যেও এগুলোর সংখ্যা বেশি।
দোকানদাররা জানান, আগামী সপ্তাহে নতুন মাস শুরু হলেই বিক্রিতে নতুন করে ধুম পড়বে। আর এখন যা বিক্রি হচ্ছে তাতেও সামগ্রিকভাবে সন্তুষ্ট দোকানদাররা। বিভিন্ন বয়সের ক্রেতাদের ভীড়। এদের মধ্যে কম বয়সী তরুণীর সংখ্যাই বেশী। এবার ঈদে নানা রকম বাহারী পোষাক পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। তবে গরমের কথা মাথায় রেখে সূতির পোষাককেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান এ বছর মেয়েদের বিভিন্ন ধরণের টু-পিস, থ্রি-পিস, ফোর-পিস সালোয়ার কামিজসহ বুটিক থ্রি-পিস, পাকিস্তানী লোন, পাকিস্তানী জামদানী, ডালপার্ট, ফোরপার্ট, ইন্ডিয়ান কাতান, জর্জেট ও ঘেরওয়ালা ড্রেস বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আর ছেলেদের শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি রয়েছে পাঞ্জাবীর কাপড়। এর মধ্যে সুতি ও সিনথেটিক টরী কাপড় উল্লেখযোগ্য।
ক্রেতাদের অভিযোগ অন্য সময়ের চেয়ে কাপড়ের দাম একটু বেশিই। কাপড় কিনতে আশা রেশমা খাতুন বলেন, ঈদের কেনাকাটা একটু একটু করে শুরু করেছি। তবে আগের চেয়ে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেশি।
ঈদের কেনাকাটায় পোষাকের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের ও কাপড়ের বেডশীট। হোম টেক্সটাইল, জনি টেক্সটাইল, পাকিজা টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বেডশীট ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ