ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : আহত ১০

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর বয়রা হাজী ফয়েজ উদ্দিন স্কুল প্রাঙ্গণে ইফতার মাহফিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে উভয়পক্ষের ৬ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার বাহাউদ্দিন এক রাউন্ড ফাঁকা গুলী করে। এতে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত মুসল্লীদের মাঝে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে স্কুল প্রাঙ্গণ ফাঁকা হয়ে যায়। ফলে ইফতার মাহফিল পন্ড হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মুজিবুল হক বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫ জনের নামে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এতে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মুজিবুল হক, সহ-সভাপতি শেখ মো. আরিফুল্øাহ, বয়রা মার্কেট রোড এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব আলীর ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য সচিব ফরহাদ উদ্দিন শহিদুল্লাহ পলাশ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল আলম রিয়াদ, বয়রা মার্কেট রোড এলাকার বাসিন্দা আনছার হাওলাদার এর ছেলে যুবলীগ কর্মী হারুণ অর রশীদ বাবু ও আ্ওয়ামী লীগ কর্মী মুকুল খানসহ ১০ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বয়রা হাজী ফয়েজ উদ্দিন স্কুল প্রাঙ্গণে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইফতার মাহফিলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় গুলীর শব্দ শোনা যায়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হাজী ফয়েজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাত শতাধিক মুসল্লীর জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ উল্লাহ’র ভাইপো পলাশসহ চার থেকে পাঁচজন মিলে সিনিয়র সহ সভাপতি মুজিবর রহমানকে মারধর করে। এ নিয়ে সভাপতি আবিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন খন্দকারের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কেননা মুজিবর বাহাউদ্দিন গ্রুপের অনুসারী। সংঘর্ষ চলাকালে বাহাউদ্দিনকে আবিদ উল্লাহ গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ঘিরে ফেলে। এ সময় বাহাউদ্দিন তার লাইসেন্স করা শটগান দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছোড়েন। এছাড়া সংঘর্ষের কারণে ইফতার পন্ড হয়ে যায়। ইফতার মাহফিলে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী এনায়েত আলী, যুগ্ম সম্পাদক এমডি বাবুল রানা ও সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাসসহ নেতৃবৃন্দের সামনেই এসব ঘটনা ঘটে। পরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার বাহাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনে আবিদ উল্লাহর পরাজয়ের জন্য আমিসহ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে দায়ী করেন তিনি। এরপর থেকেই আমাদের উপর মারমুখী আচরণ করতে থাকে। ইফতার মাহফিলের মতো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। জীবন বাঁচারে আমার লাইসেন্স করা পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলী করি।
তবে, ওয়ার্ড আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ উল্লাহ’র ০১৯১১-৯৫২৩৭২ নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হলো না।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী এনায়েত আলী বলেন, কেসিসি নির্বাচনে ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ আবিদ উল্লাহর পরাজয়ের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবেই ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ইফতারের আগে ৬টার দিকে নবনির্বাচিত মেয়র ও মহানগর আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে যাওয়ার পরেই আবিদ উল্লাহর ভাইপো পলাশের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সোনাডাঙ্গা থানা আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস বলেন, ওয়ার্ড সভাপতি আবিদ উল্লাহ’র ভাইপো পলাশ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিবুল হককে কিল ঘুষি মারার পরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইফতার মাহফিলের মতো অনুষ্ঠানে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ