ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় বিতরণ সীটে স্বাক্ষর করিয়ে নিলেও ভাতা বঞ্চিত ন্যাশনাল সার্ভিসের ১২৭৬ কর্মী

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : মাসব্যাপি কাজের পরেও সাত মাস যাবত ভাতা পাচ্ছেন না আগৈলঝাড়ার ন্যাশনাল সার্ভিসে কর্মরত ১২শ ৭৬জন কর্মী। যুব উন্নয়ন অফিস প্রতারণার মাধ্যমে এসকল কর্মীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিয়ে বেতন সীটে কর্মীদের স্বাক্ষর করিয়ে নিলেও কর্মীরা হাতে পাচ্ছেন না কোনো টাকা। দীর্ঘদিন ভাতা না পেয়ে চরম অর্থ কষ্টে দরিদ্র পিতা-মাতা ও স্বজনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা ওই কর্মীরা আসন্ন ঈদেও বেতন বঞ্চিতের আশংকায় রয়েছেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় আগৈলঝাড়ায় শিক্ষিত বেকার ১২শ ৭৬জন নারী পুরুষ কর্মী সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ  করে আসছে।
কর্মীরা জানান, সর্বশেষ তারা ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ভাতা হাতে পেয়েছেন। গত বছর নবেম্বর মাস থেকে চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত সাত মাসেও তারা কোনো ভাতা পাননি। নির্ধারিত ৬ হাজার টাকার মাসিক চুক্তিতে নগদ ৪ হাজার টাকা করে ১২শ ৭৬কর্মীর সাত মাসে ভাতা বাবদ কর্মীদের ৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।
ন্যাশনাল সার্ভিসের ভুক্তভোগী কর্মী উজ্জল হোসেন, বরুণ বাড়ৈ, নিখিল বৈরাগী, রুবিনা আজাদসহ একাধিক কর্মীরা জানান, সরকারের দপ্তরে কাজ করেও সাত মাস যাবত বেতন না পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা আরও বলেন, গত বছর ঈদের আগেও তারা তাদের ভাতা না পেয়ে সন্তান ও স্বজনদের নিয়ে মানবেতর ঈদ উদযাপন করেছেন। যুব উন্নয়ন অফিসের ভাষ্য মতে, এবছর ঈদের আগেও তাদের ভাতা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
কর্মীরা অভিযোগে বলেন, গত সাত মাস যাবত কর্মীদের ভাতা না দিলেও যুব উন্নয়ন অফিস তাদের কাছ থেকে আগে ভাগেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে রেভিনিউসহ ভাতা প্রদান করা সীটে কর্মীদের স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। কর্মীদের ভাতা প্রদান না করে তাদের দিয়ে ভাতা বিতরণ সীটে স্বাক্ষর করাতে প্রতি কর্মীর কাছে থেকে ৩০ টাকা করে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন সাত মাসে অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯শ ৬০টাকা। কর্মকর্তাদের নিয়মবহির্ভূত কাজের ফলে কর্মীরা কাগজে কলমে ভাতা পেলেও বাস্তবে হাতে পায়নি এক টাকাও।
নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, মাসব্যাপি কাজ করেও মাস শেষে টাকা না পেয়ে বাড়ি গেলে স্বামী ও শশুর পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন গালমন্দ ও বাজে কথা শুনতে হচ্ছে তাদের। কাজ করে টাকা পাওয়া যায়না, এমন কাজের কথা আগে জানলে তারা এই কর্মসূচীর আওতায় কাজেই আসতেন না।
এ ব্যাপারে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনকে একাধিক দিন একাধিকবার ফোন দিলেও (০১৭১৬৮৫৫২৫৮) তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল বলেন, এতদিন বরাদ্দ না থাকায় কর্মীদের ভাতা দেয়া যায়নি। চলতি সপ্তাহেই কর্মীদের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চার মাসের ভাতা প্রদান করা সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, টাকা না পেয়ে বেতন সীটে স্বাক্ষর আদায় করা অবৈধ, কর্মীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মে মাসে কর্মীদের চাকরি শেষ হয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্তর বেশীরভাগই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে তাদের কাজের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে না পারায় অনেক কর্মী ভাতা নিতে পারছে না, তাদের ভাতা ব্যাংকে জমা থাকবে। কাজের প্রত্যয়নপত্র জমা দিলে সবাইকেই চার মাসের ভাতা প্রদান করা হবে। বাকী টাকা বরাদ্দ পেলে কর্মীদের প্রদান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ